ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অব্যাহতভাবে লোকসানি শাখা বৃদ্ধি অবনতি ঘটছে অর্থনৈতিক সূচকের

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লোকসানি শাখা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এতে দিন দিন ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকের অবনতি ঘটছে। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫৯ টিতে ঠেকেছে। সংখ্যার দিক দিয়ে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসানি শাখা সোনালী ব্যাংকের। আর শতাংশের দিক দিয়ে অর্ধেকেরও বেশি লোকসানি শাখা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল)। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো খেলাপি ঋণের উচ্চহার। সুশাসনের অভাবে ব্যাংকগুলো মূলধনও খেয়ে ফেলছে। শীর্ষ ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায় করতে পারছে না দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। ১০০ কোটি টাকা বা তদূর্ধ্ব খেলাপি ঋণের কেসগুলো তদারকির জন্য গতবছর প্রতিটি ব্যাংকে একটি করে তদারকি সেল গঠন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও আজও পর্যন্ত সেটি করেনি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অর্থ পরিশোধে গাফিলতির জন্য পরিচিত বড় ও দাপুটে ঋণগ্রহীতাদের কাছে মোটা অঙ্কের ঋণ দিয়ে আসছে। কিন্তু ঋণখেলাপিদের শাস্তি দেয়ার নজির বিরল। এর পরিবর্তে একই ঋণগ্রহীতাদের ফের ঋণ প্রদানের অনুমোদন দিতে নিয়মিত ঋণ পুনর্বিন্যাস করা হয়। ঋণখেলাপিদের শাস্তি দেয়া, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে আরও অনেক দুর্বলতা রয়ে গেছে। এ দুর্বলতার ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোসহ পুরো ব্যাংকিং খাত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাতে পরিস্থিতির উন্নয়ন নির্ভর করবে সমস্যা মোকাবেলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। এসব দুর্বলতার পেছনে বহুলাংশে দায়ী বড় অংকের ঋণগ্রহীতাদের দেয়া ঋণ। পাশাপাশি রয়েছে আইনি সীমাবদ্ধতা। এ ক্ষেত্রে অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রয়েছে মোট ব্যাংকিং খাতের সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তাদের সঙ্গে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি বিশেষায়িত উন্নয়ন ব্যাংক, ৪০টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ৯টি বিদেশি ব্যাংক।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় মূলধন জোগান দিতে বর্তমান সরকার ২০১০ সাল থেকে বাজেটে বরাদ্দ দিয়ে আসছে। এতেই বুঝা যায় দেশটির ব্যাংকিং খাত যে ক্রমবর্ধমানভাবে বিভিন্ন ধরেনের কঠিন ঝুঁকি মোকাবেলা করছে। আর এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১০-১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকগুলো প্রতিবছর গড়ে নয়-ছয় হওয়া ঋণ (ব্যাড লোনস) পুনর্বিন্যাস করেছে ১০ হাজার ৯১০ কোটি টাকার। এসব কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে মারাত্মকহারে। এ পরিস্থিতিতেও সরকার অব্যাহতভাবে অর্থায়ন করে যাচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। অর্থায়ন করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা হয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চে এক বৈঠকে সরকারের অর্থ বিভাগ জানায়, বাজেট তহবিল থেকে নিয়মিত অর্থায়ন সত্ত্বেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়নি। এদিকে গত দু’বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকে পুঁজির জোগান দেয়ার সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে করেনি। খোদ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও অর্থনীতিবিদরা সরকারি ব্যাংকগুলোকে এভাবে মূলধন ঘাটতি পূরণে জনগণের করের টাকা দেয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের দাবি এ উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার সামিল। তারপরও বাজেটে বরাদ্দ রেখে এ সব ব্যাংকগুলোতে অর্থের যোগান দিচ্ছে সরকার। সর্বশেষ গত জুন মাসে সোনালী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অর্থ দেয়া হয়েছে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে আলোচিত বেসিক ব্যাংককে। সমস্যাকবলিত ব্যাংকটিকে একহাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। সোনালী ব্যাংককে ৩০০ কোটি ও রূপালী ব্যাংককে ১০০ কোটি টাকা।
বিআইবিএম বলছে, ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উন্নতি প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সামান্যই। প্রয়োজন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা। বড় ঋণগ্রহীতাদের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াও নিয়ন্ত্রকরা উদ্বিগ্ন যে, বেশি কঠোর পদক্ষেপ কর্পোরেট দেউলিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো খেলাপি ঋণের উচ্চহার। বর্তমানে বেসিক ব্যাংকের ৫৯ দশমিক ২২ শতাংশই খেলাপি ঋণ। ব্যাংকটির এখন খেলাপি ঋণ ৮ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ৫৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বা ৮০৪ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এখন ১৪ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৩৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯ হাজার ৭০২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, এসব খেলাপি ঋণ আদায়ও সন্তোষজনক নয়।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা যখন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত না দেন, তখন ব্যাংকের আর কিছুই করার থাকে না। এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।
জানা যায়, ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ কমিয়ে সম্পদের গুণগত মান বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রতিবছরই শীর্ষ ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়। প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংকগুলো কী পরিমাণ ঋণ আদায় করতে পারছে তা অগ্রগতির জন্য পর্যালোচনা বৈঠক আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু শীর্ষ ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায় করতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।
১০০ কোটি টাকা বা তদূর্ধ্ব খেলাপি ঋণের কেসগুলো তদারকির জন্য প্রতিটি ব্যাংকে একটি করে তদারকি সেল গঠন করার নির্দেশনা থাকলেও সে নির্দেশনা মানছে না রাষ্ট্রাত্ত ব্যাংকগুলো। এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যাংকে তদারকি সেল গঠন করা হয়নি। এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকার ওপরে বৃহৎ খেলাপি ঋণ গ্রহীতাদের আলাদা ডেট-মনিটরিংয়ের আওতায় এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ডেটা রিকভারি ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থা করার জন্য চিঠি দিয়েছিল।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের লোকসানি শাখা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি লোকসানি শাখা এখন সোনালী ব্যাংকের। ব্যাংকটির এক হাজার ২১২ শাখার মধ্যে ১৮৩টি লোকসানি শাখা। জনতা ব্যাংকের ৯০৮ শাখার মধ্যে ৫৭টি লোকসানি শাখা। অগ্রণী ব্যাংকের ৯৩১টির মধ্যে ৪৩টি লোকসানি শাখা। রূপালী ব্যাংকের ৫৬২টির মধ্যে ৩৩টি, বেসিক ব্যাংকের ৬৮টির মধ্যে ২১টি এবং বিডিবিএল’র ৪০টির মধ্যে ২২টিই লোকসানি শাখা। অর্থাৎ ৫৫ শতাংশ শাখাই লোকসানি।
জানা গেছে, ২০১১ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের লোকসানি শাখা ছিল ১৫৯টি। ২০১২ সালে ১৯১টি, ২০১৩ সালে ১৭৩টি, ২০১৪ সালে ১৬৮টি। ২০১৫ সালে ছয় ব্যাংকের লোকসানে পড়ে ২২৫টি শাখা। তবে ২০১৬ সালে ছয় ব্যাংকের লোকসানে পড়ে ৪৯৩টি শাখা। ২০১৭ সালে কিছুটা উন্নতি হলেও বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ৩৫৯ শাখা লোকসান গুনছে।
অর্থনীতিবিদরা জানান, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন না থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকগুলোতে একদিকে লোকসানি শাখা বাড়ছে অন্যদিকে ব্যাংকগুলো মূলধনও খেয়ে ফেলছে। ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে প্রতিবছরই জনগণের করের টাকা দেয়া হচ্ছে। তারা বলেন, যাদের প্রভাবে বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া এবং অপ্রয়োজনীয় এলাকায় ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে, তাদের অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। তা না হলে এটি বন্ধ হবে না। সরকারি ব্যাংকের লোকসানি শাখার খেসারত দিতে হয় জনগণকে। এ ধারা অব্যাহত থাকায় ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিক অর্থনৈতি সূচকের অবনতি ঘটছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি’ বিভাগের প্রতিবেদনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো চারটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছে। এতে সার্বিক পরিস্থিতি বিল্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মূলধন ঘাটতি পূরণে আইপিও ইস্যুর সুপারিশ করা হয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো হলো- উদ্বেগজনক হারে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া, মূলধন ঘাটতি, দুর্বল মাত্রায় শ্রেণীকৃত ঋণ আদায় ও প্রভিশন ঘাটতি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে উদ্বেগজনক হারে শ্রেণীকৃত (খেলাপি) ঋণ বাড়ছে। এ ঋণ কাক্সিক্ষত মাত্রায় নামিয়ে আনাই ব্যাংকগুলোর অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সেখানে আরও বলা হয়, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। এ ছাড়া বিগত কয়েক বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো কাক্সিক্ষত মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ। ফলে কয়েকটি ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না। মূলধন ঘাটতি প্রসঙ্গে বলা হয়, বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারি ব্যাংকগুলোকে ঘাটতি পূরণে মূলধন জোগান দেয়া হচ্ছে। সরকারি ব্যাংকগুলোয় সরকার নিজেই মূলধন দেয়ার ফলে দেশের আর্থিক খাতে নৈতিক বিপদ বাড়ছে। যা ব্যাংকগুলোর জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ বটে। বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে সরকার কর্তৃক শুধু মূলধন জোগান দিয়ে নয়, আইপিও ইস্যুর মাধ্যমে তা বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এই চারটি সংকটে ব্যাংকিং খাত জর্জরিত। এটি নতুন কিছু নয়। আগে থেকেই হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এতদিন পর কেন বলছে সেটা আমার বোধগম্য নয়। আমি মনে করি, ঘটনা ঘটার পর নতুন করে জানানোর মতো। এটা এক ধরনের স্মরণ করে দেয়া।
বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ৬১ শতাংশ ব্যাংকার মনে করেন, ব্যাংকিং খাতে নীতিবান নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। এজন্য অনিয়ম এবং দুর্নীতির ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ