ঢাকা, বুধবার 1 August 2018, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বরিশালে সবজির বাজার চড়া : পাইকারি ও খুচরা দামের অনেক তফাত

বরিশাল : বাজারে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা রকম সবজি

শাহে আলম (বরিশাল) থেকে: বরিশালের বাজার গুলোতে শব্জির দাম চড়া। পাইকারী ও খুচরা বাজরে দামের তফাত অনেক। কাঁচামাল পাইকারী বিক্রেতারা পরিবহন খরচ ও আমদানী কম থাকার ওজুহাত দিচ্ছ্ েআর খুচরা বিক্রেতারা মালে ঘাটতি হওয়ার অযুহাত দিয়ে দাম হাকাচ্ছেন উচ্ছেমত।
খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ কেজি ১৮০-২০০ টাকা, করল্লা ৫০-৭০ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারে এই দুই পণ্যের দাম যথাক্রমে ১০০ ও ১২ টাকা। মাঝখানে আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই এক বাজার থেকে আরেক বাজারে এসে দাম দ্বিগুণ, কোনো কোনো সবজির ক্ষেত্রে তিন-চার গুণ বেশি হয়ে যায়। পাইকারি বাজার আর খুরচা বাজার ভ্রাম্যমাণ সবজির ভ্যান ও বেশ কিছু বাজার ঘুরে দামের এই তফাত পাওয়া যায়।
বাজারে সাধারণত রাত ১০টার পর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত পাইকারি কেনাবেচা চলে। দিনের বেলায়ও পাইকারি বিক্রি হয় তবে সেটা রাতের দামে নয়। রাতের বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারের দামের সঙ্গে পাইকারি সবজির দাম আকাশ-পাতাল তফাত। খুচরা বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ পাইকারি মূল্য ৫০০ টাকা পাল্লা। অর্থাৎ কেজি ১০০ টাকা। আর করলার পালা ৬০ টাকা, কেজি হিসেবে দাম পড়ে ১২ টাকা। খুচরা বাজারে এই কলার দাম প্রায় পাঁচ গুণ।
একই অবস্থা অন্যান্য সবজির বেলায়ও। পাইকারি বাজারে শসা কেজি ১০-১৫ টাকা; বেগুন (লম্বা), বরবটি, কচুর মুখী ২০-২৫ টাকা; গোল বেগুন ২০ টাকা; পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা ১৪-১৬; মুলা ২০ টাকা। টমেটো ৭৫-৮০ টাকা। সদ্য ওঠা সিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে এসব সবজির দাম দ্বিগুণের বেশি। খুচরা বাজারে শসা কেজি ৫০-৬০ টাকা, বেগুন (লম্বা), বরবটি ৬০ টাকা, কচুর মুখী ৫০-৫৫ টাকা, গোল বেগুন ৫০ টাকা; পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা ৪০-৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা। টমেটো ১০০-১২০ টাকা। সিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকায়।
এসব পণ্য প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে কাকরোল, ঝিঙা, উস্তা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি কচুর লতি ৫০-৬০ টাকা, ধনিয়া ও পুদিনাপাতা ১০০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০-৩৫ টাকা, কাঁচা কলা হালি ২৫-৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া প্রতিটি ৮০-১০০ টাকা, প্রতি টুকরা (একটি কুমড়াকে ছয় টুকরো) ১৫-২০ টাকা, চালকুমড়া প্রতিটি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পাইকারি ফল বিক্রি হতে দেখা গেছে লেবু ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকা হালি দরে, আমড়া ৩০ টাকা কেজি, পেয়ারা ২০ টাকা কেজি, কাঁঠাল প্রতিটি ৩০-২৫০ টাকা, কাঁচা হলুদ ৫০ টাকা কেজি। খুচরা বাজারে ২৫ টাকা হালির কমে মিলছে না লেবু।
আমড়া ৫০-৬০ টাকা কেজি, পেয়ারা ৩০-৪০ টাকা। কাঁচা হলুদ ১০০-১২০ টাকা কেজি। কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। দেড়শো টাকার নিচে মিলছে না মাঝারি এই মৌসুমী ফল।
এদিকে ঈদুল আজহা সামনে রেখে এখনই বাড়তে শুরু করেছে মশলা ও মশলা জাতীয় পণ্যের দাম, যার প্রভাব দেখা গেছে পাইকারি বাজারেও। দেশি পেয়াঁজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা কেজি দরে, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ টাকা, ক্যাপসিকাম ২৩০ টাকা কেজি, দেশি আদা ৭০ টাকা, আদা চাইনিজ ৮০ টাকা, দেশি রসুন ৪৪ টাকা কেজি, বিদেশি ৪৬ টাকা। খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা দরে, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা। ক্যাপসিকাম ২৬০-৩২০ টাকা কেজি, দেশি আদা কেজি ১০০ টাকা, আদা চাইনিজ ১১০-১২০ টাকা কেজি, দেশি রসুন ৮০-৯০ টাকা কেজি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ