ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 August 2018, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নৌমন্ত্রীর দায়িত্বহীন মদদেই পরিবহন শ্রমিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে -ছাত্রশিবির

রাজধানীতে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীকে হত্যাকারীদের বিচার, নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও পরিবহন শ্রমিকদের হামলার বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
গতকাল বুধবার দেয়া যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, গত রোববার রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অনিয়ন্ত্রিত বাসচাপায় মৃত্যু হয় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম এবং একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানমের। শিক্ষার্থীদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেশবাসী যখন শোকে কাতর তখন সাংবাদিকদের সামনে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু নিয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী হাসি তামাশা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বেপরোয়া খুনিদের আড়াল করতে তিনি ভারতের সড়ক দূর্ঘটনার কথা টেনে এনে বিকৃত মানষিকতার পরিচয় দিয়েছেন। নৌ মন্ত্রীর এমন দায়িত্বহীন, তামাশা ও বিদ্রুপপূর্ণ আচরণের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানানেই। মানুষের মৃত্যু নিয়ে এমন নিষ্ঠুর বিদ্রুপ কেউ করতে পারেনা। কোন সভ্য দেশের মন্ত্রী হতে পারে না। বরং নৌ মন্ত্রী ভয়ংকর ও নিষ্ঠুরতার প্রতিক। তার এ ঘৃন্য আচরণ নতুন নয়। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের সকল অন্যায় নির্মমতার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন নৌ মন্ত্রী। তার এই দায়িত্বহীন মদদেই পরিবহন শ্রমিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবলীলায় নানা নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। গতকাল বুধবারও যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গাড়ি চাপা দেয়া হয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে বর্বরতার আরেকটি ঘৃণ্য নজির সৃষ্টি করেছে। গত তিন দিন যাবত শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরিক্ষা বাদ দিয়ে রাজপথে অবস্থান নিলেও এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
নেতৃদ্বয় বলেন, দুই শিক্ষার্থীকে বাস চাপায় হত্যা নিছক কোন দূর্ঘটনা নয় বরং দুই বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। যা প্রতিনিয়তই ঘটছে। এগুলো এক প্রকার হত্যাকাণ্ড। এর আগে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় মেধাবী ছাত্র রাজিবের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যু হয়। জীবন দিতে হয়েছে রাজধানীর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েলকেও। তাদের বেপরোয়া আচরণে একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটলেও রাষ্ট্রীয় ভাবে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। উল্টো যারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে তাদের উপরে দায় চাপানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে নৌমন্ত্রী ও ঘাতকদের ইচ্ছাই প্রতিফলিত হচ্ছে। কোন সভ্য রাষ্ট্রে এ অবস্থা চলতে পারে না। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার দাবীতে রাজপথে নেমে এসেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি ও তাদের যৌক্তিক দাবীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। অবিলম্বে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের পদত্যাগ, নিরাপদ সড়ক ও ঘাতক জাবালে নূরের চালকদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসি দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী ছাত্রলীগ যুবলীগ সন্ত্রাসীদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। আগামী দেশ গড়ার কারিগর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যাবে না বরং দেশের আপামর জনগণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ