ঢাকা, শুক্রবার 3 August 2018, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

শব্দশ্রমিক

আবদুল হালীম খাঁ

 

লোকটা পথে পাথর ভাঙছে

ঠুক ঠুক করে ছন্দে ছন্দে

বড় পাথর ভেঙে টুকরো টুকরো করছে

ছোট ছোট শব্দের মতো।

 

আমি ঘরে কাগজে খচ খচ করে

শব্দ ভাঙছি বাক্য ভাঙছি

বাক্য গড়ছি ছোট ছোট পাথরের

টুকরোর মতো।

 

লোকটা পাথর শ্রমিক

আমি শব্দশ্রমিক।

 

স্বপ্নের ভেতর

ওমর খালেদ  রুমি

 

সারারাত ঘুরিফিরি স্বপ্নের ভেতর

কাছে এসে কথা বলে

মিল্টন, বায়রন, মার্ভেল

সবারই দেখি শুধু ব্যথার পাহাড়

 

আমাকেই মনে হয় অসহায়

অতো ব্যথা আমার তো নেই

তবে কি আশা নেই কবি হওয়ার

 

না না হবে না কেন রবিকেই দেখ

জানালার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো

তাঁর পা ছুলেই তো ভোর হয়ে যায়

 

তোমার কি দোষ বলো

লেগে থাকো হয়ে যাবে

চেনা কবি অচেনা খাতায়।

 

উদ্দেশ্যহীন 

জাফর পাঠান

 

মেঘের কাঁকালে মাথা রেখে

ভাবনা উড়িয়েছি- আকাশে,

উদ্দেশ্যহীন- পথযাত্রায়  

হাতে-হাত রেখেছি বাতাসে।

 

দৃষ্টিকে করেছি- গৃহবন্দি

গিরির নিঃস্পন্দ পাদদেশে,

শ্রবণশক্তি- তাড়িয়ে দিয়ে

বধির হয়েছি- অবশেষে।

 

বন্ধক রেখেছি- বাকশক্তি

নীরব- ধ্রবতারার কাছে,

ভাবলেশহীন- দেহটুকু

অতিকষ্টে অবশিষ্ট আছে।

 

চরাচরের- চন্ডালি চেখে

স্রোতস্বিনী বহে চক্ষুমাঝে,

দলে দলে ক্ষোভ বাঁধে দল

মন গিরিন্দ্রের রুদ্র খাঁজে।

 

আমার কলমে

শাহীন আরা আনওয়ারী

 

আমার কলমে জাগ্রত করো প্রেম

চেতনায় দাও সজীব বারতা চিরশান্তির গান

কলমে ঝরুক সোনার আখরে নিত্যসঙ্গী প্রেম

ঝর্ণারা হোক মানুষের কথা ভালোবাসা গরীবের

উৎসের দিকে ফিরি প্রতিদিন এই হোক সাধনার।

 

সব প্রচেষ্টা তোমাকে ঘিরেই উড়ুক চাঁদের সাথে 

যেন নিঃসীম আকাশে মরণ জয়ী এই চাতকের

অসীম  ক্ষমতা তোমার আমি চাইনা তো কোনো ভাগ

শুধু চাই ক্ষীণ করুণার ধারা, বাকী সব সবে পাক।।

 

 

কোথায় তুমি

পাপিয়া আক্তার

 

ওহে প্রিয়

আমি তোমার তরে

ক্ষিপ্ত ঝড়ো মেঘের বৃষ্টি হাওয়ায় 

গৃহত্যাগী উদাসী নিঃসঙ্গ মনে পথে পথে হেঁটেছি

একটি বার নজর মিলানোর যাতনায়।

তোমার তরে কাঙালের মতো প্রাণ পাখি

মর্মভেদী বিরহ ব্যাথার চিৎকারে ঝাপটায়।

তবু তুমি কোথায়? কোথায় তুমি?

কোথায়?

ওহে প্রিয়

কাচেঁর চুড়ি ভেঙে 

মেহেদী রাঙা রক্তে লাল হয়েছে দুটি হাত।

যে হাত হাজার কষ্টের মাঝেও

ছাড়বেনা তোমার হাত।

তুমি বলেই তো হাত বাড়িয়ে রাখি।

তবু তুমি কোথায়? কোথায় তুমি?

কোথায়?

ওহে প্রিয়

এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত

হন্ন হয়ে ছুটে ছুটে ডেকেছি তোমায়।

স্বরকন্ঠ ছিড়ে রক্ত গড়িয়ে পরেছে দেহে,

তোমাকে ডেকে ডেকে হয়েছি সাড়া।

তবু তুমি কোথায়? কোথায় তুমি?

কোথায়?

 

ওহে প্রিয়...

তোমার বিষাক্ত আঘাতে 

হৃৎপিন্ড আঁচড় কেটে হয়েছে আহত।

যে হৃৎপিন্ডে কেবল তুমি আছো-

আজ বিষের দংশনে ছিড়ে ছিড়ে খায়।

সাধের হৃৎপিন্ড বুঝি পচেঁ গলে যায়।

তবু তুমি কোথায়? কোথায় তুমি?

কোথায়?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ