ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারিসহ তিন দফা দাবিতে ঢাবিতে আবারো বিক্ষোভ

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তিসহ ৫ দফা দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বিক্ষোভ করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে তারা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিতে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নূরুল হক নূর উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি তিন দফা দাবির ঘোষণা দেন।
এক মাস পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের ‘নূর চত্বরে’ হাজির হয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূর। দাবিগুলো হল গ্রেফতারকৃত ছাত্রদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, যত দ্রুত সম্ভব প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে এবং হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এরপর শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে মিছিল করলেন হাতে প্লাস্টার বাঁধা নূর।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ডাকে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এমন ঘটনার অবতারণা হয়। এক মাস পর আহত নূরকে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। তারা নূরকে হর্ষধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেন।
নুরুল হক নূর বলেন, আমি আপনাদের নূরু বলছি। সন্ত্রাসীদের ভয় পাবেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি সন্ত্রাসীদের ভয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে থেমে যায় তবে এ জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে না দাঁড়ালে দেশে অন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। যেসব বোনেরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছে তাদের ধর্ষণের হুমকি দেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আপনারা যে যেখানে আছেন সবাই আন্দোলনে চলে আসুন। এ সময় তারা ‘আর নয় কালক্ষেপণ দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
কোটা সংস্কারে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে গত ৩০ জুন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সাংবাদিক সম্মেলন করতে উপস্থিত হয়েছিলেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। ওই সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নূরকে মারাত্মক আহত করে। হামলার এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে নূরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার সেখান থেকে ধানমন্ডির বেসরকারি আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে প্রশাসনিক চাপের মুখে মোট পাঁচটি হাসপাতাল বদলিয়ে চিকিৎসা নেন পটুয়াখালীর কৃষক পরিবারের সন্তান নূর। ছাত্রলীগের হামলার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের জায়গাকে ‘নূর চত্বর’ নামকরণ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
প্রক্টরের কাছে অভিযোগ করলো ছাত্রলীগ: ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ নয়- সংগঠনটির নেতাকর্মীদের এমন কথা বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে প্রক্টর অফিসে যান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রক্টর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এসব কথা বলেন।
গত ৩০ জুন থেকে কোটা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাদের ওপর খড়গহস্ত ছাত্রলীগ। একাধিকবার হামলা, পেটানো হয়েছে তাদেরকে। আর সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এসব তৎপরতায় ক্ষুব্ধ খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
ছাত্রলীগের এই হামলা, পিটুনির ঘটনায় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শন চলছে। আর এতে আপত্তি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের। প্রক্টরের কাছে গিয়ে তারা এটি বন্ধ করতে বলেন। যুক্তি, এতে তাদের ‘চরিত্র হরণ’ করা হচ্ছে।
ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা প্রক্টরের কাছে জানতে চান, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর জন্য অনুমতি নেয়া হয়েছে কি না। আর যদি না হয়, তাহলে কেন তা বন্ধ করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বহিরাগতদের প্রবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানায় ছাত্রলীগ।
প্রক্টর গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাদের অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি এবং তাদেরকে লিখিত আকারে জমা দিতে বলেছি। তারা লিখিত অভিযোগ জমা দিলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। আমি বলেছি, ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের কর্তৃপক্ষ নয়। তবে যারাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় আমাদের সহযোগিতা করবে আমরা তাদেরই সাধুবাদ জানাব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সসহ কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার নেতাকর্মীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ