ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের চলতি বাজেটের ৪২ ভাগই অর্জন হয়নি

খুলনা অফিস : বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা কমছে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি)। বিদায়ী অর্থবছরে (২০১৭-১৮) বাজেটের ৪২ ভাগই অর্জন করতে পারেনি সংস্থাটি। আগের অর্থ বছরগুলোর চিত্র একই।

উন্নয়ন কর্মীরা বলছেন, বাজেট নিয়ে জবাবদিহিতার অভাব এবং অপ্রতুল বরাদ্দের কারণেই মূলত বাজেট বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এরপরও বড় আকারের বাজেট ঘোষণার প্রথা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না কেসিসি। চলতি অর্থবছরের জন্যও ৬৪২ কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তুতির কাজ করছে সংস্থার বাজেট শাখার কর্মকর্তারা। কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের আগে বাস্তবায়নকে গুরুত্ব না দিয়ে আকার বড় দেখিয়ে ঘোষণা হতো কেসিসির বাজেট। যার ৫০ ভাগও বাস্তবায়ন হতো না। ২০০৯ সালে অনিয়ন্ত্রিত বাজেট ঘোষণার রাশ টেনে ধরেন সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। এরপর থেকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাজেটের ৭৩ শতাংশ, ২০১-১১ অর্থবছরে ৯৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১০১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ৮১ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরেও বাজেটের ৮৬ দশমিক ১৯ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।

সূত্রটি জানায়, ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান  মেয়র নির্বাচিত হলে এর ছন্দপতন ঘটে। অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে বাজেটের অর্ধেকই বাস্তবায়ন হয়নি। এরমধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫৬ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭১ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৬ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং সদ্য বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। কেসিসির বাজেট শাখার কর্মকর্তারা জানান, বাজেটে সরকারি অনুদান ও বিদেশী সাহায্য যা’ পাওয়ার কথা বিগত ৫বছর তার অর্ধেকও পাওয়া যায়নি। বাজেট শুরুর আগে সবাই অর্থ ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দেন কিন্তু বছর শুরুর পর দেখা যায় তারা টাকা ছাড় করাতে গড়িমসি করছেন। এজন্যই বাস্তবায়নের হার কমে যায়। বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটের কথা উল্লেখ করে তারা জানান, বিদেশি দাতা সংস্থার অনুমোদিত বিএমডিএফ প্রকল্পে ১১০ কোটি, নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প-২ এ ৬০ কোটিসহ দাতা সংস্থার কাছ থেকে মোট ১৮৮ টাকা পাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু পাওয়া গেছে মাত্র ৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিএমডিএফ এক টাকাও ছাড় করেনি।

একইভাবে সরকারি অর্থায়নে চলা দু’টি প্রকল্পে ৯৭ কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু পাওয়া গেছে ৬৫ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে। এ কারণে বাজেট বাস্তবায়ন করা যায়নি।

বিদায়ী বছরের সংশোধনী বাজেট তৈরি করেছেন সদ্য প্রয়াত কেসিসির সাবেক বাজেট কাম এ্যাকাউন্ট অফিসার কাজী জাকিরুল ইসলাম। বাজেটের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখা তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ২১ জুলাই তিনি আকস্মিক মারা গেছেন। তার অবর্তমানে বাজেট শাখার কার্যক্রম এখন বন্ধ রয়েছে।

কেসিসির বাজেটের বিষয়য়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়ে কেসিসির জনপ্রতিনিধিদের কোনো জবাবদিহিতা করতে হয় না। এজন্য অর্ধেক বাস্তবায়ন না হলেও প্রতিবছর বাজেটের আকার বেড়ে যায়। তিনি বলেন, সঠিক জবাবদিহিতার আওতায় আসলে এই সমস্যা থাকবে না বলে আশা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার ও দাতাসংস্থাদের কাছ থেকে অর্থ পেতে দেরি হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা স্থায়ী কমিটি এখনো কোনো বাজেট জমা দেয়নি। তারা প্রস্তাবনা নিয়ে বাজেট জমা দিলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ