ঢাকা, শুক্রবার 3 August 2018, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পঞ্চম দল হিসেবে ফ্লোরিডায় অভিষেক হবে বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রথম টি- টোয়েন্টি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে সফরকারী বাংলাদেশ। তবে  নতুন দেশে নতুন ভেন্যুতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজে সমতা আনতে চায় সাকিব আল হাসানের দল। আগামী ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় লডারহিলে সেন্ট্রাল ব্রওয়ার্ড বিভাগীয় পার্ক স্টেডিয়াম টার্ফ গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি- টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এই ভেন্যুতে প্রথমবারের মত খেলতে নামবে বাংলাদেশ। 

এর আগে এই ভেন্যুতে আগে কখনোই খেলেনি টাইগাররা। বিশ্বের পঞ্চম দল হিসেবে এখানে অভিষেক হবে বাংলাদেশের। ইতোমধ্যে এই ভেন্যুতে ম্যাচ খেলেছে- নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই চার দলই যেক’টি ম্যাচ  খেলেছে, সবগুলোই ছিলো টি-টোয়েন্টি। নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ চারটি করে, শ্রীলংকা-ভারত ২টি করে টি- টোযেন্টি ম্যাচ খেলে। ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারলেও ফ্লোরিডা দিয়ে সিরিজে ঘুড়ে দাঁড়াতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রথম ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-২০। ভালো ফল করার সুযোগ থাকছে।’ নতুন ভেন্যুতে খেলতে নামার আগে এখানকার তথ্য-পরিসংখ্যান সর্ম্পকে অবগত হতে আগ্রহী। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে কিছু তথ্য-পরিসংখ্যান দেখা যাক।  ২০১০ সালের ২২ মে এই ভেন্যুর অভিষেক ঘটে। নিউজিল্যান্ড-শ্রীলংকার মধ্যকার দুই ম্যাচ টি- টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম লড়াই ছিলো সেটি।  ম্যাচটি ২৮ রানে জিতে নেয় কিউইরা।  পরের দিন  সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ ৭ উইকেটে জিতে  ১-১ ব্যবধানে  সিরিজ শেষ করে শ্রীলংকা। এর দু’বছরেরও বেশি সময় পর আবারো এখানে  অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এবার দুই ম্যাচের টি-২০ সিরিজ  খেলে নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১২ সালের ৩০ জুন সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫৬ রানে হারিয়ে দেয় ক্যারিবীয়রা। পরের দিন সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে  ওয়েস্ট ইন্ডিজ  ৬১ রানে জয় লাভ করে। নিউজিল্যান্ড-ওয়েসস্ট ইন্ডিজের লড়াই শেষে চার বছর বাদে আবারো এখানে টি- টোয়েন্টি সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়।

 এবার মুখোমুখি হয় ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৬ সালের ২৭ আগষ্ট অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওপেনার এভিন লুইসের ৪৯ বলে ১০০ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৫ রান করে ক্যারিবীয়রা। জবাবে  লোকেশ রাহুলের ৫১ বলে অপরাজিত ১১০ রানের পরও ১ রানে হারের স্বাদ নিতে হয় ভারতকে।  তবে পরের ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ভেন্যুতে এক ইনিংসে  সর্বোচ্চ দলীয় রান ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১৬ সালের আগষ্টে ভারতের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৫ রান করেছিলো ক্যারিবীয়রা। সর্বনি¤œ দলীয় রান ৮১। ২০১০ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৭ দশমিক ৩ ওভারে ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।  এই ভেন্যুতে রানের হিসেবে বড় ব্যবধানে জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬১ রানে জিতেছিলো ক্যারিবীয়রা। উইকেটের ব্যবধানে বড় জয় শ্রীলংকার। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছিলো লংকানরা। এটি উইকেটের ব্যবধানে সর্বনি¤œ জয়ও। রানের ব্যবধানে ছোট জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে ১ রানে জিতেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখানে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনসন চার্লস। ৪ ম্যাচের ৪ ইনিংসে ১টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৮২ রান করেন তিনি। ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ভারতের রাহুলের। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫১ বলে ১২টি চার ও ৫টি ছক্কায় অপরাজিত ১১০ রান করেন তিনি। এই ভেন্যুতে সবচেয়ে বেশি ছক্কাও হাকিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার্লস। ১০টি। এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ৯টি ছক্কা মারার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের লুইসের। ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯টি ছক্কা মারেন তিনি। বল হাতে সেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন। ৪ ম্যাচের ৩ ইনিংসে ১১ ওভারে ৯৬ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি।  উইকেটরক্ষক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিনেশ রামদিনের। ২ ম্যাচে ৩টি ডিসমিসাল করেন তিনি। ৩টিই স্টাম্পিং। সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভোর। ৪ ম্যাচের ৪ ইনিংসে ৪টি ক্যাচ নেন তিনি।  রানের দিক দিয়ে এই ভেন্যুতে সেরা জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার্লস ও লুইসের। ২০১৬ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম উইকেট জুটিতে ১২৬ রান করেছিলেন তারা। এই ভেন্যুতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৫১ বছর বয়সী জোয়েল উইলসন। ২০১২ সালে অভিষেকের পর ৪টি ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ