ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 August 2018, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কিশোরগঞ্জে ভুয়া প্রতিবন্ধির নামে পেনশন ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সুস্থ্য, সবল ও কর্মক্ষম এক মহিলাকে প্রতিবন্ধি সাজিয়ে পেনশন ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব টাকা উত্তোলনের পর ভাগাভাগি করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, উপজেলার গনেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও রনচন্ডী ধাইজান পাড়া গ্রামের নিয়াশা মামুদের ছেলে শওকত আলী চাকরি কালীন সময় ১৯৯০ সালে মৃত্যু বরবন করেন। তার মৃত্যুর পর পেশনশ ভাতা ভাগাভাগি করে ভোগ করেন প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীগনসহ ছেলে মেয়েরা। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রী ফতে বেগমের এক ছেলে ফজলার রহমান এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সুফিয়া বেগম ২ ছেলে ৪ মেয়ে রেখে মারা যায় ২০১৪ সালে। এরা হলো সাইফুল ইসলাম ওরফে পেন্টু মামুদ,  সেকেন্দার আলী, শান্তনা বেগম,শান্তি বেগম, শেফালী বেগম ও শাপলা বেগম।
 শিক্ষক শওকত আলীর ছেলে মেয়ের মধ্যে কোন প্রতিবন্ধি নেই বলে জানান এলাকাবাসী।তার চার মেয়েই সুস্থ্য সবল এবং কর্মক্ষম তারা সবাই দিব্যি স্বামীর সংসার করে আসছেন। জালিয়াত চক্রের হোতা ওষুধ ব্যবসায়ী খোকন মিয়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী কে ম্যানেজ করে তার বাড়ীর পাশের এক ফুফু শফিকুল ইসলমের স্ত্রী শেফালী বেগমকে প্রতিবন্ধি সাজিয়ে ভুয়া কাগজ পত্র তৈরী করে ২লাখ ৩৬ হাজার ৩১৩ টাকা উত্তোলন করে। যার মঞ্জুরী নম্বর ৮৮০/১(২)৬২১৮ ও বই নম্বর ০৩২২৭১৮তারিখ ২৩ জুন ২০১৮।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সাজানো উল্লেখিত প্রতিবন্ধি শেফালী বেগম স্বামী শফিকুল ইসলামের সাথে ধান ক্ষেত নিড়ানীর কাজ করছে। শেফালী বেগমকে প্রতিবন্ধি পেনশন ভাতা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন টাকা উত্তোলন করেছি ঠিকই কিন্তু দালালরা সব টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে। আমাকে মাত্র তারা ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। এপর্যন্ত বইটিও ফিরৎ দেয়নি।
জালিয়াতের হোতা খোকন মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন প্রতিবন্ধি পেনশন ভাতার কাগজ পত্র তৈরী করতে ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করতে প্রায় ৮৪ হাজার টাকা খরচ গেছে। অবশিষ্ট টাকা ভাগাভাগি করে নেয়া হয়েছে।
 উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মনিমুন আক্তারের কাছে শেফালী বেগমের প্রতিবন্ধি ডাক্তারী সনদ পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাননি।
এব্যাপারে উপজেলা প্রাথামিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি এক মাস আগে বদলি হয়ে এখানে এসেছি। আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা। তবে এখন যখন জানলাম এটি খতিয়ে দেখা হবে। উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা আব্দুল খালেকের সাথে কথা বললে তিনি জানান জাল জালিয়াতির বিষয় খতিয়ে দেখার সুযোগ নেই কাজ পত্র পেলে আমাকে ভাতা মঞ্জুর করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ