ঢাকা, মঙ্গলবার 31 July 2018, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আত্রাইয়ে লাইসেন্সবিহীন চলছে থ্রি ষ্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার

আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা: অনগ্রসর ও দুর্গম এলাকায় চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোন লাইসেন্স ছাড়াই উপজেলার ভবানীপুর বাজারে গড়ে উঠেছে থ্রি-ষ্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সরেজমিনে জানা গেছে, রোগ নির্ণয়ে অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার রয়েছে এবং অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কথা চাউর করে প্রচার ও সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা দিয়ে গড়ে ওঠা এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই কোন নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন প্যাথলজিস্ট। আণবিক শক্তি কমিশনের পরীক্ষা ছাড়াই পুরনো এক্স-রে মেশিন দিয়ে অদক্ষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে রোগের পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ভুল ফিটনেস কার্ড। এ ছাড়াও ব্যবসার উদ্দেশ্যে নির্মিত অবৈধ থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতারক এটিএম মামুনুর রশিদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। ফলে প্রায় প্রতিদিনই অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে হাজারো রোগী। নিয়মনীতি ছাড়াই অনুমোদনহীন এই প্রতিষ্ঠানে নিজেই অভিজ্ঞ এবং দক্ষ দাবি করে জটিল রোগের পরীক্ষাসেবার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এদিকে স্বাস্থ্যসেবা মহাপরিদফতর মতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সবসময় অন্তত একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বা চিকিৎসা-প্রযুক্তিবিদ থাকার কথা থাকলেও থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নিজেই চিকিৎসক সেজে রোগীর চিকিৎসা করেন। আবার একই ব্যক্তি রক্ত সংগ্রহ করে সে নিজেই আবার সেগুলোর পরীক্ষা করছে। তিনিই আবার সেই পরীক্ষার রিপোর্টসহ হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে অসংখ্য ঔষধের প্রেসক্রিপশন। এমতাবস্থায় হ-য-ব-র-ল সিস্টেমের মাঝে চলছে থ্রি ষ্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এই থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতারক এটিএম মামুনুর রশিদ সোহাগ দীর্ঘ দিন নওগাঁর কোন এক ক্লিনিকে কম্পাউন্ডার হিসাবে কাজ করতেন। ওই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রায় এক বছর যাবৎ নিজেকে বড় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তার সাজিয়ে থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে রোগীদের অপচিকিৎসা দিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, প্রতারক মামুনুর রশিদ সোহাগের অপচিকিৎসায় দুরারোগ্যব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার একাধিক ঘটনাও আছে। এ ব্যাপারে থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক এটিএম মামুনুর রশিদ সোহাগের চিকিৎসা প্রদানের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিজেই তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি বলে দাবি করেন। তিনি একজন চিকিৎসক হিসাবে দাবি করলেও পল্লী চিকিৎসকের সনদ ব্যাতীত তার কোন সনদপত্র দেখাতে পারেনি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সানাউল ইসলাম জানান, আত্রাইয়ে আমি সবেমাত্র কয়েক দিন হলো যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই তবে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ