ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 August 2018, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এক কলমের খোঁচায় রাষ্ট্রহীন ৪০ লাখ মানুষ

১ আগস্ট, আনন্দবাজার, এনডিটিভি : এক কলমের খোঁচায় ৪০ লাখ মানুষকে রাষ্ট্রহীন করে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল এমপি সুখেন্দ শেখর রায়। ভারতের অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে (এনআরসি) ৪০ লাখ মানুষের নাম থাকা প্রসঙ্গে তিনি গত মঙ্গলবার সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ওই মন্তব্য করেন। সুখেন্দু বাবু বলেন, ‘গত ছয় মাস আগে সরকারি হিসাবে আসামে দুই লাখ চল্লিশ হাজার লোককে ‘ডি-ভোটার’ বা সন্দেহজনক ভোটারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার সংখ্যাটা কীভাবে, কোন জাদুবলে, কোন মায়াবলে, চল্লিশ লাখে পৌঁছল তা আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশালসংখ্যক মানুষকে আসলে রাষ্ট্রহীন করা হচ্ছে। যেভাবে এক কলমের খোঁচায় চল্লিশ লাখ মানুষকে রাষ্ট্রহীন করে দেয়া হয়েছে, তা আজ পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে কোথাও কখনো ঘটেনি।’সুখেন্দু বাবু এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে বিবৃতি দেয়ার দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসঙ্ঘ সনদ, যেখানে ভারত সই করেছে, ১৯৫১ সালের, ১৯৬৭ সালের জাতিসঙ্ঘের প্রোটোকল এবং ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘের যে প্রস্তাব নেয়া হয়েছিল তাতে ভারত সই করেছে। নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন লঙ্ঘিত হয়েছে। এদিকে, গতকাল বুধবার বেলা ১১ টায় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হলে চেয়ারম্যান এম বেঙ্কইয়া নাইডু সবাইকে শান্ত থেকে সভার কাজ চালানোর জন্য সহায়তা করার আবেদন জানান।

এদিকে মঙ্গলবার এনআরসি ইস্যুতে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সরকারকে চেপে ধরার চেষ্টা করেন। সরকারপক্ষে বিজেপি সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য অমিত শাহের মন্তব্যে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। অমিত শাহ বিরোধী কংগ্রেস সদস্যদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আসমে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণের উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন রাজীব গান্ধী সরকার। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পঞ্জি কার্যকর করার মতো সাহস তিনি দেখাতে পারেননি। কংগ্রেসের ক্ষমতা ছিল না ওই ব্যবস্থা কার্যকর করার। আমাদের হিম্মত আছে বলে আমরা তা করেছি।’অমিত শাহ বলেন, ‘সকলেই ৪০ লাখ, ৪০ লাখের দোহাই দিচ্ছেন। আমি জানতে চাই এই ৪০ লাখের মধ্যে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী কত? আপনারা কাদের বাঁচাতে চাচ্ছেন? আপনারা বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে চাচ্ছেন?’অমিত শাহের ভাষণ দেয়ার সময় বিরোধীরা নিজ নিজ আসন ছেড়ে চেয়ারম্যানের আসনের সামনে ওয়েলে নেমে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। চেয়ারম্যান এম বেঙ্কইয়া নাইডু বিরোধী সদস্যদের আসনে ফিরে যাওয়া এবং বারবার শান্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানালেও ক্ষুব্ধ সদস্যরা তাতে কান দেননি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এ সংক্রান্ত বিবৃতি দিতে পারেননি। অবশেষে পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় গতকাল দিনভর অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান।রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেসের সিনিয়র এমপি গুলামনবী আজাদ তার ভাষণে বলেন, ‘আমাদের কোনো নাগরিককে জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে বের করে দেয়া উচিত নয়। এটা মানবাধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়। এনআরসি’কে রাজনীতিকরণ ও ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এটা হিন্দু-মুসলিমের বিষয় নয়।’সমাজবাদী পার্টির এমপি রামগোপাল যাদব বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী দেশের যেকোনো অংশে মানুষ বাস করতে পারে। কিন্তু এনআরসি তালিকায় বিহার ও উত্তর প্রদেশের হিন্দু-মুসলিম সকলের নাম কাটা হয়েছে, তারা এখন কোথায় যাবে?’সিপিআইয়ের এমপি ডি রাজা বলেন, ‘ওই সিদ্ধান্তে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের মধ্যে প্রভাব পড়বে। সরকারকে এ ব্যাপারে সংসদ ও অন্য দলের মত নেয়া উচিত।’সংসদ চত্বরে তৃণমূল এমপিরা ওই ইস্যুতে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ