ঢাকা, মঙ্গলবার 31 July 2018, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যশোরে চিরকুট লিখে ছাত্রীর আত্মহত্যা

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : পড়ার টেবিলে চিরকুট লিখে রেখে যশোরের মণিরামপুরে মহিমা আক্তার সেতু (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার স্মরণপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ওড়না গলায় জড়িয়ে আত্মহত্যা করে সেতু। সেতু ওই গ্রামের নিস্তার আলীর মেয়ে। সে ঝিকরগাছা হাজের আলী মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। খবর পেয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খেদাপাড়া ক্যাম্প পুলিশ সেতুর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। সেতু যাকে উদ্দেশ করে চিরকুটটি লিখেছিল তিনি তার স্বামী মুস্তাফিজুর রহমান অপু। ২০১৬ সালের ১৬ জুন দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পরিবারের অমতে মুস্তাফিজুরকে বিয়ে করে সে। মুস্তাফিজুর একই গ্রামের ফল ব্যবসায়ী আব্দুল মমিনের ছেলে। প্রথম স্ত্রী রেখে মুস্তাফিজুর ৫-৭ দিন আগে ঝিকরগাছার বোদখানা এলাকার একটি মেয়েকে বিয়ে করায় অভিমানে সেতু আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চিরকুটে সেতু লিখেছে, ‘ভালো থাক ভালোবাসার অপু। সবার কাছে প্রেম ভালবাসা অভিনয় বা খেলা নয়। কেউ কেউ ভাবে প্রেম ভালবাসা বিয়ে পবিত্র একটা জিনিস। আরে তুমিতো কুরআন মসজিদকে অবিশ্বাস করলে তো আমাকে কি বিশ্বাস করবে। সুখি হও। তোমার কাছে অনুরোধ আমাকে দেখতে এসো কিন্তু চোখ ঢেকে এসো। ভাল থেক। ইতি, সেতু।’
সেতুর বড়ভাই সাগর বলেন, ‘বিয়ের পর মুস্তাফিজুর মালয়েশিয়ায় যায়। আর সেতু আমাদের এখানে থাকতো। স্বামীর বাড়ি যায়নি কখনো। বিদেশ থেকে ফেরার পর মুস্তাফিজুর নিজের বাড়িতে ওঠে। মাঝেমধ্যে আমাদের এখানে আসতো। এরমধ্যে বোদখানা এলাকার একটি মেয়ের সাথে প্রেম করে মুস্তাফিজুর। হঠাৎ ৫-৭ দিন আগে ওই মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তোলে সে। এতে অভিমান করে আমার বোন আত্মহত্যা করেছে।’ সাগর তার বোনের জীবন নষ্ট করার জন্য মুস্তাফিজুরের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে, এই বিষয়ে অভিযুক্ত মুস্তাফিজুরের বক্তব্য জানা যায়নি। খেদাপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আইনুদ্দিন বলেন, ‘সেতুর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিরকুটটি আমাদের হেফাজতে আছে। মুস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচণার দায়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ