ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভাঙন আতঙ্কে খুলনা ও সাতক্ষীরার মানুষ

খুলনা অফিস : অব্যাহত নদী ভাঙনে খুলনা এবং সাতক্ষীরার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে । ভাঙন আতঙ্কের মধ্যেই বসবাস করছেন এ দুই জেলাবাসী। এদিকে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলেও অর্থসংকটে বেড়িবাঁধ মেরামত করতে পারে না পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবে)। চাহিদার ১০ ভাগের এক ভাগ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয় বলে জানিয়েছেন পাউবো কর্তৃপক্ষ। গেল অর্থ বছরে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বেড়িবাঁধ রক্ষায় অর্থ বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৯ কোটি টাকা। আসন্ন বর্ষা মওসুমে বেড়িবাঁধের অধিকাংশই ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করেছেন ভুক্তভোগীরা। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-১’এর নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিক বলেন, ‘তার বিভাগের আওতায় প্রায় ৩শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২শ’ কিলোমিটারই ঝুঁকিপূর্ণ। আর ৪০ কিলোমিটারের মত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। জোড়শিং, প্রতাপনগর, কুড়িকাহুনিয়া, বিছটেসহ কয়েকটি জায়গায় ইতোমধ্যে একাধিকবার ভেঙে গেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় রিং বাঁধ দিয়ে মেরামত করা হয়েছে’। 

তিনি আরও বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো মেরামতে প্রায় ১শ’ কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ গেল অর্থ বছরে বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। এরমধ্যে বিগত অর্থ বছরের বকেয়া ছিল ছিল ২ কোটি টাকা। তাহলে দুই কোটি টাকা দিয়ে কিভাবে মেরামত করা সম্ভব!’ বেড়ি বাঁধ না ভাঙলে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় না বলে তিনি জানান। পাউবো’র সূত্রটি জানিয়েছে, সংস্থাটির খুলনা-১ এর অধীনে ৩৬৫ দশমিক ২৪ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ রয়েছে। সংস্কারের অভাবে অন্তত ১০৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অবস্থা জরাজীর্ণ। পাউবো খুলনা-২ এর অধীনে ৫১০কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে সাতক্ষীরা পাউবো’র আওতায় প্রায় ৮শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে আড়াইশ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধই ঝুঁকিপূর্ণ।

পাউবো খুলনা-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের বর্ণনা ও সংস্কার ব্যয় সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছি। এর মধ্যে বটিয়াঘাটার বারো আড়িয়া, দিঘলিয়ার বরাকপুরের প্রায় ১০ কিলোমিটার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনীয় অর্থ না পাওয়ায় সংস্কার করতে পারছি না’। পাউবো খুলনা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, ‘প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা নিয়মিত নজর রাখছি। বরাদ্দ কম থাকায় মেরামত করা সম্ভব নয়। এ অর্থ বছরে মাত্র ১ কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। যা দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়’। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী এবং কয়রা সদর ইউনিয়নের গাবুরা ইউনিয়নের প্রায় ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকির মুখে। শাকবাড়িয়া এবং কপোতাক্ষ নদের ভাঙনে এ দুই ইউনিয়নের মানচিত্র বদলে গেছে। শত শত পরিবার ভিটে ছাড়া হয়েছেন। অপরদিকে আশাশুনি ও শ্যামনগরের প্রতাপনগর, আনুলিয়া, গাবুরা, চাকলা, শ্রীপুর ও কুড়িকাহুনিয়া, হরিষখালী ও বিছটে এলাকার ভাঙন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজউদ্দিন বলেন, কয়রা ইউনিয়নসহ উপজেলার অধিকাংশ বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে। বাঁধ মেরামতের বিষয় নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা হয়নি। এ ব্যাপারে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল হক বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার রাস্তা-ঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের আমি জানিয়েছি। বরাদ্দ দেয়ার জন্য আমি মন্ত্রণালয়েও কথা বলেছি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি বেড়িবাঁধ মেরামতে কাজ হবে’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ