ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সাতটি শখ

অনেকেই শখ করে বাগান বা খেলাধুলা করেন কিংবা গান গেয়ে থাকেন। এ রকমই কিছু হবি বা শখ সম্পর্কে জেনে নিন, যেগুলো শুধু আনন্দই দেয় না, নানা রোগ সারাতে ওষুধের মতো কাজ করে।
বাগান করা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়
দিনে মাত্র ৩০ মিনিট বাগানে কাজ করলে ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা যেমন কমায়, তেমনি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমায় শতকরা ৩০ ভাগ। এই তথ্য জানা যায়, স্টকহোমের ক্যারোলিন্সকা ইন্সটিটিউটের করা এক সমীক্ষার ফলাফল থেকে।
নাচুন, আনন্দে থাকুন
সালসা, ট্যাঙ্গো কিংবা ফ্রি স্টাইল নাচ- যে নাচই হোক না কেন, সপ্তাহে তিন দিন মাত্র ২০ মিনিটের নাচ মনকে যেমন ভালো রাখে, তেমনি শরীরের ভারসাম্যকেও ঠিক রাখে।
তাছাড়া নাচের নতুন নতুন মুদ্রা শেখার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কের নার্ভে বিশেষ কোষ তৈরি হয়, যা মস্তিষ্ককে সচল রাখে। আরো আছে। নিয়মিত নাচ ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায় শতকরা ৭৬ ভাগ।
ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ‘উল’ বুনুন
উল বোনা এমন এক বিশেষ থেরাপি, যা কিনা যে কোনো দুশ্চিন্তা বা ব্যথাকে ভুলে থাকতে সাহায্য করে। যাঁদের নিয়মিত ব্যথা হয়, তাঁরা নিয়মিত উল বুনলে তা ব্যথাকে ধীরে ধীরে কমে যেতে সাহায্য করবে। শুধু তাই নয়, উল বোনায় ডিপ্রেশনও কমে শতকরা ৫৪ ভাগ। একটি ব্রিটিশ গবেষণার ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
খেলাধুলা ও ব্যায়াম
খেলাধুলা বা ব্যায়াম একজন মানুষকে তরুণ রাখে, এ আর নতুন কী! তবে নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যয়াম শরীরকে সচল রাখা ছাড়াও মেনোপজ বা হট ফ্লাশের সমস্যাকেও দূরে রাখে। তাছাড়া ঘুমের সমস্যা, মাথা ব্যথা, মেজাজ ওঠা-নামা এমনকি হাড়ের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়াকেও দমন করে নিয়মিত শরীরচর্চা।
প্রাণী পোষা
বাড়িতে কুকুর, বেড়াল, মাছ, কচ্ছপ বা পাখির মতো ছোট প্রাণী পুষলে বা দেখাশোনা করলে মানুষের আয়ু দশ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে এমন তথ্য অনেক আগেই এসেছে গবেষণা থেকে। বাড়িতে পোষা প্রাণীকে আদর করার মধ্য দিয়ে ‘সুখ হরমোন’ বেড়ে যায় এবং উচ্চ রক্তচাপ কমে।
‘গান’ ভয় ও ডিপ্রেশন দূরে রাখে
সবাইকে যে গায়ক-গায়িকা হতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। ঘর গোছানো, বাসন ধোয়া কিংবা কাপড় ইস্ত্রি করার সময়ও মনের সুখে গান গাইতে পারেন যে কেউ। আর বাথরুম সিঙ্গার তো অনেকে আছেনই। গান গাওয়ার সময় শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়। এবং শরীরের প্রোটিন অণুগুলো তখন সক্রিয় হয়ে ওঠে। যার ফলে ভয় ও ডিপ্রেশন দূরে সরে যায়।
কার্ডিফের টেনোভাস ক্যানসার কেয়ারের করা এক সমীক্ষা থেকে জানা গেছে এই তথ্যটি।
ডায়েরী লিখতে পারেন
আপনার কি ডায়েরী লেখার অভ্যাস আছে? সারাদিনের দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ সবকিছু যদি ডায়েরীতে লিখে রাখেন এবং পরে সে লেখা পড়েন, তাহলে কেটে যাওয়া ক্ষত বা অপারেশনের ক্ষতও তাড়াতাড়ি সেরে যেতে পারে।
এবং ডায়েরী লেখা স্ট্রেসের মাত্রা কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহযোগিতা করে। ডায়েরী লেখার উপকারিতা নিয়ে এই গবেষণাটি করেছিল নিউজিল্যান্ডের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়।
-ডয়চেভেলে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ