ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অবরোধ সংঘর্ষ ভাঙচুর আগুন পুলিশের লাঠিচার্জ

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে শাপলা চত্বরে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় টানা তৃতীয় দিনের মত গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের এই বিক্ষোভে ঢাকার ফার্ম গেইট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, মতিঝিল, কাকরাইল ও বাড্ডায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে, চলতি পথের যাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। এর মধ্যে সায়েন্স লাবরেটরি মোড় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে অন্তত ২০টি গাড়ি ভাংচুর করে স্কুল কলেজের ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীরা। গুরুত্বপূর্ণ এসব মোড় দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় পুরো শহরের পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
অবরোধ চলার সময় বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধসহ ৯ দফা দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর অন্তত বারোটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। সাইন্সল্যাব মোড় ও উত্তরার জসিম উদ্দিন রোড মোড়ে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা হলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থানে অন্যান্য সড়কগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। ঘাতক চালকের ফাঁসি ও নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পুরো রাজধানীর যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। এদিন যানবাহন শ্রমিকরা বেশিরভাগ বাস বন্ধ রাখার ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।
সকাল ১০টার দিকে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে দুর্ঘটনাস্থলে মানববন্ধন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশি বাধায় তাদের কর্মসূচি পন্ড হয়ে যায়। এরপর থেকে এমইএস বাস স্টপেজ থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত বাড়তি পুলিশের সতর্কাবস্থা দেখা গেছে।
এদিকে সকাল থেকে ফার্মগেট ওভার ব্রিজের নিচে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ করে রাখলেও সেখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে পুলিশের তৎপরতায় শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে দিলে ওই এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, সাড়ে ১০টার পর থেকে ওভার ব্রিজের নিচে কারওয়ানবাজারমুখী একপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশের তৎপরতায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এদিকে, মিরপুর-১ নম্বর সনি সিনেমা হলের সামনে এবং মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে অবস্থান নেন কমার্স কলেজ, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। মিরপুর ১০ নম্বরে বিক্ষোভরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ চড়াও হলে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এছাড়া মিরপুর ১ নম্বরে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করলেও পুলিশের তৎপরতায় ঘণ্টাখানেক পর রাস্তা থেকে সরে যান তারা।
মিরপুর মডেল থানার ওসি দাদন ফকির জানান, সনি সিনেমা হলের সামনে বেশ কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। তবে সেখানে কোনো ধরনের ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। কিছু সময় শিক্ষার্থীরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
বেলা ১২টার দিকে মতিঝিল শাপলা চত্বর মোড় অবরোধ করে অবস্থান নেন নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানে রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের যোগাযোগ অচল হয়ে পড়ে।
মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, মতিঝিল শাপলা চত্বরে নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ছাত্ররা সরে গেলে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
সাইন্সল্যাব মোড়ে সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাংচুর চালিয়েছেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গ বেশ কয়েকবার ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশের ধাওয়ায় ছাত্ররা সরে গেলে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
রামপুরা ব্রিজের উপর ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ইমপিরিয়াল কলেজের ও মধ্যবাড্ডায় গুলশান কমার্স কলেজ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে পুরো মালিবাগ-বাড্ডা পর্যন্ত অচালবস্থা সৃষ্টি হয়। এ সড়কে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
নগর পুলিশের বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আশরাফুল করিম জানান, রামপুরা ব্রিজের ওপরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে রাখলেও এখানে গাড়ি ভাঙচুরের মতো কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা সরে যেতে শুরু করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
শেরেবাংলা বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও আশেপাশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিরপুর রোডের আগারগাঁও ও শ্যামলীর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ফলে ওই দুই সড়কেই দুই ঘণ্টারও বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
শেরে বাংলানগর থানার ওসি জি জি বিশ্বাস জানান, শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে বেশ কিছুক্ষণ রাস্তা বন্ধ থাকে। পরে তাদের অনুরোধ করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
নাবিস্কো মোড়ে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে বন্ধ হয়ে যায় মহাখালী মগবাজার সড়ক। প্রায় তিন ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা সরে গেলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
উত্তরার জসিমউদ্দিন রোড মোড়ে বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের ৮-১০টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় বুশরা পরিবহন ও এনা পরিবহনের দুইটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাস ও ট্রাকে ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা।
বিমানবন্দর-গাজীপুর সড়কের দুইপাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে বিমানবন্দর সড়কে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের কয়েকদফা লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
উত্তরা মডেল (পূর্ব) থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জানান, ছাত্ররা গাড়ি ভাংচুর করলে পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। পাঁচটার পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে।
এদিকে সকালের দিকে কোনো কোনো এলাকায় বাস থাকলেও বিকেলে গুলিস্তান, পল্টন, প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন, শাহবাগ, বাংলা মোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট এলাকায় রাস্তা ছিল প্রায় ফাঁকা। এসব এলাকায় হাজারো মানুষ বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। একটি-দুটি বাস আসতেই  হুমড়ি খেয়ে উঠছেন যাত্রীরা।
সদরঘাট-গাজীপুর চৌরাস্তা রুটে চলাচলকারী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের সহকারী সুলাইমান বলেন, রাস্তায় বের হইলেই ভাঙচুর করে, আগুন দেয়। তাই অনেকেই গাড়ি নিয়া বের হইতেছে না।
রোববার জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর গত দুদিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স’ নামের একটি ফেইসবুক গ্রুপ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক অবরোধের আহ্বান জানানো হয়।বেলা পৌনে ১১টার দিকে ওই পেইজ থেকে বলা হয়, “সবাই যার যার প্রতিষ্ঠানের (শিক্ষা) সামনের সকল রাস্তা বন্ধ করে দিন। এ্যাম্বুলেন্স ও হজযাত্রী ছাড়া কোনো পিঁপড়ার বাহনও যেন না চলে।” এর আগেই সকাল ১০টার দিকে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা র‌্যাডিসন হোটেলের সামনের রাস্তার একপাশে অবস্থান নিয়ে আধা ঘণ্টা বিক্ষোভ করে। তবে তারা পুরো রাস্তাজুড়ে অবস্থান না নেওয়ায় সেখানে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেনি বলে ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার নাজমুল আলম জানান।
রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলার মধ্যেই তেজগাঁও কলেজ ও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেইটের বাবুল টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে তাদের বিক্ষোভের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফার্মগেইট মোড় হয়ে রাজধানীর মিরপুর, গাবতলী, কারওয়ান বাজার ও বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল শুরু হয় বলে ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. হারুন জানান।
ফার্মগেইটের বাসিন্দা মার্টিন গোমেজ তার স্ত্রীকে নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে শিক্ষার্থীদের ওই অবরোধের কারণে আটকা পড়েন। তিনি বলেন, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একটি বাস ভাংচুর করে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই বাসটি সরিয়ে নেয়া হয়।
ফার্মগেইট থেকে সরে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা শাহবাগের দিকে রওনা হয়। তবে রূপসী বাংলা মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এদিকে ফার্মেগেইট খোলার আগেই সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ও মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের খবর আসে।
বেপরোয়া চালকের সার্বোচ্চ শাস্তিসহ নয় দফা দাবিতে ধানমন্ডির আইডিয়াল, গভার্নমেন্ট ল্যাবরেটরি, সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
তাদের নয় দফা দাবি হল: ১. বেপোরোয়া চালককে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। ২. নৌপরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ৩. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে। ৪. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিড ব্রেকার দিতে হবে। ৫. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। ৬. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে। ৭. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করতে হবে। ৯. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। 
ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার আহসান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে শাহবাগ ও নিউ মার্কেটের সঙ্গে জিগাতলা ও মিরপুর রোডের মধ্যে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারা বুঝিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি।
রাস্তায় আটকে থাকা রত্না বসাক নামের একজন উন্নয়নকর্মী বলেন, “ছেলেমেয়েরা যেসব দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে, তা যৌক্তিক। কিন্তু এভাবে সড়ক অবরোধ করলে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে।”
এদিকে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কাকরাইল মোড়ে রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ শুরু করে এবং একটি বাসে ভাংচুর চালায়।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মো. মারুফ হোসেন সরদার জানান, তারা বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে নেন। পরে তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করে।
কাকরাইলের পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। বেলা সোয়া ১টার দিকে প্রথমে নিজেদের কলেজের সামনের রাস্তায় নেমে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে শাপলা চত্বরে গিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে বলে মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার মো. আনোয়র হোসেন জানান।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস জানান, পুলিশ দোষী চালকদের গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দেয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিকাল ৩টার দিকে শাপলা চত্বর ত্যাগ করে। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার সময় কমলাপুরের দিকে এক ছাত্র মারধরের শিকার হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে আবার উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পুলিশ সদস্যরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের একটি বাসসহ অন্তত ২০টি গাড়ি সেখানে ভাঙচুরের শিকার হয়। ভাঙচুর করে তারা চলে যাওয়ার পর বেলা ২টার পর ওই এলাকা দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। এর মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিক থেকে ৩০-৪০টি মোটর সাইকেলে করে একদল যুবক এসে ওই এলাকায় চক্কর দিয়ে যায়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।এদিকে দুপুরে জিগাতলায় জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশের একটি রেকারে হামলা চালালে রেকার চালক দ্রুত সরে পড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটান। তড়িঘড়ির মধ্যে রেকারটি রাস্তার পাশে থাকা একটি রিকশা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রটোকলের একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বেলা আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি অফিসের সামনে কিছু উত্তেজিত ছাত্র রেকার ভাংচুর শুরু করে। তারা চালককেও মারধর শুরু করে। এ সময় চালক গাড়ি টান দিলে রেকার গিয়ে ওবায়দুল কাদেরের প্রটোকল গাড়িকে ধাক্কা দেয়। তাতে গাড়ির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রেকারের ধাক্কায় রিকশাটিও দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা বেরিয়ে বসে ১০/১৫ জন শিক্ষার্থীকে পালিয়ে যেতে দেখেন।
রেকারের চালক সেলিম বলেন, দুটো ছেলে বাঁশের লাঠি নিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি দ্রুত গাড়ি নিয়ে সরে পড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েন।
উত্তরায় যাত্রীবাহী দুই বাসে আগুন
উত্তরা এলাকায় যাত্রীবাহী দুটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এসব বাসে আগুন দিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে উত্তরা জসীমউদ্দীন মোড়-সংলগ্ন র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এনা ও বুশরা পরিবহনের একটি করে বাস সেখানে জ্বলতে দেখা গেছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয় ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট। তবে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা মো. রাসেল শিকদার বলেন, বাসে আগুন দেয়ার খবর পেয়ে বেলা পৌনে তিনটার দিকে তাঁদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। অবরোধকারী বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বাধায় তারা আগুন নেভানোর কাজ শুরুুকরতে পারছেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ