ঢাকা, শুক্রবার 3 August 2018, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চড়ুই পাখির বন্ধু

তুষার কুমার সাহা : একটি শহরে জন্ম হয়েছিল একটি চড়ুই পাখি। যে শহরে নেই মাঠ, নেই খাল,  নেই বিল। শুধু আছে গাড়ি আর বিশাল বড় বড় দালানকোঠা। চড়ুই জন্মের ঠিক পনেরো দিন পর তার মা মারা যায়। কিন্ত চড়ুই পাখিটি ঠিক মত উড়তে পারে না। কোথায় কি আছে, সে এটাও জানে না। চড়ুই পাখিটার মা মারা যাওয়ার ঠিক একদিন পরই তার বাবা তাকে ছেড়ে চলে যায়। সে এখন কোথায় যাবে?কী করবে? তাকে কে বা খাবার এনে দিবে? মস্ত একটা দালানের ছাদের খোপের ভিতর বসে সে ডাকছে। কিন্তু কেউ আসে না। তখন আস্তে আস্তে সে ছদের খোপের থেকে বের হয়ে উড়ার জন্য চেষ্টা করে। কিন্তু সে তো উড়তে পারে না। হঠাৎ করে উড়তে গিয়ে ছাদের থেকে পড়ে যায়। কিন্ত তার ভাগ্যটা

ভালো। চড়ুই পাখিটা একটা ধান ভরা ট্রাক গাড়ির উপরে গিয়ে পড়ে । কিন্তু সে ছাদ থেকে পরার সময় সে ভেবে ছিল, সে আর বাঁচবে না। কিন্তু সে বেঁচে আছে। তখন সে চেয়ে দেখে ধানের বস্তার একটি ট্রাকের উপর 

সে পড়ে আছে। ট্রাকটা  তখন চলছিল একটু আস্তে আস্তে। চড়ুই পাখিটি তখন ক্ষুধার জ্বালায় আর থাকতে না পেরে,বস্তা থেকে ধান একটা একটা করে খেতে থাকে। কিন্তু চড়ুই পাখিটি তখন জানে না যে সে কোথায় যাচ্ছে। এক এক করে ধান খেয়ে যখন তার পেট ভরে যায়,তখন চড়ুই পাখিটি চুপিটি করে ধানের বস্তার উপর ঘুম দেয়। কিন্তু যখন ঘুম থেকে চড়ুই পাখিটা  উঠে,তখন সে দেখতে পায় এক অজানা অচেনা জায়গায় এসে গাড়িটি থেমে আছে। তখন চড়ুই পাখিটা একটু ভয় পেয়ে যায়। সে তখন কী করবে? কোথায় যাবে?  আবার সে উড়তেও পারে না। সে বুঝতে পারছে না কী করবে। একটু পরে দেখে দুজন লোক এসে ধানের বস্তাগুলো এক এক করে নামাতে থাকে। তখন সে তাদেরকে দেখে আরও ভয় পেয়ে ধানের বস্তার চিপাতে গিয়ে লুকিয়ে যায়। এক এক করে বস্তা নেওয়ার সময় চড়ুই ূ পাখিটাকে একজন লোক দেখতে পেলো। কিন্তু তখন চড়ুই পাখিটা ভয় পেয়ে কান্না করে ছুটে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করে। ঠিক তখনই চড়ুই পাখিটাকে একজন লোক ধরে ফেলে। তখন চড়ুই পাখিটাকে ধরে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু চড়ুই পাখিটা ভয় পেয়ে কান্না করতে থাকে আর ওই লোকটার হাতে এক এক করে কামড় দিতে থাকে। কিন্তু চড়ুই পাখিটাকে কিছুতেই ছাড়ছে না। বাড়িতে নিয়ে চড়ুই পাখিটাকে একটি লোহার খাঁচার মধ্যে বন্দি করে দিলো। তখন চড়ুই পাখিটা আরও ভয় পেয়ে যায়, সে ভাবে এবার হয় তো আর বাঁচবে না। নিশ্চয় ওই লোকটা তাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু না, ওই লোকটা চড়ুই পাখিটার খাবার এনে খাঁচার ভিতর  দিল। চড়ুইপাখিটা তখন কিছুই বুঝতে পারছে না।  লোকটি তার সাথে কী করছে। ঠিক তখনই লোকটি চড়ুইপাখিটাকে বললো তোমাকে আমি মারবো না, তুমি ভয় পেও না। তোমাকে আমার বন্ধু করবো। এই কথাটা শুনে চড়ুইপাখি একটু সাহস পেল। আস্তে আস্তে কান্না থামায়। এমন করে যখন লোকটা সকাল-বিকাল তাকে আদর করে। ঠিক তখন চড়ুই পাখি মনে মনে ভাবে-ওই লোকটার বন্ধু হওয়া যেতেই পারে। আস্তে আস্তে চড়ুই পাখি ওই লোকটার বন্ধু হতে লাগলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ