ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রায় এক যুগ ধরে পরিত্যক্ত স্যাঁতসেঁতে ভবনে বসবাস করছে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ

এস এম শামীম, আগৈলঝাড়া (বরিশাল): বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জনগনের জান মালের নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে থাকা পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরাই চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে  বসবাস করছেন পরিত্যাক্ত আবাসিক ভবনে। গত এক যুগ যাবত উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে অগনিত আবেদন-নিবেদন আর উর্ধতন কর্মকর্তাদের চিঠি চালাচালির মধ্যে সময় কাটলেও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ওসি (তদন্ত)সহ পুলিশ কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের বরাদ্দ প্রদান করেনি।
থানার একাধিক দ্বায়িত্বশীল সূত্র নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, থানার প্রশাসনিক মুল ভবনের মধ্যে অস্ত্রাগার কক্ষে ছাদের পলেস্তার ধ্বসে পড়ছে, বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে কক্ষে। মালখানায় পানি পড়ে নষ্ঠ হওয়ার উপক্রম বিচারাধীন মামলার গুরুত্বপূর্ন আলামত। থানার উপরে ব্যারাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের রান্না ঘরটি অনেক আগে থেকেই পরিত্যাক্ত। থানায় ১জন ওসি, ৭জন এসআই, ৮জন এএসআই, ২৪জন ফোর্সসহ মোট ৪১জন কর্মরত থাকলেও থানায় অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৩৮জন। অফিসার ও পুলিশ সদস্যরা সারাদিন ডিউটি শেষে রাতে ঘুমাতে গেলে বিছানায় বৃষ্টির পানি গায়ে পরে আঁৎকে ওঠেন। ঝড় বৃষ্টির সময় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাদের।
সূত্র আরও জানায়, ১৯৮৪ সালে থানার প্রশাসনিক ভবন ও অফিসারদের জন্য একটি আবাসিক ভবন নির্মান করা হয়। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ওসি (তদন্ত)র জন্য আলাদা আবাসিক ভবন নির্মানের নিয়ম থাকলেও ৩৪ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। থানা চত্তরে নির্মিত আবাসিক ভবনে ছয়টি পরিবার বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে নির্মানের ফলে অচিরেই ভবনটি জীর্ণ হয়ে পরিত্যাক্ত হয়ে পরে। সূত্র আরও জানায়, ভবন নির্মানের সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ থেকে থানার প্রশাসনিক ভবনে বাথরুমের কোন ডিজাইনই করা হয়নি।
কিভাবে দেশে বাথরুম বিহীন সকল থানার প্রশাসনিক ভবনের এই ডিজাইন অনুমোদন হয়েছে তার কোন উত্তর মেলেনি কোথাও। ফলে ব্যারাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের বাথরুম সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে। থানা পুলিশ নিজস্ব উদ্যোগে বাথরুমের ব্যবস্থা করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নগন্য। প্রশাসনিক ভবন নির্মানের পর দু’একবার সংস্কার হয়েছে মাত্র।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আঃ রাজ্জাক মোল্লা পুলিশের আবাসিক সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জুলাই মাসের কল্যাণ সভায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশাসনিক ভবন সংস্কার, আবাসিক ভবন নির্মান ও পুলিশ সদস্যদের জন্য পৃথক ব্যারাক হাউস নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ