ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবশেষে ভিক্ষুকের হাত-পা ভেঙে দেয়ার ঘটনায় বিএল কলেজ ছাত্রলীগ নেতা লিংকন ও তার তিন বন্ধুর নামে মামলা

খুলনা অফিস : মেয়েকে কু-প্রস্তাব দেয়ার প্রতিবাদ করায় ভিক্ষুক মা ছোট খুকু ওরফে শিখা ঢালীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়ার ঘটনার ৪০ দিন পর অবশেষে ডুমুরিয়া থানায় মামলা হয়েছে। তবে, মামলার কোন আসামীকে পুলিশ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। সোমবার ভিক্ষুকের মাতা আল্লাদি ঢালী বাদী হয়ে বিএল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিংকন মন্ডলকে প্রধান আসামী করে তার সহযোগী মধু মন্ডল, পবিত্র মন্ডল ও আশিষ গোলদারের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনাটি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে থানার ওসি নির্যাতনের শিকার ভিক্ষুক শিখা রানী ঢালীকে থানায় ডেকে এনে বিস্তারিত ঘটনা জানতে পারেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাগুরখালী এলাকায় স্বামী পরিত্যক্তা হতদরিদ্র ছোট খুকু ওরফে শিখা ঢালী (৪৭) গত ৯ বছর যাবত দুই কন্যা ইতু ঢালী (১৭) ও পূজা ঢালী (৮) কে নিয়ে বাবার বাড়িতে থেকে ভিক্ষা বৃত্তি করে সংসার চালায়। এমতাবস্থায় পাইকগাছা চিনেমলা এলাকার সমিরন মন্ডলের ছেলে মাগুরখালী মামার বাড়ি বসবাসরত বিএল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিংকন মন্ডল (২২) ওই ভিক্ষুকের বড় মেয়েকে প্রায়ই কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ইতু তার মাকে জানালে, শিখা লিংকনের কাছে এর কারণ জানতে চায়। এতে লিংকন ক্ষুব্ধ হয়ে তার দলবল নিয়ে গত ১৯ জুন রাত ৯টার দিকে শিখার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ছাত্রলীগ নেতা লিংকন, তার সহযোগী সুজিত গোলদারের ছেলে আশিষ গোলদার (২২), নিখিল মন্ডলের ছেলে মধূসুধন মন্ডল (২৪) ও পবিত্র গাইন (২৩)’র পিটুনিতে শিখার বাম পা ও বাম হাতের হাড় ভেঙে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রসাদ কুমার মন্ডল ও মাগুরখালী পুলিশ ফাঁড়ির টু আইসি এ এস আই আলতাপ হোসেন ঝোলায় করে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হাসপাতালে ২০ দিন চিকিৎসার পর শিখা গুরুতর অসুস্থ থাকার পরও  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেন। কিন্তু টাকার অভাবে ও গুরুতর অসুস্থ থাকায় শিখা বাড়ি আসতে না পেরে হাসপাতালের বারান্দার পরে থাকে। এরপর হাসপাতালের বারান্দায় থেকে বিনা চিকিৎসায় ও অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকে ভিক্ষুক শিখা।
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে গত ২৯ জুলাই  দৈনিক সংগ্রামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলে টনক নড়ে পুলিশ প্রশাসনের। এরপর ৩০ জুলাই পুলিশের সহযোগিতায় ভিক্ষুক শিখার মা বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের আসামি করে  থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (যার নং-৩৮)। 
এদিকে পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর ছাত্রলীগ নেতা লিংকন ও তার সহযোগীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে দৌড়-ঝাপ শুরু করে। উপায়ন্তু না পেয়ে  খুলনার একটি পত্রিকায় ছাত্রলীগ নেতা লিংকন ও তার সহযোগীরা নিজেদের ধোয়া তুলসির পাতা দাবি করে একটি প্রতিবাদ দিয়েছে। যে ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। লিংকন মন্ডল ও তার সহযোগিরা স্থানীয় মাগুরখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ সানার ছত্রছায়ায় এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়ায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইউপি সদস্য প্রসাদ কুমার মন্ডল জানান, ঘটনার দিন লিংকনের নেতৃত্বে তার সহযোগিরা ভিক্ষুক শিখা ঢালীকে পিটিয়ে হাত পা ভেঙে ফেলে গেছে। এরপর একটি বস্তা নিয়ে তার ওপর শিখাকে তুলে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিখা হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. হাবিল হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে এতদিনে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে এটি জানা গেছে। শিখার মাতা আল্লাদি ঢালী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ