ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 August 2018, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ঠেকাতে তৎপর ফেসবুক

১ আগস্ট, ইন্টারনেট: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে ও মতবিরোধ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকারী ক্যাম্পেইন চালানো এই চক্রকে শনাক্ত করার দাবিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে তাদের রুখতে ফেসবুক ও ইনস্ট্রাগ্রামের ৩২টি পেজ ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এই কাজ করেছে ফেসবুক।

ফেসবুকের এসব পেজে ছড়ানো ভুল তথ্যের উৎস শনাক্ত করে তারও প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে সামাজিক মাধ্যমটি। বিষয়টি কংগ্রেস সদস্যদেরও অবহিত করা হয়েছে। এসব কংগ্রেস সদস্যের দাবি, এই প্রভাব বিস্তারের প্রচারণার কৌশল দেখে মনে হয়েছে এতে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট গোয়েন্দা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বলতে পারি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস এর সঙ্গে রাশিয়া জড়িত।’

গত মার্চ মাসে রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকার বিরুদ্ধে ফেসবুকের কয়েক কোটি গ্রাহকের তথ্যের অপব্যবহারের খবর প্রকাশ হয়। এ নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে। ঘটনার পর ফেসবুক কর্মকর্তারা গ্রাহক তথ্যে ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকার প্রবেশাধিকারের কথা স্বীকার করেন। তবে ফেসবুকের প্রতিশ্রুতি ছিল, ক্যামব্রিজের মতো আর কেউ একই ধরনের প্রবেশাধিকার পাবে না। এপ্রিলে তারা গ্রাহক তথ্যে অন্যের প্রবেশযোগ্যতা রুখতে তাদের ফিচারে কিছু পরিবর্তন আনার কথাও জানায়। এরপর থেকে ফেসবুকে নজরদারি জোরদার করে কর্তৃপক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার একটি প্রচারণা চালানো সংঘবদ্ধ দলের কথা পার্লামেন্ট মেম্বারদের জানিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সন্দেহজনক পেজ ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলো প্রতিষ্ঠানটি।

 ফেসবুক ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টার জন্য ফেসবুকে বিজ্ঞাপন পোস্ট করা ও কেনার মাধ্যমে একটি রুশ প্রোপাগান্ডা টিম কাজ করেছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ ১৩ জন রুশ নাগরিক ও পিটার্সবার্গভিত্তিক একটি ইন্টারনেট গবেষণা সংস্থার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনে। তবে রাশিয়া এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নতুন চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে দুইজন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স’কে বলেন, এই ফেসবুক প্রচারণার পেছনে রাশিয়ার জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তবে একজন বলেন, সদৃশ্যতা, উদ্দেশ্য ও কৌশলের দিক থেকে এটা ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার প্রচারণার মতোই।

প্রভাব বিস্তার ‍মূলক কার্যক্রম ও ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারা নিয়ে ফেসবুক বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এজন্য বন্ধ করার আগে ফেসবুক পেজগুলো আটলান্টিক কাউন্সিলের ডিজিটাল ফরেনসিক রিসার্চ ল্যাবে দেখানো হয়। ল্যাব বলেছে, পেজগুলোর ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে এর আগের ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সির ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলোর ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিল রয়েছে। ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে জনমত উসকে দেওয়ার জন্য অনেক ‘ট্রল’ করতো।

গবেষণা সংস্থাটি বলেছে, বন্ধ হওয়া পেজগুলো ভয়ঙ্কর কারণ এটা বিভিন্ন বিক্ষোভকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে ‘ইউনাইট দ্য রাইট টু’ আন্দোলনের বিরুদ্ধেও তারা জনমত তৈরি করছে যা সহিংসতা ডেকে আনতে পারে।

বন্ধ হওয়া একটি পেজের পরিচালক ব্রেডান ওরসিঙ্গার এক ভিডিও কলে রয়টার্স’কে বলেন, একজন তাকে পেজটি চালাতে সহায়তা করার অনুরোধ করেছিল। ওই ব্যক্তিকে তিনি শুধু ফেসবুকের মেসেজর মাধ্যমেই চেনেন। ওরসিঙ্গার বলেন, ‘মানুষ আমাকে না চিনলে তার অ্যাকাউন্ট চালাতে দিবে না। বিষয়টি নিয়ে আমি অবশ্যই উদ্বিগ্ন। কিন্তু একই সময় এই অ্যাকাউন্টটি আমি নিজে ব্যবহার করতে পারতাম।’ তিনি বলেন, ‘এখনও এক ডজনের বেশি পেজ এই কার্যক্রমকে সমর্থন করে চালানো হচ্ছে। তারা এখন বন্ধ হওয়া পেজগুলোর ফলোয়ারদের সঙ্গে আবারও যুক্ত হওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করে যাচ্ছে।’ ওরসিঙ্গার জানান, অ্যাকাউন্টটি তাকে রাশিয়ার সঙ্গে জড়িত করেছে কিনা তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে সহকারী অ্যাক্টিভিস্টসহ নিজের এমনভাবে প্রভাবিত হওয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হবেন।

 ফেসবুকের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ বলেন, ফেসবুকের মতাদর্শকে পাশ কাটিয়ে এভাবে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা ভণ্ডামি। তিনি একে ‘আমস রেস’ বা অস্ত্র প্রতিযোগিতা বলে অভিহিত করেন।

আর হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রশাসন ফেসবুকের পদক্ষেপ সহায়তা করবে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র গারেট মারকুয়িস বলেন, ‘মারাত্মক প্রভাবসহ সাইবার স্পেসে বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় আমরা আমাদের বেসরকারি খাতের অংশীদারদের লড়াইয়ের প্রশংসা করছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ