ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাঁশখালীর সমুদ্র সৈকত হতে যাচ্ছে পর্যটন স্পট

বাঁশখালীর সমুদ্র সৈকত হতে যাচ্ছে নতুন পর্যটন স্পট -সংগ্রাম

মোঃ আব্দুল জব্বার, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপজেলার বাহারচড়া উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত নিয়ে অবশেষে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাঁশখালী পানি ও অর্থ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। বাঁশখালীর উপকূলীয় সুদীর্ঘ ৩৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন স্পটে রূপান্তরিত করার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত মন্ত্রী বরাবরে লিখিত আবেদনে তিনি বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্র উপকূলে পর্যটন স্পট হিসাবে গড়ে তোলার সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা এবং বর্তমানের প্রতিদিন অসংখ্যা পর্যটকের আনাগোনা থেকে সার্বিক বিষয়ে তুলে ধরেন। এদিকে বাঁশখালীর উপকুলীয় সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন স্পট হিসাবে স্বীকৃতি বাস্তবায়নের জন্য ইসলামী ছাত্রসেনা, সার্ক মানবাধিকার সংগঠনসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন মানববন্ধন করে এবং পর্যটন স্পট বাস্তবায়নের সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন উপকূলকে পর্যটন স্পট স্বীকৃতি দিলে পাল্টে যাবে বাঁশখালীবাসীর দৃশ্যপট। উল্লেখ্য বাঁশখালীর উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত দিন দিন সাধারণ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
তাই প্রতিদিন সকালে অথবা বিকেলে অসংখ্য লোকের আনাগোনায় মুখরিত থাকে উপকূলীয় এলাকা। সম্প্রতি শেষ হওয়া ঈদে এত বেশি পর্যটকের আনাগোনা ছিল যা চোখে পড়ার মত। বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া, গন্ডামারা ও ছনুয়া বঙ্গোপসাগর অংশে সারি সারি ঝাউবাগান যে কারো নজর কাড়ে। সবচেয়ে বেশী লোকের আনাগোনা হয় বাহারছড়ার রত্নপুর ও কদমরসুল অংশে। বর্তমানে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। এই বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটন স্পটে রূপান্তরিত করলে সরকার রাজস্ব সহ বহুমুখী লাভবান হবে এমনকি কক্সবাজারে যে পর্যটকদের চাপ তা থেকে চট্টগ্রামের পর্যটকরা বাঁশখালী অংশে এসে কক্সবাজারের স্বাদ নিতে পারবে।
বাঁশখালীর উপকূলীয় সুদীর্ঘ ৩৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সমুদ্র সৈকত বিস্তৃত। সারি সারি ঝাউবাগান ও বিস্তৃর্ণ সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক হাওয়া উপভোগ করতে এখানে প্রতিনিয়ত পর্যকটদের আনাগোনা দেখা যায়। বর্তমানে আনন্দ ভ্রমণ কিংবা পিকনিক স্পটের বিকল্প হিসেবেও পর্যটকরা বেছে নিয়েছে এ অঘোষিত পর্যটন স্পটকে।
বাঁশখালীর পূর্ব দিকে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে পাহাড় এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী উপকূলীয় সুদূর প্রসারী সমুদ্র চর। এছাড়া বাঁশখালী ইকোপার্ক ও চা বাগানে প্রতিনিয়ত দর্শকদের আনাগোনা মুখর থাকে। তার সাথে সাথে উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে বাঁশখালী হবে একটি পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকা। বর্তমানে বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতের সড়কগুলো সংস্কার করা হলে ও চা বাগানে ও বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা মো: জামাল উদ্দিন জানান এখানে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা যে পরিমাণ লোক বেড়াতে আসে মনে হয় এটা অঘোষিত কক্সবাজার। সরকার পদক্ষেপ নিলে তা সাধারণ জনগণের অনেক উপকার সাধন হবে এবং ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। বাহারছড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো: ওসমান, এমরানুল হক সোলতান, ও মো:এবাদুল হক বলেন বর্তমানে বেড়িবাঁধের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তার সাথে যদি পর্যটন স্পটের কার্যক্রম গ্রহণ করে সরকার তাহলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে পাশাপাশি বাঁশখালীও । উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটন স্পট করার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন সকাল বিকাল যে পরিমাণ দর্শক এখানে আসে তাতে মনে হয় এটা একটা বিকল্প কক্সবাজার। জনগণের উৎসাহ উদ্দীপনা দেখে বাঁশখালীর উপকূলজুড়ে পর্যটন স্পটে রূপান্তর করার জন্য বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত মন্ত্রী বরাবরে ডিও লেটার প্রদান করেছে। আশা রাখি তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। তিনি আরো বলেন বর্তমানে যে হারে পর্যটক প্রতিদিন আনাগোনা করছে তাতে মনে হয় এটা বিকল্প কক্সবাজার।
তিনি বনবিভাগসহ সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয় যদি উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে জনপ্রতিনিধি হিসাবে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করব বলে তিনি জানান। বাঁশখালীর উপকূলীয় সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন স্পটে রূপান্তরিত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাঁশখালীর সর্বত্র পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠুক সেটা আমার প্রত্যাশা। তাই বিগত দিনে বাঁশখালী ইকোপার্কের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। চা বাগান সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে ও কাজ শেষ হয়েছে। আমি বাঁশখালীর উপকূলজুড়ে পর্যটন স্পটে রূপান্তর করার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত মন্ত্রী বরাবরে ডিও লেটার প্রদান করেছি এবং ব্যক্তিগত ভাবে আলাপও করেছি যাতে অচিরেই এ কাজ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা সরকারে আন্তরিকতায় বাঁশখালীর সাগর উপকূল অচিরেই আকর্ষণীয় পর্যটন র্স্পট এ পরিণত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ