ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 August 2018, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে হচ্ছেন?

খুলনা অফিস : খুলনা-৪ আসনে (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুতে শূন্য হয়েছে এ আসনটি। এমতাবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার অসমাপ্ত কাজের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে তিন নেতা কাজ শুরু করেছে। প্রয়াত সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার একমাত্র ছেলে জেলা পরিষদ সদস্য খালেদীন রশিদী সুকর্ণকে সংসদ সদস্য হিসেবে চাইছেন দলের একটি অংশ। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান খুলনা-৬ ছেড়ে এই এলাকাতেই যোগাযোগ বাড়িয়েছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়। অন্যদিকে দীর্ঘদিন থেকেই সাংগঠনিক ভাবে তৎপর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান জামাল। এর বাইরে আলোচিত কেউ প্রার্থী হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না, এমন অভিমত দলীয় সূত্রের।

সূত্র মতে, খুলনা-৪ আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রকাশিত গেজেট সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছাবে। গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংবিধান অনুযায়ী শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে বছরের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই এ আসনটিতে উপ-নির্বাচনের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৭ জুলাই এস এম মোস্তফা রশিদী (৬৫) সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

দলীয় একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়াবাসীর মনে সুজা ভাইজানের প্রতি অত্যন্ত দুর্বল। এজন্য এলাকায় তার উত্তরসূরীকেই দেখতে চায় সাধারণ নেতা-কর্মীরা। তবে, এ বিষয়ে এখনিই কিছু বলতে নারাজ প্রয়াত মোস্তফা রশিদী সুজার একমাত্র ছেলে জেলা পরিষদের সদস্য খালেদীন রশিদী সুকর্ণ। পুরো শোকাবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, ‘প্রয়াত সুজার সাংগঠনিক ও জনপ্রতিনিধিত্বের দক্ষতা অতুলনীয়। তার শূন্যস্থান পূরণ হবার নয়। তিনি থাকলে তার আসনে দ্বিতীয় কাউকে প্রয়োজন হতো না। এলাকায় তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে কিছুটা সাংগঠনিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে খুলনা-৪ আসনে দায়িত্ব দিলে দলের ঐক্যের ও এলাকাবাসীর উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করবো।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘খুলনা-৬ বা খুলনা-৪ আসনের দায়িত্ব নেবো সেটা নির্ভর করবে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণীয় ফোরামের উপর।’

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান জামাল বলেন, ‘সুজা ভাইজানের তুলনা তিনি নিজেই। তার শূন্যতা পূরণ করা অসম্ভব। তবে, দীর্ঘদিন রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়াবাসীর সাথে মিশে যা জেনেছি-বুঝেছি তাতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দিলে আমি সর্বস্ব বিলিয়ে এলাকাবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবো। এলাকাবাসীও আমাকে গ্রহণ করবে এ বিশ্বাস আমার আছে।’

এদিকে খুলনা-৪ আসনে উপ-নির্বাচন হবে কিনা সে বিষয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা দুই রকম মতামত দিয়েছেন। কোনও সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে আসন শূন্য হলে সংবিধানে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে। সেই প্রেক্ষাপটে গত ২৭ জুলাই খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুতে ২৭ অক্টোবর তারিখে তিনমাস পূর্ণ হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ৩০ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নতুন শিডিউল ঘোষণা করার কথা। সংবিধানের ১২৯/৪ ধারা মতে কোনও আসন শূন্য হলে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের হাতে সময় খুব কম। 

এ বিষয় একমত পোষণ করে নির্বাচন কমিশনের পরিচালক আসাদুজ্জামান আরজু বলেছেন, কমিশন একসঙ্গে বসেই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা এতদিন সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, খুব শিগগিরই আমরা খুলনা উপ-নির্বাচন নিয়ে বসবো। নির্দিষ্ট সময় তারিখ না বললেও কমিশনের এই কর্মকর্তা আগামী সপ্তাহেই সভা হতে পারে এমনটি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আনঅফিসিয়ালি বলেন, খুব কাছাকাছি খুলনা উপ-নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচনের তারিখ পড়ে গেলে সেক্ষেত্রে খুলনাতে উপ-নির্বাচন নাও হতে পারে। 

এমন সিদ্ধান্ত নেবার এখতিয়ার কমিশনের আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশন চাইলে পারে তবে আমরা না বসে, বিষয়টির জবাব বা সমাধান এখুনি দিতে পারছি না। জানা গেছে, কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের কাছে পরামর্শ চাইবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ