ঢাকা, মঙ্গলবার 31 July 2018, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অতিবর্ষণে তলিয়ে গেছে বীজতলা ও মৎস্য ঘের

খুলনা অফিস: কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদী বেষ্টিত কয়রা উপজেলার ১১৮ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ওপর অবস্থিত ২০টি পানি নিষ্কাশনের স্লুইসগেট। এর মধ্যে ৭টি স্লুইসগেট সম্পূর্ণ অকেজো এবং ৩টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। স্লুইসগেটগুলো সংস্কারের অভাবে একটানা কয়েকদিন বর্ষা হলেই এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এই এলাকার অধিকাংশ পরিবার কৃষি ও মৎস্য চাষের ওপর নির্ভরশীল। তাই পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকার ফলে কৃষি ও মৎস্য চাষ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এ সকল স্লুইসগেটগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ। গত ২ দিনের প্রবল বর্ষণে ইতোমধ্যে চলতি আমন মওসুমের বীজতলা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পাউবোর ১৩-১৪/২ পোল্ডারে অবস্থিত ১৬টি স্লুইসগেটের মধ্যে গড়িয়বাড়ি, স্লুইসগেট, নয়ানি গেট, ৫নং কয়রা গেট ও কাঠমারচর স্লুইসগেট এবং ১৩-১৪/১ পোল্ডারের পদ্মপুকুর গেট, বিনাপানি গেট ও ছোট আংটিহারা স্লুইসগেটগুলো সম্পূর্ণ অকেজো রয়েছে। চলিত বর্ষা মওসুমের এ সকল স্লুইসগেট পুনঃনির্মাণের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানা যায়। ফলে এ সকল এলাকা অতিবর্ষণে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে চাষাবাদকৃত জমি। উপজেলার ২০টি পানি নিষ্কাশন স্লুইসগেটের মধ্যে ৭টি গেট নষ্ট থাকায় মৎস্য চাষসহ কৃষি ফসল উৎপাদন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইলার তিন বছর পর গুরুত্বপূর্ণ পাউবোর বাঁধগুলো মেরামত হলেও এখনও পর্যন্ত কয়রাবাসী পুরোপুরি ফসল উৎপাদনের স্বপ্ন দেখতে পারেনি। গত দুই বছরে আমন মওসুমে অনেক কৃষক আমন চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে। এছাড়া দুই বছর বোরো মওসুমে চাষ করেও ভাল ধান পেয়েছে কৃষকরা। এর পর এখন এলাকার শতভাগ কৃষক আমন চাষে অতি উৎসাহী। কিন্তু স্লুইসগেট ও পাউবোর বেড়িবাঁধের নাজুক অবস্থার কথা ভেবে কৃষকরা হতাশা প্রকাশ করছেন।
উত্তর বেদকাশি ইউপি সদস্য মো. রেজাউল করিম (কারিম) বলেন, সম্প্রতি গড়িয়াবাড়ি স্লুইসগেটের অবস্থা খুবই নাজুক। গেটের পশ্চিম পাশের গোড়ায় ফাটল দেখা দিয়েছে যার জন্য গেটের অবস্থা ভয়বহ রূপ ধারণ করেছে। এ ছাড়া ৫নং কয়রা স্লুইসগেটটি একেবারে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিকল্পভাবে পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলেও অতিবর্ষণে এলাকা প্লাবিত হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ওড়াতলা গেটটি ভয়াবহ ভাঙনের মুখে নিমজ্জিত থাকলেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনসাধারণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ