ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানে বিক্রেতারা এলাকাছাড়া 

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীতে মাদকের বিক্রি ও সেবনের ধরন পাল্টেছে। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানে বিক্রেতারা এলাকাছাড়া। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে পুলিশের কিছু নামধারী সোর্স। শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিক্রেতাদের সাথে তাদের নিবিড় যোগাযোগ। মাদক সরবরাহ ও বিক্রি তারাই নিয়ন্ত্রণ করে। নিরাপদ স্থান হিসেবে তারা প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন মাদক নিরাময়কেন্দ্র, আবাসিক হোটেল, প্রাইভেটকার, স্পোর্টস ক্লাব, আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাড়ি বা ফ্ল্যাট মাদকের বেচাকেনা ও সেবনের নিরাপদ আশ্রয়। পুলিশের ঝামেলা এড়াতে মাদকের ক্রেতা বিক্রেতা ও সেবনকারীরা এসব স্থান ব্যবহার করছে। গভীর রাত অবধি মাদকের সরবরাহ ও সেবন দু’টোই চলে প্রাইভেটকারসহ বিলাসবহুল গাড়িতে বসে। এসব গাড়ির পেছন সিটের গ্লাস কালো বা ঘোলা থাকে। চলাচলরত অবস্থায় কিছুই বোঝার উপায় থাকে না। মাদক সেবনের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মাদকসেবীরা বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ভাড়া নিচ্ছে। ১-২শ’ টাকার বিনিময়ে তারা ১-২ ঘন্টার জন্য হোটেলের রুম ভাড়া নিয়ে মাদক সেবন করছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক বিক্রেতারা এসে আবাসিক হোটেলগুলোতে আশ্রয় নেয়। এখান থেকেই মাদকের বিভিন্ন চালান বিভিন্ন রুটে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।  এদিকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র মাদক পাওয়া না গেলেও নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে ঘিরে মাদকের ব্যবসা ঠিকই চলছে। এসকল ব্যক্তিরাই নিয়মিত পুলিশের সাথে ঘোরাফেরা করেন। পুলিশের কাছে তাদের পরিচয় সোর্স। সোর্স নামধারী এরা আসলে একসময়ের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন জেল খাটার পর এরা বের হয়ে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছে। আর পুলিশের সাথে সখ্যতার আড়ালে মাদকের রমরমা ব্যবসা এখন তারাই করছে। সাতক্ষীরা, যশোর, বেনাপোল, কুয়াকাটা থেকে বিভিন্ন পরিবহণ ও প্রাইভেটকারে করে নিয়মিত মাদক শহরে ঢুকছে। এক সময়ের ভয়ঙ্কর সব সন্ত্রাসীরা ভোল পাল্টে এই মাদক শহরের আনাচে কানাচে নির্দিষ্ট কিছু বিক্রেতার হাতে পৌঁছে দিচ্ছে। পুলিশের কড়াকড়ি থাকায় বেশি দামে বিক্রি করছে। গত রমযান মাসের শুরু থেকে নগরীতে মাদকের বিশেষ অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন থানার পুলিশের কতিপয় এসআই মাদক অভিযানের নামে অবৈধ বাণিজ্য শুরু করে। যা এখনও চলমান রয়েছে। পুলিশ সদস্য, সাবেক মাদক বিক্রেতা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। যারা সংবাদে নিজেদের পরিচয় দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে একাধিক যানবাহনে পুলিশের তল্লাশি চোখে পড়েছে। সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের এক্ষেত্রে তৎপরতা বেশি। শনিবার দিনগত রাত ২টার দিকে নগরীর শিববাড়ি, কেডিএ এভিনিউ ও ময়লাপোতা মোড়ে প্রাইভেটকারে পুলিশের নগজরদারী চোখে পড়ে। এসময় দায়িত্বরত সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমতাজুল হক জানান, রাতে শহরে প্রাইভেটকারের আনাগোনা বেশি হচ্ছে। তাই নজরদারী করছি। অধিকাংশ গাড়ির পেছন ছিটে কালো গ্লাস থাকায় বোঝার উপায় থাকে না। আবার দিনের বেলায় এসব গাড়িতে তল্লাশি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, আবাসিক হোটেলের অভিযোগ সত্য। নগরীর কয়েকটি হোটেলে আমরা অভিযান চালিয়ে একাধিক মাদক বিক্রেতাকে মাদকসহ গ্রেফতার করেছি। বর্তমানে অভিযান চালিয়ে যাদের ধরা হচ্ছে তারা সকলেই ব্যবসায়ী। আগে যেমন অহরহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অল্প পরিমাণ মাদকসহ বিক্রেতাদের গ্রেফতার করা হতো। এখন খুচরা বিক্রেতা তেমন ধরা পড়ে না। যারা ধরা পড়ছে তাদের কাছে বেশি পরিমাণে মাদক পাওয়া যাচ্ছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, গাড়িতে মাদক সেবন ও বিক্রির বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। সন্দেহজনক গাড়িগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম চলবে। সোর্সদের বিষয়ে নজরদারী বাড়ানো হবে। মাদকের সাথে জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, নগরীতে নিয়মিত অভিযানের ফলে মাদকের বিক্রি ও ব্যবহার কমেছে। কঠোর নজরদারীর কারণে তারা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

ট্রেনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত : অভ্যন্তরীন নৌযানের সার্ভে, রেজিষ্ট্রেশন, নৌযানের নামকরণ, নৌযানের নকশা অনুমোদন এবং ইনল্যান্ড শিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অনলাইনের আওতাভূক্ত করার লক্ষ্যে এক ওয়ার্কসপ এন্ড ট্রেনিং প্রোগ্রাম গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারকের কার্যালয়, খুলনা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি কাজি আমিনুল হক। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম (ট্যাজ), এনডিনি, পিএসসি, বিএন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের সহ-সভাপতি শেখ জালাল উদ্দীন রুবেল ও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল কবির। 

অনুষ্ঠানে নৌযান মালিক, ম্যানেজার, শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড, বিল্ডার্স, নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক, ম্যানেজার ও প্যানেল সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা অভ্যন্তরীন নৌযানের সার্ভে, রেজিষ্ট্রেশন, নৌযানের নামকরণ, নৌযানের নকশা অনুমোদন এবং ইনল্যান্ড শিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অনলাইনের আওতাভূক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ