ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আটলান্টিক জয় করে প্রশান্ত জয়ের স্বপ্ন

বেন লর্কতের নাম শুনেছেন। সাঁতারের সম্পর্কে আগ্রহী মানুষজনের কাছে এই নামটি খুব একটা অপরিচিত নয়। আর নেপথ্যের কারণটাও বেশ চমকপ্রদ। তিনি প্রথম ব্যক্তি, যিনি সাঁতার কেটে পার হয়েছিলেন আটলান্টিক মহাসাগর। ১৯৯৮ সালে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার জলপথ পুরোটা সাঁতরে পার হয়েচিলেন।
স্বাভাবিকভাবেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল তার খ্যাতি। কেননা আটলান্টিক সাঁতরে পার হওয়া মোটেও সহজ কথা নয়, বিশ্বের বিপদসংকুল মহাসাগরের চেয়ে বড় একটি অভিযানের জন্য তিনি তৈরি হচ্ছিলেন, আর তা হলো ৯ হাজার কিলোমিটারের প্রশান্ত মহাসাগরে সাঁতার কেটে পুরোটা জয় করা। বর্তমানে লর্কতের বয়স ৫১, আদতে ফ্রান্সের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে থাকছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং সেই অভিযান তিনি শুরুও করে ফেলেছেন। এই বয়সেও তার আত্মবিশ্বাস আর উদ্যম দেখলে অবাক হতে হয়। জাপানের চৌাসি উপকূল থেকে ইতিমধ্যেই তিনি সাঁতার কাটতে শুরু করেছেন। প্রত্যহ নয় নয় করে আাট ঘন্টা করে সাঁতার কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পথ তিনি পাড়ি দেবেন। আটলান্টিকের থেকেও এর আয়তন বেশি আর সে জন্যই পুরো প্রশান্ত মহাসাগরটা সাঁতার কাটতে সময় লাগবে প্রায় ছয়মাস, তার বেশিও লাগতে পারে। এই বয়সে তার আত্মবিশ্বাস ও উদ্যম দেখে সকলেই অবাক।
লর্কতে তার সাঁতার শুরুর আগেই জানিয়েছিলেন যে, এবারের অভিযান আগের থেকে অনেক বেশি ভয়াবহ। কেননা তাকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে দানবাকৃতি হাঙরের আক্রমণ, জেলিফিশের উপদ্রব, বরফঠান্ডা জল, কখনও বা কোনও রকম আগাম পূর্বাভাস ছাড়াই প্রবল সামুদ্রিক ঝড়। তবে পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, তিনি এই অভিযানটি একেবারেই নিজের রেকর্ড করার জন্য করছেন না, বরং এর পেছনে রয়েছে সচেতনমূলক কর্মসূচি। জনসচেতনতা তৈরির মহান উদ্দেশ্য নিয়ে লর্কত ৫১ বছর বয়সেও এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। বিজ্ঞানীদের একটি দল লর্কতের অভিযানের সময়ে সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্যরে প্রভাব, অতিরিক্ত ব্যায়ামের জন্য মানুষের হৃদপিন্ড কিভাবে রেসপন্স করছে, ফুকুশিমার পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ সমুদ্রে কি ক্ষতি করেছে, তার পরীক্ষা করে নানারকম বিচার বিশ্লেষণ করবেন।
তবে প্রশান্ত মহাসাগরের অভিযান একদিনেই হয়নি, তার আগে ছয়মাস ধরে তাকে কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। খোলা জলাশয়ে একদিকে যেমন সাঁতারের আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো শিখতে হয়েছে, তেমনি কিভাবে আচমকা এসে পরা প্রতিক’ল পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন, তাও শিখতে হয়েছে। সে জন্যই লর্কত অকপটে স্বীকার করেছেন, এইসব অভিযানে যতটা না শারীরক শক্তি লাগে, তার চেয়ে অনেক বেশি মানসিক জোর প্রয়োজন। সবসময় নিজেকে ইতিবাচক চিন্তার মধ্যে বেঁধে রাখতে হবে।’১৯৯৮ সালে যখন আটলান্টিক জয় করেছিলেন, তখন তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিযানে শুরু করে ফ্রান্সে গিয়ে শেষ করেছিলেন।
তারপরেও ভেবেছিলেন আর অভিযানে করবেন না। কিন্তু রক্তে সাঁতারের নেশা, তাই সিদ্ধান্ত বদলাতে খুব একটা দেরি হয়নি। তখনই মনে মনে ঠিক করেন, প্রশান্ত মহাসাগর পেরোবেন। তার ভাষায়, তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত পালটে পরবর্তী অভিযানের সংকল্প করেছিলাম।’ প্রশান্ত মহাসাগর ঠিকঠাকমত সাঁতরাতে পারলে লর্কতেই হবেন বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি, যিনি আটলান্টিক ও প্রশান্ত দুটি বিপজ্জনক মহাসাগরই জয় করেছেন। এই অভিযান ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে শেষ হওয়ার কথা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ