ঢাকা, মঙ্গলবার 31 July 2018, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিখোঁজ বোনের খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে দু’বোন, ভিটে বাড়ি হারানোর শংকা

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা: ২০১৪ সালের ১২ জুলাই। ঈদ-উল-ফিতরের পরদিন নাটোরের উত্তরা গণভবন দেখতে প্রতিবেশী আব্দুল খলিল ও রাজার সাথে সিংড়া থেকে নাটোর আসেন রিনা খাতুন ও তার ৮ বছরের ছেলে হৃদয়। দিনশেষে তারা আর বাড়ি ফিরে যায়নি।  প্রতিবেশীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, ছেলে হৃদয়কে সাথে নিয়ে রিনা গেছে পাবনায় তার বোনের বাড়ি। রিনার পরিবার প্রতিবেশীর কথায় বিশ্বাস করে আর খোঁজ নেয়নি তাদের। এদিকে দুদিন পেড়িয়ে গেলেও  রিনা ও হৃদয় যোগাযোগ না করায় সন্দেহ হয় তার বোন রহিমা বিবির। এবার ওই প্রতিবেশীর কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, তার মেয়ে ও নাতিকে অনৈতিক কাজের জন্য বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। সেই থেকে সন্তানসহ নিখোঁজ বোন রিনার সন্ধানে আদালত পাড়া সহ দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরছে দু’বোন রুবিয়া ও রহিমা। তাদের সন্ধানে ব্যস্ত থাকার সুযোগ নিয়ে জাল দলিল করে তাদের এক চিলতে জমিও হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে প্রতিবেশী খলিল ও তার পরিবার। এভাবেই সাংবাদিকদের কাছে ৪ বছর আগে ছোট বোন ও ভাগ্নের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বলছিলেন রিনার বড়বোন রুবিয়া খাতুন। ঘটনার পর নিখোঁজ দুইজনের সন্ধান চাইলে এক পর্যায়ে ওই প্রতিবেশী তাদের খুঁজে এনে দেয়ার অঙ্গীকার করে। তবে দিন যতই যেতে থাকে ততই টালবাহানা করতে থাকে প্রতিবেশী। এদিকে নিখোঁজ পরিবারটির পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হলে এক পর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা করে প্রতিবেশী আব্দুল খলিল ও তার পরিবার।
এ ঘটনায় সিংড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আব্দুল খলিল, তার দুই ছেলে রাজা ও বাদশা এবং স্ত্রী জয়তনের বিরুদ্ধে মামলা করে নিখোঁজ রিনার বোন রহিমা বিবি। মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা রিনা ও হৃদয়কে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করাচ্ছে বা দেশের বাইরে পাচার করেছে বা হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলেছে। এই মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ চার বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়েও পুলিশ নিখোঁজদের সন্ধান করতে পারেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ