ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোটা আন্দোলনকারীরা রাজাকারের বাচ্চা নয় ॥ বাংলাদেশের সন্তান

স্টাফ রিপোর্টার : সংবিধান প্রণেতা ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অপমান করে, তারা আসো, আমার সামনে দাঁড়াও। আমাকে গুলী করো, মরার আগে তাদের দুই চড় মারবো। যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে আছে, তারা রাজাকারের বাচ্চা নয়, বাংলাদেশের সন্তান।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার জ্যেষ্ঠ সদস্য প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ৮৭তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘কয়লা চুরি, ব্যাংক ডাকাতি, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি বন্ধ করে ভোটাধিকার গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিমুল ইসলাম প্রমুখ।
ড. কামাল হোসেন বলেন, তরুণ সমাজের ওপর আক্রমণ লজ্জার বিষয়। স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রথম গণকবর কোথায় খোঁড়া হয়েছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, চলুন আমার সঙ্গে আমি দেখাবো। প্রত্যেকটা শিক্ষককে টেনে টেনে বের করা হয়েছিল, আর পাইকারিভাবে ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছিল। প্রথম কাতারের মুক্তিযোদ্ধারা ছাত্র ছিল না? তরুণ ছিল না? এই ইতিহাসকে কেন মুছে দেওয়া হবে? তাদের উত্তরসূরি আজকের ছাত্ররা। এই ছাত্ররা কোনও কিছু নিজের পকেট ভারি করার জন্য চাচ্ছে? কোনও লুটপাটের ভাগ চাচ্ছে? কোটার ব্যাপারে তাদের কথা হচ্ছে সংস্কার করো। সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া তাদের মৌলিক অধিকার। লাখ লাখ জীবন দিয়ে এই অধিকার অর্জন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নাম ভাঙিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়, বিকৃতভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়। যারা আজকে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম নিয়ে ব্যবসা করে, তারা এ কথা ভুলে গেছে যে মুক্তিযোদ্ধারা কী মানসিকতা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবসা করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেননি।
ড. কামাল হোসেন বলেন, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের ওপর ভর করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে হবে, দুর্নীতিবাজদের ওপরে না। অনেকে সেটা ভুলে গেছে, আমরা যাইনি। বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন দেশকে ভোগ করার জন্য জীবন দিয়ে যাননি। তাঁরা নীতির ব্যাপারে আপস করেননি। কিন্তু তাঁদের ও তাঁদের দলের নাম ভাঙিয়ে যে জিনিস দেখতে হচ্ছে, তা অসহ্য। এটা বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ দেশের মালিক জনগণ। এ দেশের মালিক কোনো ব্যক্তি নয়। তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। দেশের মানুষ নিজের দিকে তাকিয়ে দেখেন আমরা মালিক। তারা প্রশ্ন করে, আমরা কী করে মালিক? আমাদের কথা তো কেউ শোনে না। আমি বলি, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন, তারপর দেখেন শোনা যাবে কী যাবে না। ইতোমধ্যে একটি ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এর মধ্যেই টনক নড়ে যাচ্ছে। শক্তভাবে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আসুন আমরা দাঁড়াই।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি হচ্ছে। ব্যাংক ডাকাতি হচ্ছে, কয়লা চুরি হচ্ছে। মাটি চুরিও হবে। কিন্তু এসব চুরির অপরাধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ক্ষমতার মসনদে বসার জন্য নয়, দেশের মাটি–মানুষকে রক্ষা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে পাগল হওয়ার কিছু নেই। এটা চিরস্থায়ী না। এটা থাকলেই যা ইচ্ছা তা-ই করব, যাকে যা ইচ্ছা তা-ই বলব, এটা হয় না।
শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, দেশের সবার উচিত দেশপ্রেম, ত্যাগ, পরিশ্রম, মানুষকে ভালোবাসা এসব মূল্যবোধে অবিচল থাকা। এসব কাজে থাকলেই দেশের কল্যাণ সাধিত হবে, উন্নতি হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ