ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ ধরে মুদ্রানীতি ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া পুরো টাকাই ফেরত আসবে। তার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি সংযত ধরনের থাকবে। বেসরকারি খাতের ঋণের ওপর উচ্চতর প্রবৃদ্ধি সংকুলানের সুযোগ থাকবে। বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
গতকাল মঙ্গলবার চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় একথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক আল্লামা মালিক কাজমী, ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এসকে সুর চৌধুরী, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সল আহমেদ, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামান প্রমুখ।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে নেয় হ্যাকাররা। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কা ও ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে।
এরইমধ্যে মাত্র ১৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ঘটনার প্রায় আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও বাকি টাকা উদ্ধার হয়নি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্বনর বলেন, আমরা ১৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত পেয়েছি। বাকি প্রায় ৫১ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনার বিষয়টি বিচারাধীন আছে। ফিলিপাইনের আদালতে এর সুরাহা হলেই আমরা টাকাটা ফেরত পাবো। পুরো টাকাই আমরা ফেরত পাবো। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্বনর বিএফআই প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান এসময় বলেন, ফিলিপাইনের উচ্চ আদালতে একটা রায় আপিল অবস্থায় আছে। ওই আপিলের সুরাহা হলেই প্রায় ৫১ মিলিয়ন ডলার ফেরত আসবে। আর যে টাকাটা এখনও সনাক্ত হয়নি, তাও সনাক্তের বিষয়ে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে।
আমরা আশাবাদী, সম্পূর্ণ অর্থই আমরা ফেরত পাবো। সম্পূর্ণ অর্থই যে ফেরত আসবে সে ব্যাপারে আমাদের চিন্তা-ভাবনার কোনও ঘাটতি নেই।
এ সময়ে অভ্যন্তরিণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
এখানে সরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের চাহিদা কম থাকার সূত্রে বেসরকারি খাতের ঋণের ওপর উচ্চতর প্রবৃদ্ধি সংকুলানের সুযোগ থাকবে।
ফজলে কবির বলেন, বিগত বছরে ১ অংকে নেমে আসা ব্যাপক মূদ্রার প্রবৃদ্ধি ২০১৯ অর্থবছরে ১২ শতাংশে প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন নির্ভর করবে প্রধানত বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবে ঘাটতি সহনীয় মাত্রায় বজায় রাখার ওপর। অভ্যন্তরীণ ঋণের ব্যবহার বিলাসী অপ্রয়োজনীয় আমদানি পণ্যের জন্যে না হয়ে প্রকৃত উৎপাদনমুখী , কর্মসংস্থানমুখী খাতে ব্যবহার হতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের নজরদারি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আলোচ্য সময়ে পরিস্থিতি টেকসই বা সাসটেইনেবল করার জন্য আবশ্যিক সংস্কারগুলো দ্রত সম্পন্ন না করা হলে আর্থিক বাজারে আমানত ও ঋণের সুদহার চাহিদা ও যোগানভিত্তিক পরিবর্তনশীলতা বাধাগ্রস্ত হবে। এতে মধ্যম আয় ও উন্নত অর্থনীতি পর্যায়ে দেশের প্রত্যাশিত উত্তোরণের জন্য প্রয়োজনীয় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আহরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধিবান্ধব হওয়ার পরিবর্তে প্রবৃদ্ধি প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।
সংস্কার নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাংকের গর্বনর বলেন, খেলাপি ঋণজনিত ব্যয়ভারসহ ব্যাংকের সামগ্রিক পরিচালনা ব্যয়ে দ্রত হ্রাস এনে আমানত ও ঋণসুদ হারের ব্যবধান বা ইন্টারমেডিয়েশন স্পেডের সংকোচন করা। সরকারি সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার এবং সঙ্গে তুলনীয় মেয়াদী বন্ডের বাজার ইল্ড হার এই দুয়ের মধ্যে যৌক্তিকীকরণ করা এবং সমাগ্রিকভাবে মুল্যস্ফীতি নিম্নমাত্রায় রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ