ঢাকা, মঙ্গলবার 31 July 2018, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপি’র এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ

রাজশাহী : গতকাল রাসিক নির্বাচনে ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে ‘অনিয়মের’ প্রতিবাদ জানাতে মাঠে অবস্থান নেন বিএনপি প্রার্থী বুলবুল। এসময় একজন নির্বাচন কর্মকর্তা তাকে পরিস্থিতি অবহিত করেন -সংগ্রাম

রাজশাহী অফিস : বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গ্রহণকালে বিএনপি’র এজেন্টদের তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে নগরীর একটি কেন্দ্রে ১১টার মধ্যেই মেয়রের ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে। তবে কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ খণ্ডন করেন।
এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ : রাসিক নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। নগরীর ১৮,১৯, ২১ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। তবে আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি এজেন্টরা স্বেচ্ছায় কেন্দ্র থেকে বের হয়ে গেছে। আবার কেউ  কেউ মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলে জানান আওয়ামী লীগের এজেন্টরা। নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের  ইউসেপ জেনারেল স্কুলে ৯টার সময় কেন্দ্র থেকে ইমন শেখ নামের বিএনপির পোলিং এজেন্ট বের হয়ে আসেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে থাকতে না দিলে আমি কী করবো। তারা আমাকে বারবার হুমকি দিচ্ছে ও বিরক্ত করছে।’ এছাড়া ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শিষের ১৫ জন পোলিং এজেন্টের কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিল সিমলা এলাকায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স কেন্দ্রে (পুরুষ) মেয়র পদে নৌকা প্রতীক ও কাউন্সিলর পদে একজন প্রার্থী ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠে। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডেও বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠে। ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিতে গেলে তাদেরকে বলা হয় ভোট দেয়া শেষ।
ভোট দেননি বুলবুল ও তপু : রাসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নিজেই ভোট দেননি। ভোট দেননি তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপুও। তবে ভোট দিয়েছেন সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। বুলবুলের ভোট না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে বলেন, ‘এই বিপন্ন গণতন্ত্রে আমার পোলিং এজেন্টরা ভোট দিতে পারেনি, সেখানে আমার ভোট দিয়ে লাভ কী?’ তোফাজ্জল হোসেন তপু অভিযাগ করেন, ১৩৮টির মধ্যে ১২০টি কেন্দ্রেই ভোট কারচুপি হয়েছে। এর প্রতিবাদে তিনি ও বুলবুল ভোট দেননি। রাজশাহীর দুই আলোচিত মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আর বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দুইজনই রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুল কেন্দ্রের ভোটার। সকাল আটটায় ভোট শুরুর পর পর কেন্দ্রে আসেন লিটন এবং ভোট দেন।
ব্যালট পেপার শেষ হওয়ার প্রতিবাদ : বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর বিনোদপুর এলাকায় ইসলামীয়া কলেজ কেন্দ্রে  বেলা ১১টার মধ্যে মেয়রের ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে। এই সংবাদ পেয়ে বিএনপি’র প্রার্থী বুলবুল সেখানে ছুটে যান এবং ঘটনার প্রতিবাদে মাঠে অবস্থান নেন। তবে বুলবুলের অভিযোগ খণ্ডন করে এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল্লাহেল শাফি জানান, এটা ভুল বুঝাবুঝি। তারা বিএনপি নেতাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। বেলা আড়াইটার দিকে বুলবুল বললেন, বিকাল চারটা অবধি তিনি এখানেই থাকবেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তার ভোট দেয়া হবে না। জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ভোট দেয়ার ইচ্ছাও নাই। জানতে চাইলে বুলবুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, ‘প্রহসন চলছে। এই ভোটের দাম নাই। ভোট দিয়ে করব কী? সব জায়গায় ব্যালট পেপার ছিনতাই।’
তিনজনকে ছুরিকাঘাত : রাসিক নির্বাচনে দু’টি কেন্দ্রে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন ছুরিকাহত হয় বলে জানা যায়। সকাল ১১ টার দিকে নগরীর সরকারি সিটি কলেজের সামনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে একজন বিএনপিপন্থী কাউন্সিলরকে সমর্থন করা নিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে যুবলীগের কর্মী রকি ও রাকিব আহত হন। তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়। অপরদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভি বুধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সজল নামে এক যুবক ছুরিতে আহত হয়। ঘটনার কারণ জানা যায়নি।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ভোট গ্রহণ : গতকাল দুপুরের পর থেকে রাজশাহী নগরীর পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী এই বৃষ্টির ফলে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। এসময় অনেকেই ভোট দিতে যেতে আর উৎসাহ পাননি। গতকাল রাজশাহী নগরীর ১৩৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়।
যানবাহন সংকট চরমে : রাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী নগরীতে কার্যত কারফিউ-এর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে গতকাল প্রায় পুরো নগরী যানবাহন শূন্য হয়ে পড়ে। ভোটকেন্দ্রে ভোটার নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত কিছু রিক্সা-অটোরিক্সা ছাড়া নগরীতে অন্য কোন গাড়ি-ঘোড়া চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সাধারণ যাত্রী ও বাজারঘাট করতে যাওয়া মানুষদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেকেই যানবাহনের অভাবে ট্রেন ফেল করেন। রাজধানী ও অন্যান্য জেলা থেকে আসা যাত্রীরা এই অবস্থায় বিপাকে পড়েন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ