ঢাকা, মঙ্গলবার 31 July 2018, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহীতে মেয়র পদে পুনঃনির্বাচনের দাবি বিএনপি’র

রাজশাহী অফিস : গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদের নির্বাচনকে অবৈধ, নিয়ম বহির্ভূত, ভোট ডাকাতি এবং কারচুপি এবং প্রকাশ্যভাবে ডাকাতির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বলে অভিযোগ করে এই নির্বাচন বাতিল এবং পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি করেছেন বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যেয় মহানগর বিএনপি অফিসে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই দাবী করেন।
এতে তিনি অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রকাশ্যে অনিয়ম, বে-আইনি কার্যকলাপ এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন যেগুলো লিখিতভাবে নির্বাচন কমশিনকে বারবার জানানো হয়েছে এবং মৌখিকভাবে ও মিডিয়াতে জানানো হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি অভিযোগ জানানো হয়েছে, কিন্তু কোন পদক্ষেপ না নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন নির্বাচন কমিশন অফিস। সরকার দলীয় প্রার্থীর পছন্দমত বেছে বেছে কট্টর আওয়ামীপন্থী প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং বার বার আবেদন করা সত্ত্বেও আমাদেরকে তার লিখিত তালিকা দেয়া হয়নি। অভিযোগে বলা হয়, গতকাল ভোটের দিন প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ প্রশাসন, সরকার দলীয় কর্মী সমর্থক যৌথভাবে বেআইনিরূপে ৩৭টি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট গ্রহণ করেননি এবং প্রবেশ করতে দেয়নি। সকাল ১০ হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ কর্মকর্তারা এবং আওয়ামী লীগ যৌথভাবে মোট ৭৭টি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বলপূর্বক বের করে দেয়। প্রিজাইডিং অফিসারগণ, এজেন্টদের ব্যালট বাক্স হিসাব, ব্যালট পেপারের হিসাব দেয়নি এবং তাহাদের নিকট রক্ষিত ফর্মে আমাদের এজেন্টদের স্বাক্ষর নেয়নি। যা নির্বাচনী বিধানের পরিপন্থি। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশেনের ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিএনপি অধ্যুষিত ২০টি ওয়ার্ডে প্রত্যেক কেন্দ্রে ভোটারদের মেরে, ভোট দেয়ার অধিকার না দিয়ে কোথাও কোথাও ৩টা-সাড়ে ৩টার মধ্যে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয় এবং ভোটারদের তাড়িয়ে দেয়। যা সম্পূর্ণ বেআইনি, নির্বাচন বিধিমালা এবং সংবিধানিক অধিকারের লংঘন। প্রায় ১০-১১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণকালে দেখা যায়  আনুমানিক  সকাল ১০টা নাগাদ ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সেগুলি দিয়ে জাল ভোট দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে ভোটারগণ মেয়রপদে ব্যালট ছাড়াই শুধুমাত্র কাউন্সিলর পদে ব্যালটে ভোট নেয়া হয়।  সকাল ১১টায় প্রায় ৩৫টি, ১২টায় মোট ৪৮টি এবং দুপুর ১টার মধ্যে ১৩৮টি কেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বলপূর্বক তাড়িয়ে দিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ বিভাগ এবং আওয়ামী লীগ যৌথভাবে ৮২টি কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে দখল করে নেয় এবং সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নজিরবিহীন জালিয়াতি করে। বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের প্রায় ৫০জন কর্মীকে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে লাঞ্ছনা ও মারধরের শিকার হতে হয়। যাদের মধ্যে ২জন সহ আরো ৬-৭ জনের অবস্থা গুরুতর। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পূর্বে আংশিক ভর্তি ব্যালট বাক্স প্রিজাইডিং অফিসার বুথ হতে পুলিশের সহযোগিতায় পোলিং এজেন্টদের বাধা উপেক্ষা করে জাল ভোট প্রদান করে, গোপনে সেগুলো বন্ধ করে দুরে রাখা হয়। বিএনপি নেতৃবৃন্দ আরো অভিযোগ করেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকেল ৪টায় প্রিজাইডিং অফিসার এবং পুলিশ আমাদের সকল এজেন্টদেরকে বের করে দিয়ে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স নিজ হেফাজতে নেয় এবং ব্যপকভাবে জাল ভোট প্রদান করে।
সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কারণসমুহ এবং নির্বাচনী আইন, বিধি ভঙ্গ করার কারণে এই নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে অবৈধ এবং অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে এই নির্বাচন বাতিল এবং পুনরায় আইনসঙ্গতভাবে নির্বাচন দেয়ার দাবী জানানো হয়। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল হক মিলনসহ নেতৃবৃন্দ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ