ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 August 2018, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যশোরে জুলাই মাসে ২১ খুন! জনমনে আতঙ্ক

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরে জুলাই মাসে ২১ জন খুন হয়েছেন গড়ে ৩৬ ঘন্টায় একজন করে খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বেশি নিহত হয়েছে ‘বন্দুকযুদ্ধে’। প্রতিরাত আতঙ্কে কাটছে যশোরবাসীর। এমাসে রেললাইনের ওপর থেকে দু’যুবকের খ-িত লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি ছিলো সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। তবে হতভাগ্য ওই দু’যুবকের পরিচয় আজও মেলেনি। এদিকে যশোর জেলায় খুন ও লাশ উদ্ধার বেড়ে যাওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জানাযায় ১জুলাই যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সলুয়া গ্রামে যৌতুকের বলি হন সেলিম বিশ্বাসের স্ত্রী বিজলী খাতুন। পরদিন ২ জুলাই গভীর রাতে সদর উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের রিপন হোসেন মাছ ধরে এনে স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে কাটতে বলেন। কিন্তু তিনি কাটতে রাজি না হওয়ায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন রিপন হোসেন। এরপর ৩ জুলাই রাতে চৌগাছা-যশোর সড়কের নিমতলায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন শহিদ মল্লিক নামে এক ব্যক্তি। তিনি বেনাপোলের কাগমারি গ্রামের শওকত মল্লিকের ছেলে। ৬ জুলাই রাতে যশোর শহরের শংকরপুর বাবলাতলায় সন্ত্রাসীদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন আকাশ নামে এক যুবক। তিনি ঘোপের যুবলীগ নেতা লিটন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামী ছিলেন। ১১ জুলাই মনিরামপুরের কোদলা জামতলা সড়কের পাশে সন্ত্রাসীদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন বাবলা নামে এক আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডার। তার বাড়ি সদর উপজেলার হাশিমপুরে। এর দু’দিন পর ১৩ জুলাই রাতে চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া বাজারের পাশে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন রতন হোসেন নামে এক যুবক। তার বাড়ি চৌগাছার দিঘলসিংহা গ্রামে। ১৫ জুলাই সদর উপজেলার পাগলাদাহ গ্রামে ফাতেমা বেগম নামে একজন গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের দাউদ হোসেনের স্ত্রী। পরদিন ১৬ জুলাই সকালে সদর উপজেলার শর্শুনাদাহ গ্রামে নয়ন হোসেন নামে এক কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের কারণে প্রেমিকার বাড়ির লোকজন আগেরদিন রাতে বাড়ি থেকে নিয়ে তাকে হত্যা করেছেন। ১৬ জুলাই দিনদুপুরে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মেহেরুন নেছা নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার লাশ বস্তাবন্দী করে রাখেন ইরাদ আলী নামে এক লম্পট। পরে সন্ধ্যারাতে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ইরাদ আলীকে ‘পিটিয়ে’ হত্যা করেন। ২৩ জুলাই যশোর সদর উপজেলা মথুরাপুর নতুনডাঙ্গায় রেললাইনের ওপর থেকে দুই যুবকের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে তাদের হত্যা করা হয়েছে। একইদিন রাতে মনিরামপুরের রাজগঞ্জ সড়কের গাঙ্গুলীয়া আমতলা মোড়ে ডাকাতদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দু’জন নিহত হন। এর দু’দিন পর যশোর-মনিরামপুর সড়কের ক্রাইম পয়েন্ট কানাইতলায় ডাকাতদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও দু’জন নিহত হন। পরদিন ২৬ জুলাই মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপায় ধান ভেজানোর হাউজ থেকে গৃহবধূ আয়রুন নেছার লাশ উদ্ধার করা হয়। একইদিন রাতে যশোর শহরতলীর মুড়লি খাঁ পাড়ায় মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বে সন্ত্রাসীরা সোহেল রানা ওরফে ল্যাংড়া সোহেল নামে এক যুবককে নৃসংশভাবে হত্যা করে। পরদিন তার মাটিচাপা দেয়া বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। ১২ জুলাই মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়ায় স্থানীয় ইটভাটা মালিকের লোকজনের হামলায় গুরুতর আহত হন রাহাত উল্লাহ নামে একজন কৃষক এবং ২৭ জুলাই তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২৭ জুলাই অভয়নগরের ভূগিলহাট এলাকায় ভৈরব নদ থেকে নমিতা রানী নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২৮ জুলাই মনিরামপুর উপজেলার ব্রাম্মনডাঙ্গা গ্রাম থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় রিকশাচালক আব্দুল লতিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। এভাবে পুরো মাস জুড়ে চলতে থাকে বন্দুকযুদ্ধ আর লাশ উদ্ধার। প্রতিরাত কাটে আতঙ্ক আর উদ্বিগ্নতার মধ্যদিয়ে নাজানি কোথায় কার লাশ পড়ে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ