ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নৌমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত শ্রমিক ফেডারেশন অবৈধ

স্টাফ রিপোর্টার: নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন একটি অবৈধ সংগঠন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী। তিনি বলেন, ওই সংগঠন অবৈধ এবং ওই সংগঠনের নেতারাও অবৈধ।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী। এ সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পরিবহন শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এই খাতের চাঁদাবাজি বন্ধে ১২ দফা দাবি পেশ করা হয়।
ইনসুর আলী বলেন, নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন একটি অবৈধ সংগঠন। ২০০৬, ২০১৩ ও ২০১৫ সালের শ্রম আইন এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি ট্রেড ইউনিয়নে প্রতি ২ বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কমিটি নির্বাচিত করার কথা। অথচ নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি তা করেনি।
ওই সংগঠন অবৈধ এবং ওই সংগঠনের নেতারাও অবৈধ দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা দীর্ঘ ৮ বছর ধরে অবৈধভাবে ওই সংগঠনটি চালাচ্ছে। সংগঠনটিতে আওয়ামী লীগের মাত্র দুইজন প্রতিনিধি রয়েছে। বাকিরা বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, বাসদ ও সিপিবির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত।
মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে নিবন্ধিত ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০টি পরিবহন থেকে তথাকথিত শ্রমিক নেতাদের নামে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় চলছে। ঢাকার ৪টি বাস টার্মিনালের ১ হাজার গণপরিবহন রয়েছে। ঢাকা মহানগরের আশপাশে চলাচল করা প্রায় ৫ হাজার গণপরিবহন ও ঢাকা অভ্যন্তরে ৫০০ হিউম্যান হলার থেকে কমপক্ষে ৭০০ টাকা হারে  দেনিক আনুমানিক দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে তথাকথিত শ্রমিক নেতাদের আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।
১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- বিধি অনুযায়ী পরিবহন খাতের শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দিতে হবে। শ্রমিকদের মাসিক বেতন কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুযায়ী, বাস-ট্রাক শ্রমিকদের দৈনিক ৮ কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করতে হবে। অবৈধ চাঁদা আদায়কারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মেয়াদউত্তীর্ণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। হাইওয়েতে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের জন্য জনকল্যাণ তহবিল বাস্তবায়ন করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ