ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তির সময় বাড়লো তিন মাস

স্টাফ রিপোর্টার: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাস সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এদিকে ঢাকার মানহানির দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন খালেদা জিয়া। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ এ দু মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন।
গত ২৭ জুন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হয়।
গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া তার সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যে আপিল দায়ের করেছিলেন, তা ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গত ৯ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষ হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে রায়ের জন্য গত ১২ জুলাই রায়ের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু রায় ঘোষণা না করে আদালত মামলাটি মুলতবি (স্ট্যান্ড ওভার) রাখেন। এর ফলে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তিতে সময় বৃদ্ধির পথ খোলা রাখেন আপিল বিভাগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছিলেন আপিল বিভাগ।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়।
এ মামলায় মোট আসামী ছয়জন। খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। আসামিদের মধ্যে পলাতক তিনজন হলেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।
মানহানির দুই মামলায় জামিন
মানহানির দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস এ জামিন মঞ্জুর করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন শুনানি করা হলে দুপুর আড়াইটার দিকে বিচারক তার দুই মামলার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালত থেকে খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়ায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।
মানচিত্র পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃতির অভিযোগ
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট আদালত-৭-এ মানহানির মামলা করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।
এ মামলায় ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। এরপর গত ১২ এপ্রিল আইনজীবীরা এ মামলায় তার জামিন চান। এরপর গত ১৭ মে আদালত তৃতীয় দফায় সময় পিছিয়ে আদেশের জন্য আগামী ৫ জুলাই আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। এ অবস্থায় তাঁর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগ
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২২-এ মামলাটি করেন। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এরপর গত ২৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়া জামিন চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু জামিন না দিয়ে ১৭ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আদালত। পরে ওই তারিখে তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দিয়ে ৫ জুলাই জামিন বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন। এ অবস্থায় তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ