ঢাকা, মঙ্গলবার 31 July 2018, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বামীর নির্যাতনে বিচার চেয়ে মুক্তা বেগম প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে

মো: আফজাল হোসেন ফুলবাড়ী (দিনাজপুর): স্বামী নির্যাতনে বিচারের আশায় মুক্তা বেগম প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। আদালতে মামলা করেও বিচার পাবে কি না তা নিয়ে হতাশায় ভুগছে। বিরামপুর উপজেলার ইসলাম পাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা  মো: শেখ ফরিদ এর কন্যা মোছা: মুক্তা বেগম (৩০) এর আদালতে দায়ের করা মামলার সূত্রে জানাযায়  রংপুর জেলা সদরের কামারপাড়া গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিন এর পুত্র মো: কাইয়ুম হোসেন (৫২) এর সাথে গত ২৫/০২/২০১৮ সালে সরিয়ত মোতাবেক মুক্ত বেগমের বিবাহ হয়।
বিবাহের পর তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু তার স্বামী মো: কাইয়ুম হোসেন ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে তার গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করে ফেলেন। এর পর যৌতুকের দাবিতে তাকে প্রায় সময় মারপিট করে। গত ১৩/০৩/২০১৮ ইং তারিখে মুক্তা বেগম কে মারপিট করলে মারাত্মক ভাবে আহত হয়। আহত অবস্থায় মুক্তা বেগম পার্বতীপুর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। যার ওয়ার্ড নং- ডি-ম-৩ বেড নং- ৩, রেজিট্রেশন নং- ১০৩৯। ১৪/০৩/২০১৮ ইং তারিখে হাসপাতাল থেকে ছাড় পত্র নিয়ে গত ০৯/০৪/২০১৮ ইং তারিখে দিনাজপুর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে ২০০০ সালের শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ২০০৩ এর ১১(ক) তৎসহ দঃ বিঃ ৩১৩ ধারায় ৪ জন কে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত হইতে দরখাস্ত খানা এজাহার হিসাবে গ্রহন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পার্বতীপুর মডেল থানায় পাঠিয়ে দেন। পার্বতীপুর থানার মামলা নং- ১১ তারিখ ০৭/০৫/২০১৮, জি আর ২০২/১৮, ধারা- ২০০০ সালের নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধিত ২০০৩ এর ১১(ক) দঃ বিঃ ৩১৩ ধারায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলা রেকর্ড করার পর উপস্থিত সাক্ষীদের জবানবন্দী গ্রহন করেন। কিন্তু আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় থানা পুলিশ তাদেরকে কোন ভাবে গ্রেফতার করছেনা। ফলে মুক্তা বেগম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মুক্তা বেগমের স্বামী মো: কাইয়ুম বর্তমানে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রাইভার হিসাবে চাকুরী করছেন। এদিকে মুক্তা বেগম অভিযোগ করেন তার স্বামী প্রতারণামূলক ভাবে তাকে বিবাহ করেন। ইতিপূর্বে ঐ প্রতারক স্বামী মো: কাইয়ুম বেশ কয়েক জায়গায় বিবাহ করেন। তার সাথে থাকা পার্বতীপুর উপজেলার সংকরপুর গ্রামের রফিক উদ্দিনের পুত্র মো: আরিফুল ইসলাম (২৭) ও ভবানীপুর ফিরোজপুর গ্রামের খবির উদ্দিন এর পুত্র মো: সবুজ (২৫) ও একই গ্রামের মৃত অফির উদ্দিন এর পুত্র মো: খবির হোসেন (৩৫) তার প্রতারক স্বামীকে সব রকম সহযোগীতা করায় এখন তারা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে মুক্তা বেগমকে। বর্তমান মুক্তা বেগম পার্বতীপুরের শেরপুর বনেরডাঙ্গা গ্রামে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন। অনাহারে-অদ্যাহারে তিনি দিন যাপন করছেন। প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে মোছা: মুক্তা বেগম আদালতে মামলা করায় মামলার আসামীরা তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছেন। গত ০৩/০৭/২০১৮ ইং তারিখে মুক্তা বেগম নেয় বিচার চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফুলবাড়ী সার্কেল বরাবরে আসামীদেরকে গ্রেফতারের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ব্যাপারে মোছা: মুক্তা বেগম ন্যায় বিচারের জন্য প্রাশাসনের আসু হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ