ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 August 2018, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মংলায় বিয়ের প্রলোভনে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা সৈনিক লীগ নেতা রাসেলের নামে মামলা

খুলনা অফিস : মংলায় বিয়ের প্রলোভনে এক তরুণীতে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সৈনিক লীগ নেতা সাজেদুজ্জামান রাসেলের বিরুদ্ধে। ডাক্তারী পরীক্ষায় ওই তরুণী বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এমন প্রমাণ মিলেছে। অন্তঃসত্ত্বা ওই তরুণী (২০) স্ত্রীর স্বীকৃতি ও অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করতে বহুবার শালিস-বৈঠক করে কোন সুফল না পেয়ে অনুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারস্থ হয়। নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় মোরেলগঞ্জ উপজেলার  সৈনিক লীগ নেতা সাজেদুজ্জামান রাসেলের বিরুদ্ধে তিন মাস পর অবশেষে মংলা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
মংলা থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলার আমরবুনিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার হাওলাদারের ছেলে সাজেদুজ্জামান রাসেলের সাথে গত ৯ মাস পূর্বে  খালাতো বোন সাথী আক্তারের বাসায় বসে তরুণীর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে রাসেল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে তাকে বিয়ে করবে বলে কৌশলে ধর্ষণ করে। এরপর একাধিকবার মেলামেশায় ওই তরুণী এখন ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
তরুণী জানায়, রাসেলের সাথে পরিচয় হওয়ার পর ওসমানের মোটরসাইকেলে প্রায়ই আমাদের এলাকায় আসতো এবং ওসমানের সহায়তায় আমাকে ডেকে নিতো ওবায়দুল মুন্সির বাড়িতে। সে বিয়ে করবে বলে প্রলোভন দিয়ে ওই থেকেই আমাকে ব্যবহার করে আসছে। এতে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করি কিন্তু এতে সে রাজি না হয়ে উল্টো আমাকে জীবননাশের হুমকি দেয় রাসেল। পরে তরুণী তার পরিবারকে জানালে তারা রাসেলের মা-বাবাকে বিষয়টি অবহিত করে।
তরুনীটি আরো জানায়, আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা আর আমার অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয় পাওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার মোরেগঞ্জ রাসেলের বাবার বাড়িতে গিয়েছি কিন্তু তারা আমার কথায় কোন কর্ণপাত না করে উল্টো আমাকে শাসিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বর মো. মিলন তালুকদারের অফিসে এ বিষয়ে একটি শালিস বৈঠক হয়। সেখানে আমাকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার প্রস্তাব দিয়ে সব কিছু ভুলে যেতে বলে রাসেলে পরিবার। যখন মিথ্যে আশ্বাসে আমাকে পথে নামিয়েছে, প্রায় ৩ মাস মোরেলগঞ্জের জন প্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি কোন বিচার পাইনি। এখন রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি, থানায় মামলাও করেছি, আমি স্বামীর অধিকার ও সস্তানের পিতৃ পরিচয় আদায় করেই বাড়ি ফিরবো। ওই শালিস বৈঠকে থাকা মেম্বর মিলন তালুকদার বলেন, মেয়েটিকে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।
মোরেলগঞ্জের নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটিকে পরামর্শ দিয়েছি।
এ ব্যাপারে মংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলার আমরবুনিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার হাওলাদারের ছেলে সাজেদুজ্জামান রাসেলসহ আরো কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতাওে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ