ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর সড়ক থেকে বাস উধাও

স্টাফ রিপোর্টার : বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের মধ্যে সড়ক থেকে বাস সরিয়ে নিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। এর ফলে গণপরিবহন না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে রাজধানীবাসী।
গত রোববার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর বিমানবন্দর সড়কে গাড়ি ভাংচুরের পর রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করেছিল শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেদিন বেশকিছু গাড়ি ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। পরের দিন সোমবার ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে। এই অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবারও রাজধানীর বিভিন্ন রোডে যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন গাড়ির মালিকরা।
রাজধানীর ধানম-ির কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরার সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখায়। এর পাশাপাশি ফার্মগেইট, মতিঝিল, শ্যামলী ও কাকরাইল এলাকায়ও সড়ক অবরোধ করা হয়। ভাংচুর হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। এর ফলে দুপুর থেকে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে বাসের সংখ্যা কমে যায়। মিরপুর, শ্যামলী, মহাখালী, বিজয় সরণি, উত্তরা, ফার্মগেইট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। কয়েকটি বাস এলেও তাতে সবাই উঠতে পারছেন না।
অনেক মানুষ গাড়ির জন্য অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু কোনো গাড়ি না পেয়ে হেঁটেই গন্তব্যে যাচ্ছেন। কথা হয় আল আমিন নামের এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি জানান, অবরোধ নেই। তারপরও গাড়ি কেন রাস্তায় নামেনি। নতুন করে যাত্রীদের হয়রানি করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে গাড়ির মালিক-শ্রমিকরা। আমরা বাস মালিকদের কাছে অসহায়।
দুপুরে মহাখালী ফ্লাইওভারের পাশে উত্তরার বাসের অপেক্ষায় থাকা মো. আবদুল্লাহ বলেন, অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাস পাচ্ছি না। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছি। মিরপুরের বাসিন্দা আরিফুল জানান গণপরিবহন কম থাকার কথা। তারা বলেন, অন্যান্য দিন গাড়িতে মিরপুর থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যেতে কয়েক ঘণ্টা লাগে। গতকাল রাস্তা ফাঁকা অনেকটাই। মাত্র ২০ মিনিটে বসুন্ধরায় পৌছালাম।
সড়কে শিক্ষার্থীরা থাকায় এয়ারপোর্ট সড়কে ফ্লাইওভারেও বাসের দেখা তেমন মেলেনি। বাস কম থাকার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ খান বলেন, ভাংচুরের কারণে চালকরা বাস চালাতে চাইছেন না। সড়কে বাস বের করলেই সেগুলো ভাংচুর করা হচ্ছে। এজন্য সকালে বাস বের হলেও নিরাপত্তার কারণে বাসগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভয়ে বাস চালকরা রাস্তায় বাস বের করতে চাচ্ছেন না।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বাস ভাংচুরের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় আমরাও দুঃখ প্রকাশ করছি, যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের বিচার আমরাও চাই। তাই বলে রাস্তায় কোটি কোটি টাকার গাড়ি বের হলেই সেটা ভাঙবে, এটা কেমন কথা? প্রশাসনও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
সকাল থেকে উত্তরা, ঢাকা কলেজের সামনে, শ্যামলী ও স্টাফ রোডে বহু গাড়ি ভাঙা হয়েছে বলে দাবি করেন এই পরিবহন শ্রমিক নেতা।
দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর দোষী চালকের ফাঁসিসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা। তারা পরিবহন শ্রমিক নেতা ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করার দাবিও রয়েছে তাদের। শিক্ষার্থীদের প্রতি সহমর্মী হলেও ভাংচুরে উদ্বেগ জানিয়েছেন শ্যামলীতে বাসের অপেক্ষায় থাকা নাসরিন সুলতানা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিচার পুরো দেশবাসী চায়। কিন্তু যেভাবে বাস ভাংচুর করে ভয় তৈরি করা হচ্ছে, সেটা খুবই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিমান বন্দর রোডে এ রোডে শাহাদত হোসেন নামের এক মালিকের গাড়ি চলাচল করে। তিনি বলেন, প্রজাপতি পরিবহনসহ এ রোডে তার চারটি গাড়ি চলে। কিন্তু জাবালে নূরে আমার কোনো গাড়ি নেই। তারপর আমার দুটি গাড়ি ভেঙে একাকার করা হয়। এ জন্য আজ আর গাড়িই নামাই নাই। কবে ছাড়বো মালিক সমিতি বলতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুইজন। এ ছাড়া আহত হয় আরও ১৩ জন শিক্ষার্থী। নিহত দুজন হলো- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ