ঢাকা, শুক্রবার 3 August 2018, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে স্কুল বন্ধ বৃষ্টি মাথায় শিক্ষার্থীরা রাস্তায়

# মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে লাঠি হাতে হামলায় কারা?

# পরিবহণ সংকটে হুড়োহুড়ি, বাসে উঠতে গিয়ে আহত তরুণ

# দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে চট্টগ্রামে সড়ক ছাড়ল শিক্ষার্থীরা

 

স্টাফ রিপোর্টার : টানা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সরকার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও বৃষ্টির মধ্যে স্কুল কলেজের ইউনিফর্ম পরেই রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর অন্তত ২০টি পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে বলে ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফলে গত তিন দিনের মতই ঢাকার বিভিন্ন সড়কে দিনভর যান চলাচল বন্ধ থাকে। 

এদিকে গত কয়েক দিনের বিক্ষোভের মধ্যে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পরিবহন মালিকরাও গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাস ছাড়ছেন না। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।  

একটি বাসের চাপায় গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর থেকেই শিক্ষার্থীর এ বিক্ষোভ চলছে। গত দুই দিনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে অনান্য শহরেও। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বুধবার রাতে ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে’ গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনার কথা জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার ছেলেমেয়ে বিক্ষোভে গেলে টিসি দিয়ে দেওয়া হবেÑ স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমন এসএমএস পাওয়ার কথাও জানান কয়েকজন অভিভাবক।

কিন্তু ফেইসবুকে আন্দালনকারীদের বিভিন্ন গ্রুপ থেকে নিষেধ না মেনেই রাস্তায় থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ অবরোধের খবর আসতে থাকে। 

উত্তরা, মহাখালী, মগবাজার, শাহবাগ, রামপুরা, ফার্মগেইট, আসাদগেইট, খিলগাঁও, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা আগের দিনের মতই মিছিল করছে এবং গাড়ি থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। পুলিশের ভূমিকায় তাদের এই পরীক্ষা থেকে পুলিশের গাড়িও ছাড় পাচ্ছে না।

সাত রাস্তার দিক থেকে সচিবালয়ে যাওয়ার সময় মগবাজারে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে পড়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের গাড়ি। পরে তিনি বেরিয়ে এসে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়গুলো তিনি মন্ত্রিসভায় তুলবেন। পরে তাকে যেতে দেয় শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশের পরনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইউনিফর্ম দেখা গেছে। তবে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় অনেকে সাধারণ পোশাকেও এসেছে। পুলিশের গাড়ি আটকানোর চেষ্টার সময় কারও কারও মুখে কাপড় পেঁচিয়ে রাখতেও দেখা গেছে।

বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা গেছে- ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘উই আর স্টুডেন্ট’, নট টেরোরিস্ট’- এরকম বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ও টুকরো কাগজ। রাস্তায় গোল হয়ে বসে সুরে সুরে শ্লোগান দিতেও দেখা যায় কাউকে কাউকে। 

সকালে টঙ্গী কলেজগেট এলাকায় ময়মনসিংহ রুটের দুটি বাস ভাঙচুরের শিকার হয়। মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রমিজউদ্দিন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পড়া শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যে উত্তরা এলাকার রাস্তার দখল নেয়। উত্তরার জসিমউদ্দিন মোড়ে একটি পিক-আপ ভ্যান ভাংচুরের শিকার হলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে খিলক্ষেত আর ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের সামনের রাস্তাও ছিল শিক্ষার্থীদের দখলে। কুড়িল বিশ্বরোড, খিলক্ষেত এলাকায় অনেক মানুষ তখন হালকা বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন গাড়ির জন্য। 

শাহবাগে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকেই। হাতে হাত বেঁধে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ধীরে ধীরে ছাতা হাতে জমায়েত বাড়তে থাকে। চলতে থাকে শ্লোগান।  মুন্সী আবদুর রউফ রাইফেলস কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ, নটরডেম কলেজ, ক্যামব্রিয়ান কলেজের পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের দেখা যায় শাগবাগে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাইক নিয়ে আসে আন্দোলনকারীরা। সেখানে ঘোষণা দেওয়া হয়- “আমরা সিঙ্গেল লাইনে গাড়িগুলো ছাড়ব। গাড়ির লাইসেন্স থাকলে তারপর যেতে দেব।”

এক পর্যায়ে এক রোগীর জন্য দুই ব্যাগ ‘এ পজিটিভ’ রক্তের প্রয়োজনের কথা জানানো হয় মাইকে। সঙ্গে সঙ্গে দুই কলেজ শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে যান রক্ত দিতে। হাজারখানেক শিক্ষার্থীর মধ্যে দাঁড়িয়ে সড়কের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে মেহেদী বিল্লাহ রেজওয়ান। তিনি বলেন, “আমার দুই মেয়েও স্কুলে পড়ে। আজকে সরকার স্কুল কলেজ বন্ধ করেছে। আমরা বলি স্কুল কলেজ নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দিন। সমস্যাগুলো বন্ধ না করে স্কুল কলেজ বন্ধ করছেন কেন? আগে সমস্যাগুলো বন্ধ করে দিন। নিরাপদ সড়ক আমাদের অধিকার।"

শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের এক ছাত্রী প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম নিয়ে শাহবাগে এসেছেন। তার উদ্দেশ্য বিক্ষোভে কেউ আহত হলে যেন তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়া যায়। 

সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার এম আশরাফ ইসলাম বলেন, “ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স যারা দেয় তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঢাকা শহরের সকল যানবাহন হবে পাবলিক। সরকার পরিচালনা করবে সেগুলো। এই আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে।"

ইমপেরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করতে শুরু করলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মেরুল বাড্ডা থেকেই যানবাহন ঘুরিয়ে দেয় পুলিশ।

খিলগাঁও রেলগেইট থেকে মালিবাগ রেলগেইট পর্যন্ত বাস আটকাতে দেখা যায় খিলগাঁও ন্যাশনাল আইডিয়াল, খিলগাঁও গভার্মমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের। তাদের সঙ্গে ওই কলেজের সদ্য এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদেরও দেখা যায়।

তাদের একজন মোহাম্মদ রিফাত বলেন, “স্কুল-কলেজতো বন্ধ করে দিয়েছে। এটা সরকারের একটা চাল। ছোটরা না আসতে পারলেও আমরা আসব।”

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মালিবাগ মোড় থেকে শান্তিনগর মোড় পর্যন্ত জড়ো হয়ে শ্লোগান দিতে দেখা যায় বেলা ১১টার দিকে। ফলে কাকরাইল থেকে শান্তিনগর হয়ে মালিবাগ পর্যন্ত পুরো রাস্তা অচল হয়ে যায়। ফ্লাইওভারের ওপরে গাড়ি আটকে থাকতে দেখা যায়। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে বেলা ১২টার দিকে।

রেহনুমা নামে এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা কোনো কথা বলব না। আমাদের কোনো নেতা নাই। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

মহাখালীর রেলগেইট এলাকায় বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। তারা রেল লাইনের দুইপাশে এবং সাতরাস্তা থেকে আমতলী যাওয়ার দুই দিকের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে গাড়ি আটকে চালক ও গাড়ির লাইসেন্স দেখছিলেন। কাগজ দেখাতে না পারলে গাড়ি পাঠাচ্ছিলেন পুলিশের কাছে।  তবে অ্যাম্বুলেন্স বা কোনো গাড়িতে রোগী থাকলে দ্রুত ছেড়ে দিচ্ছিলেন তারা।

বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে দেখা যায় অধ্যক্ষ শাহ কাওছার আহমেদ চৌধুরী ও অ্যাডজুডেন্ট ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মো. টিপু সুলতানকে।  টিপু সুলতান বলেন, “আইএসপিআর-এর অনুমতি ছাড়া আমরা কথা বলি না। এখানে আমাদের কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলনে অবস্থান নিয়েছে, তারা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়ে তা দেখতেই আমরা এখানে এসেছি।”

সাতরাস্তা থেকে আমতলী যাওয়ার পথে এক মোটরসাইকেল আটকে চালকের লাইসেন্স দেখে বিক্ষোভকারীরা। কোনো বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে গালিব নামের ওই চালক বলেন, “এরকমটাই সব সময় হওয়া উচিত, আমরা এই আন্দোলনকে কোনো সমস্যা মনে করছি না।”

 

মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে লাঠি হাতে হামলায় কারা?

 

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকাজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে; একদল যুবককেও লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হতে দেখা গেছে। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে মিরপুর-১৩ ও ১৪ নম্বরের মধ্যে বিআরটিএ থেকে কাফরুল থানা হয়ে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের গেইট পর্যন্ত সড়কে এই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষের পর একাধিক শিক্ষার্থীকে সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেছেন আমাদের প্রতিবেদক।

আহত এক কলেজছাত্র বলেছেন, মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে তাদের মানবন্ধন কর্মসূচি চলছিল। পুলিশ তাদের সরাতে গেলে শিক্ষার্থীরা ইট পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে। তখন পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বেশ কিছু সময় বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে একদল যুবককেও লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের পেটাতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করে এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ মানবন্ধন করছিলাম। পুলিশ হঠাৎ এসে আমাদের লাঠিপেটা শুরু করেছে। পরে তাদের সঙ্গে স্থানীয় যুবলীগও যোগ দিয়েছে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার ইয়াসমীন সাইকা পাশা বলেন, “শিক্ষার্থীরা কোনো কারণ ছাড়াই কাফরুল থানায় হামলার চেষ্টা করে। পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান ফটক ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। তারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে। “পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। তখন তারা সরে ১০ নম্বর গোল চত্বরের দিকে যায়।”

 সে সময় পুলিশের সঙ্গে লাঠি হতে কারা ছিল- সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। এ বিষয়ে যুবলীগের কারও বক্তব্যও জানতে পারেনি।  

এদিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বাকবিতন্ডা থেকে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে আহত হয়েছে তিন শিক্ষার্থী।  বিকাল ৪টার আগে আগে ওই মারামারির পর স্কুল ইউনিফর্ম পরা তিন ছাত্রকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। বেলা আড়াইটার দিকে এই সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়েই এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে মারধর করে তার মেটার সাইকেলে আগুন দেয় শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে বিকালে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের পুলিশ বক্সে তালা মেরে সেখান থেকে চলে যান ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

 

সায়েন্স ল্যাবে পুলিশের উপর হামলা ॥ উত্তেজনা

সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে এক ট্রাফিক সার্জেন্টের ওপর হামলা চালিয়ে তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট বায়েজিদের মোটর বাইকের লাইসেন্স দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা। এ সময় তিনি লাইসেন্স না দেখিয়ে বরং ছাত্রদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্র। তিনি বলেন, “ওই পুলিশ সার্জেন্ট আমাদের একজনকে ধাক্কা দেয়। তখন ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে তিনি মোটর বাইক ফেলে দৌড় দেন। পরে তাকে ঘিরে ফেলে পিটুনি দেওয়া হয়।”

আহত ট্রাফিক সার্জেন্ট বায়েজিদকে পরে সায়েন্স ল্যাব মোড়ের পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে বিক্ষোভকারীরা তার মোটরসাইকেলটি জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্স ঘিরে উত্তেজনা চলছে।

 

পরিবহণ সংকটে হুড়োহুড়ি

পরিবহণ সংকটের মধ্যে হুড়োহুড়ি করে বাসে উঠতে গিয়ে রাজধানীতে এক তরুণ আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে কল্যাণপুরে আহত ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, এমএ লাভলী পরিবহন নামের একটি কল্যাণপুর ছেড়ে যাওয়ার সময় এই যাত্রী বাসের হাতল ধরে উঠার চেষ্টা করে। “কিন্তু বাসটি না থামালে তিনি পড়ে যান। এতে তার বাম হাত কনুইয়ের উপর পর্যন্ত প্রায় ঝুলে পড়ে। তাকে দ্রুত পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বাসটি টেকনিক্যাল মোড়ে আটকে চালক হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যূর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে পরিবহন মালিকরা গাড়ি না ছাড়ায় সপ্তাহের শেষ দিন রাস্তায় বেরিয়ে বিপাকে পড়ে রাজধানীর মানুষ। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। কিন্তু সকাল থেকে রাজধানীর রাজপথে নগর পরিবহনের বাস দেখা যাচ্ছে একেবারেই কম। টার্মিনালগুলো থেকে দূর পাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ রেখেছেন মালিকরা।

 

 জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীতে চলমান বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সরকার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গতকাল বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখলেও বিভিন্ন জেলায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসে সড়ক অবরোধ মানব বন্ধনের মত কর্মসূচি পালন করছেন। কয়েকটি স্থানে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

গত ২৯ জুলাই ঢাকায় একটি বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর থেকে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অবরোধ চালিয়ে আসছে ছাত্রছাত্রীরা।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

খুলনা:  ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহততের প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে খুলনার নগরীর শিববাড়ি মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে মানবন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।গতকাল  বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে সেগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হল- নিরাপদ সড়কের স্বার্থে বেপোরোয়া চালককে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে, শিক্ষার্থীদের চলাচলে ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাগুেলোতে স্পিড ব্রেকার দিতে হবে, শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সংকেত দিলে তাদের বাসে তুলতে হবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না এবং উশৃঙ্খল মোটর সাইকেল চালকেদের জরিমানাসহ শাস্তি দিতে হবে।

রাজশাহী: রাজশাহীতে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টা নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বিক্ষোভ করেছে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে হাতে নানা প্লাকার্ড নিয়ে জিরোপয়েন্টের রাস্তায় জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। এ সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র যানজট তৈরি হয় নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্টসহ আশপাশের সড়কগুলোতে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইমরুল কায়েস ইশাত বলেন, “আমরা নিরাপদে চলাচল করতে চাই। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের দফা দাবি মানতেই হবে।”

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কেন্দ্র করে সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চারপাশ দিয়ে পুলিশ ঘিরে রাখে।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, “শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে; তবে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।”

 নোয়াখালী: ‘নিরাপদ সড়ক চাই, পথ যেন হয় শান্তির মৃত্যুর নয়’ এই শ্লোগানে নোয়াখালীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। বেলা ১১টা থেকে জেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা শহরের মাইজদী-চৌমুহনী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে একদল ছাত্র ও যুবক সড়কে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে।

 জেলার পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান রাস্তা ঘুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি প্রতিবাদ সভা হয়। এতে সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শ্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।  

চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরে রাস্তা অবরোধ করে ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শত শত ছাত্রছাত্রী মিছিল নিয়ে শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জমা হয়। পরে একটি মিছিল নিয়ে শহরের বাসস্ট্যান্ডে যায় তারা। সেখানে দুটি বাসে ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে বাসস্ট্যান্ডের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেয় তারা। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের শান্ত করলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্ররা অবরোধ তুলে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান।

মাগুরা: গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। পরে সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসহ বিভিন্ন শ্লোগান দেয় তারা। এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে শহরের ভায়না মোড়ে দিকে রওনা হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা ফিরে গিয়ে আবারও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে অবস্থান নেয়।

ফরিদপুর: গতকাল  বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলা শহরের হাইস্কুল মার্কেটের সামনে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। পরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সেখানে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

লালমনিরহাট: নিরাপদ সড়কের দাবিতে লালমনিরহাটে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। লালমনিরহাট শহরের মিশনমোড়ে বেলা ১২টার দিকে মানববন্ধনে মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অবিলম্বে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান তার।

 

দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে চট্টগ্রামে সড়ক ছাড়ল শিক্ষার্থীরা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দিনভর বিক্ষোভের পর লাইসেন্সবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে চট্টগ্রামের সড়ক ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বন্দর নগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়কে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা।

এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এদিন ছুটি ঘোষণা করলেও শিক্ষার্থীদের আটকাতে পারেনি। চট্টগ্রামের জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, এ কে খান মোড়, লালখান বাজার ও খুলশী এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্দেশে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের আশ্বাসের পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সড়ক থেকে শিক্ষার্থীরা সরে যায়।

নগরীর মুরাদপুর ও দুই নম্বর গেট এলাকায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম, ওয়াসার মোড় ও জিইসি মোড় এলাকায় সহকারী কমিশনার তানভীর ফরহাদ শামীম, খুলশী, লালখান বাজার ও চান্দগাঁও এলাকায় সহকারী কমিশনার রঞ্জন চন্দ্র দে এবং নওশের ইবনে হালিম যান।

সহকারী কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করেছি। জানিয়েছি, তাদের যৌক্তিক সব দাবি সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। “সে লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়েছে। পরিবহন খাতে নৈরাজ্য বন্ধে আইন পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যাতে কোনো চালক সড়কে গাড়ি না চালায় সেজন্য নিয়মিত আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা করা হবে।” “সাধারণ শিক্ষার্থীদের বলেছি, একজনের কাজ অন্যজন করলে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। তারা যেন পড়ার টেবিলে ফিরে যায়। তারা আশ্বস্ত হয়েছে,” বলেন তৌহিদুল ইসলাম।

ঢাকার মতো চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরাও মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট এলাকায় গাড়ি আটকে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে। শিক্ষার্থীরা আটটি গাড়ি আটক করে হাকিমদের হাতে দেয়। এসব গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান তৌহিদুল ইসলাম।

আরেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর ফরহাদ শামীম বলেন, “ছাত্রদের বলেছি তাদের আন্দোলনের সাথে সবাই একমত। বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষার্থীরা পথে থাকুক, সেটা অভিভাবক হিসেবে কেউ চান না। ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি যাতে রাস্তায় চলতে না পারে, সেজন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে নগরীর ইস্পাপানি স্কুল এন্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী মো. আরিফ উদ্দিন বলেন, “গতকাল এ উদ্যোগ নিলে আজ আমাদের সড়কে নামতে হত না। “জেলা প্রশাসক দুয়েক দিনের মধ্যে আমাদের সাথে আলোচনা করবেন বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জানিয়েছেন। আমাদের দাবির কথা উনাকে বলব।”

সকালে নগরীর ওয়াসার মোড় ও দুই নম্বর গেট এলাকায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে যানবাহনের কাগজপত্র ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করতে থাকে। এসময় তারা চারটি পুলিশের গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই বলে জানায়। পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানকে থামতে বলার পরও না থামায় শিক্ষার্থীদের ছোড়া ঢিলে এর চালক আহত হন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন বয়সী মানুষ ছাত্রদের সাথে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে জড়ো হয়। তবে শিক্ষার্থীরাই ছিল নেতৃত্বে। দুপুরে নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। শিক্ষার্থীদের ‘নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন’ করতে আহ্বান জানান তিনি।

আন্দোলনের মধ্যে দুপুরে জিইসি মোড় এলাকায় এক পুলিশ সদস্যকে চড় মারেন এক যুবক। পরে তাকে আটক করা হলে ওই যুবক বলেন, তিনি শিক্ষার্থী নন, নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা। এসময় শিক্ষার্থীরা তাকে আটকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। দুপুরের দিকে নগরীর দুই নম্বর গেইট এলাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা গেছে। এর আগে বুধবার বিকাল ও রাতে ফেইসবুকের বিভিন্ন পেইজ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্য শ্রেণি-পেশার মানুষকে যোগ দিতে আহ্বান জানানো হয়।

গত রোববার ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই কলেজছাত্র নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা; এরপর ঢাকার অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাও সড়কে নামে। বিক্ষোভের কারণে গত পাঁচ দিন ধরে রাজধানী ঢাকার সড়ক প্রায় অচল হয়ে আছে।

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : রাজধানীতে বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে টানা আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকাল ১০টা হতে আবারো শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থান নিয়ে রাজধানীর সঙ্গে সকল প্রকার যান চলাচল বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এদিন বন্ধ রাখা হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ট্রেন চলাচল। বিকেল ৪টায় মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হলেও শহরের অবরোধ উঠে বিকেল ৫টায়।

সরেজমিনে দেখা দেছে, বৃহস্পতিবার সরকার সারা দেশের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করলেও সকাল দশটা থেকে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল নিয়ে শহরের চাষাঢ়ায় বিজয় স্তম্ভের সামনে এসে অবস্থান নেয়। এদের মধ্যে অনেকেই ইউনিফর্ম পড়া এবং বাকীরা ইউনিফর্ম ছাড়াই সাধারণ পোশাকে আন্দোলনে যোগ দেয়।

 বেলা  পৌনে এগারোটার দিকে শিক্ষার্থীরা শহরের বঙ্গবন্ধ সড়ক, নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের মুখে অবস্থান নিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এসময় সড়কগুলিতে শত শত যানবাহন আটকা পরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা যানবাহন থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে। কয়েকটি যানবাহন ভাংচুরও করে তারা।

‘ঘুষখোর পুলিশের লাইসেন্স কই?’

দুপুর ১২টায় চাষাঢ়ায় মহিলা কলেজের সামনে সোনারগাঁও থানা পুলিশের একটি ভ্যান আটকে পড়ে শিক্ষার্থীদের সামনে। তখন গাড়ির চালক লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হলে গাড়ির সামনে কাগজ সাটিয়ে দেওয়া হয় যেখানে লেখা ছিল ‘ঘুষখোর পুলিশের লাইসেন্স কই?’। ওই গাড়ি থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন থানার ওসি মোর্শেদ আলম।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী আহমেদ সাইমন বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলেও মনের ভেতরে যে তুষের আগুন সেটা তো আর নিভেনি। তাই পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এসেছি।’

আরেক শিক্ষার্থী সাবিহা সুলতানা বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জ কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী। আবার মা আমাকে বলেছে আন্দোলন করতে। তাই চলে এসেছি। মা নিজেই আমাকে ইউনিফর্ম পড়ে বের হতে বলেছে। সঙ্গে দিয়েছে এক বোতল পানি আর বিস্কুট। বলেছে দুপুরে যেন  খেয়ে নেই।’

এছাড়া আরো অনেক শিক্ষার্থী জানান, বুধবার টিভিতে ব্রেকিং নিউজ করেছে বৃহস্পতিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তার পরেও বৃহস্পতিবার পরিবারের লোকজনই আমাদের বলেছে রাস্তায় নেমে অধিকার আদায় করতে।’

রাজশাহী অফিস : ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধনও করে। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শুরু হয়।

আগের দিনের  ঘোষণা অনুযায়ী, এ দিন সকাল ১০টার দিকেই জিরোপয়েন্টের রাস্তায় জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। হাতে নানা প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র যানজট দেখা দেয় নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্টসহ আশপাশের সড়কগুলোতে। এ সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধন শেষে তারা আবার বিক্ষোভ করতে থাকে এবং তা বেলা ১টা পর্যন্ত চলে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে 

খুলনা উত্তাল 

খুলনা অফিস : রাজধানীতে আন্দোলনরত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনা। মহানগরীর শিববাড়ী মোড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১টা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছে, যা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তাদের হাতে বিভিন্ন প্লাকার্ড দেখা যায়। তাতে বিভিন্ন শ্লোগান লেখা ছিল। বেলা ১টা থেকে কর্মসূচি শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টা থেকে শিববাড়ি মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শিববাড়ির মোড়ের আশেপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে নিরাপদ সড়কের স্বার্থে ১৫ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- বেপোরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে, শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাতে স্পিড ব্রেকার দিতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে, শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে, শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবে না, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না, নির্দিষ্ট বয়সসীমা ছাড়া ড্রাইভার হিসেবে গাড়ি চালানো যাবে না, জেব্রা ক্রসিং দিতে হবে, ট্রাফিক পুলিশের সচেতনতা, কাজের প্রতি দায়িত্ব বাড়াতে হবে, পরিবহণে যৌন হয়রানি কমাতে হবে এবং এটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে শাস্তি দিতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের সামনেও সব ধরনের গাড়ির স্পিডলিমিট থাকতে হবে, নির্দিষ্ট সংখ্যক লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইক ছাড়া খুলনার রাস্তায় ইজিবাইক চলবে না, যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্ক করা যাবে না ও উশৃঙ্খখলভাবে মোটরসাইকেল আরোহীদের জরিমানাসহ শাস্তি দিতে হবে।

খুলনার বিভিন্ন পয়েন্টে আন্দোলনে যোগ দিতে বাগেরহাট থেকে আসা শিক্ষার্থীরা একথা জানান।

রংপুর অফিস ঃ চলমান নিরাপদ সড়কের দাবীতে গতকাল বৃহ¯পতিবার রংপুরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ক্লাস না থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ড্রেস ও কাঁধে ব্যাগ নিয়েই মেডিকেল মোড়ে বিক্ষোভ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে তারা।

বেলা ১১টার পর থেকে নগররি সেনানিবাস চেক পোস্ট মোড় থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক শিক্ষার্থীরা দখলে নিয়েছে। ফলে রংপুর মহাসড়ক হয়ে দিনাজপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলার সাথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট আজিজুর রহমান জানান, মেডিকেল মোড় পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় । পুলিশ ধৈর্যের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে ভোগান্তিতে পড়ে দুরপাল্লার যাত্রীবাহী শতশত বাস ও মালবাহী ট্রাক।

বগুড়া অফিস: সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও ছাত্রদের বিক্ষোভ থামানো যায়নি। বৃহস্পতিবার নিরাপদ সড়কের দাবীতে ছাত্রদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ছিল বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহাসিক সাতমাথা। রাজধানীতে বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যুর প্রতিবাদে কয়েক দিনের ছাত্র বিক্ষোভের জের ধরে সকাল সাড়ে ১০টায় একযোগে বগুড়া শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে শহরের জিরোপয়েন্ট ঐতিহাসিক সাতমাথায় জড়ো হতে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ছাত্রদের গণজমায়েত বিশাল সমাবেশে পরিণত হয়। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা পুরো সাতমাথার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও ছাত্রদের বাধা দেয়নি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকলে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা গিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রদেও বুঝিয়ে বিক্ষোভ থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। বিক্ষোভে বেশ কিছু অভিভাবককে তাদের সন্তানদের নিয়ে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিতে দেখা গেছে। বেলা সাড়ে ১১টার পর হঠাৎ করেই বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের কাছে ছুটে যান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাসসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা ছাত্রদের বাসায় ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ সভাপতি বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের মাইকের মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটনও নেতাকর্মীদের নিয়ে সাতমাথায় ছুটে যান। তিনিও ছাত্রদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে- ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অনেক শিক্ষার্থীকে সাতমাথা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। যদিও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তারা শুধু ছাত্রদেরকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। কাউকে জোর করে সাতমাথা থেকে সরিয়ে দেননি।

এদিকে, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সরকারি আজিজুল হক কলেজের সামনে কয়েকটি গাড়ীতে ঢিল ছুঁড়ে গ্লাস ভাংচুর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। টানা আড়াই ঘন্টা সাতমাথায় অবস্থানের পর দুপুর একটায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করে ঘরে ফিরে যায়।

যশোর সংবাদদাতা : সড়কে ‘খুনের’ প্রতিবাদ ও নয়দফা দাবী আদায়ে রাস্তায় নামলো যশোরের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্ম পরেই রাস্তায় নেমে আসে। তারা নয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নানা স্লোগান দেয়। হাতে ছিল দাবি-দাওয়া সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।

তারা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে অভিন্ন দাবিতে মিছিল করে।

যশোর এমএম কলেজ, সিটি কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, বিসিএমসি, শাহীন কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে শহর প্রকম্পিত করে তোলে। দুপুর দুইটার দিকে শিক্ষার্থীরা শহরের পুরনো কেন্দ্রীয় বাসটারমিনাল তথা মণিহার চত্বরে চলাচলরত বাস-ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্যাক্সি, মিনি ট্রাক, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সরকারি এমএম কলেজের ছাত্র মো. সালেহিন, ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র মেহেদি হাসান ও সিটি কলেজের ছাত্র জাকারিয়া বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও তারা রাস্তায় নেমে এসেছে। নয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষে তাদের এই আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা আজ বৃহস্পতিবার রাজপথ ছেড়ে যে যার বাড়িতে চলে যাবেন। আবার শনিবার রাস্তায় নামবেন তারা।

বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুর্ত্তজা হোসেন জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাস্তায় চলাচলরত গাড়ির কাগজপত্র চেক করছে। সমিতির সভাপতি মামুনুর রশিদ বাচ্চু জানান, রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ আছে। কোনো অসুবিধা নেই। শিক্ষার্থীরা কোনো গাড়ি ভাঙচুর করেনি। পরিবেশ শান্ত আছে।

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা শহরের রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দেয়। সেইসাথে ঢাকায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে শহরের শহীদ হাসান চত্বর ও সরকারি কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বন্ধ হয়ে যায় সড়ক দুটিতে সব ধরণের যান চলাচল। শিক্ষার্থীদের এই সমাবেশ থেকে সারা দেশে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।

পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে ছাত্র আন্দোলনের সাথে একাত্মতা জানিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহরের শহীদ হাসান চত্বর সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে এই কর্মসূচিতে যোগ দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে পড়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা-যশোর সড়কে যান চলাচল। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা ব্যস্ততম সড়ক থেকে অবস্থান তুলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা সারা দেশে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলাসহ নিরাপদ সড়ক আইন সংস্কার করে যুগোপযোগী করার দাবি জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে জাবালে নূর বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কাউতলী চৌরাস্তায় গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়। 

পরে মিছিলটি সেখান থেকে পুনরায় ঘুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের যে ভাই-বোনকে নির্মমভাবে বাস চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে আমরা তার সুষ্ঠু বিচার চাই। ঢাকায় নয় দফা দাবিতে আমাদের যে আন্দোলন চলছে দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবেনা। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সকালে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেইট বন্ধ রাখা হয়।

 

গাজীপুর সংবাদদাতা : বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃহষ্পতিবারেও গাজীপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক-সড়ক অবরোধ করেছে। এসময় তারা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে আশেপাশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বৃহষ্পতিবার সকালে মিছিল নিয়ে জাগ্রত চৌরঙ্গী মোড়ে জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে সহ্রাধিক বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ ও ঢাকা-জয়দেবপুর সড়কের উপর অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এসময় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবীতে বিক্ষোভ করতে থাকে এবং কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভাংচুর করে। এতে ওই মহাসড়ক ও সড়কগুলোতে যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বিকেল পর্যন্ত আটকে থাকা যাত্রীদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

খবর পেয়ে জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বিকেলে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। 

এদিকে একই দাবীতে একইদিন জেলা শহর জয়দেবপুরে, কোনাবাড়ি ও টঙ্গীসহ বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। জেলায় বিভিন্নস্থানে সড়ক-মহাসড়কে অবরোধের কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তুলনা মুলক কমসংখ্যক যানবাহন চলাচল করেছে বলে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগরীতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাস্তায় নেমে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে।চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন গুরর্ত্বপূণ রাস্তায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর বিক্ষোভের কারনে  কার্যত চট্টগ্রাম অচল হয়ে পড়ে।

 জানা গেছে, সরকারী নির্দেশে সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তা না মেনে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম পরা অবস্থায়  বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর জিইসি মোড়, গরিবুল্লাহ শাহ মাজার, দামপাড়াওয়াসা, লালখানবাজার, আগ্রাবাদ  মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, এ কে খান মোড় এলাকায় জড়ো হয়ে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে ওইসব এলাকায় বাস সহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম শহর।

রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা উই ওয়ান্ট জাস্টিস সহ নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। তাদের বিভিন্ন গাড়ির লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করতে দেখা যায়। উল্টোপথে আসা যানবাহনকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। আর যে সব যানবাহনের লাইসেন্স নেই সেগুলোতে “ভুয়া” লিখে ছেড়ে দিতে দেখা গেছে। এসময় ছাত্ররা সারিবদ্ধভাবে যানচলাচল করতে বাধ্য করে।ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি আটক করে রাখে শিক্ষার্থীরা। 

সকাল থেকে বৃষ্টি উপক্ষো করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দেয় অনেক অভিবাবকও।বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওয়াসার মোড় এলাকায় একটি বাস ভাংচুর করে।এরপর সেখান দিয়ে চলাচলকারী একটি পুলিশ ভ্যানকে থামানোর চেষ্টা করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। থামাতে না পেরে গাড়িটি লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়লে ভ্যানের চালক পুলিশ সদস্য আহত হয়।নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ঢিলের আঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ১১টার দিকে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থায় নেয় প্রায় হাজার খানেক শিক্ষার্থী।সেখানে প্রায় এক হাজারের মতো শিক্ষার্থী ছিল। এদের মধ্যে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ, পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট ও শ্যামলী পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে।সেখানেও একই উপায়ে যানবাহনের কাগজপত্র দেখছিল শিক্ষার্থীরা।দুই নম্বর গেটে অবস্থানের কারণে সংলগ্ন এলাকা, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বায়েজিদ বোস্তামি সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে যানজট ছড়িয়ে পড়ে।

 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা  জানায়, বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় গড়ে ওঠা আন্দোলনে উত্থাপিত ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে ও আন্দোলনে বর্বর পুলিশী হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রামের ২ নং গেইট মোড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ডাকে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসে যোগ দেয় । দুপুর ৩টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি চলে। বেলা আড়াইটা নাগাদ মহানগর ছাত্রলীগের অব্যহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল যুবক সেখানে অনুপ্রবেশ করে ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, এক পর্যায়ে মাইক্রোফোন ভেঙে যায়। এসময় ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন আন্দোলনকারীকে তারা লাথি ও ঘুষি দেয় এবং ব্যানারে দাঁড়ানো ছাত্রীদের লাঞ্ছনার চেষ্টা করে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই হামলা প্রতিহত করে এবং ধিক্কার দিয়ে স্লোগান দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা সমাবেশ সমাপ্ত করে মিছিল নিয়ে তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রবর্তক, মেডিকেল, চকবাজার হয়ে এগিয়ে যায় এবং জামালখান, প্রেসক্লাবে গিয়ে মিছিল শেষ করে।

সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে যানবাহন চলাচল না করায় হেঁটেই গন্তব্যে রওনা হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করছে। তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

সিলেট ব্যুরো : নিরাপদ সড়কের দাবিতে এবার উত্তাল সিলেট। শিক্ষার্থীদের ডাকা আন্দোলনে নেমেছে স্কুল, কলেজ, মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসাসহ বিভিন্ন বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা। ব্যানার ফেস্টুন হাতে থাকা শিক্ষার্থীদের স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের রাজপথ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টা থেকে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মিছিল নিয়ে নগরীর চৌহাট্টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে আসতে থাকে নগরীর বেশকিছু বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা।

এসময় জিন্দাবাজার, রিকাবীবাজার, আম্বরখানা, মিরবক্সটুলা, চৌহাট্টা রোডসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সাময়িক সময়ের জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ব্যবস্থাপনায় চৌহাট্টা সড়কের বিকল্প সড়ক দিয়ে গাড়িগুলোকে বের করে দেয়া হয়।

এসময় জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে নানা রকমের স্লোগান দিতে থাকে। শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ডে নানা ধরণের স্লোগান নিয়ে উপস্থিত হন আন্দোলনস্থলে। যেমন- 'যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ/ যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ', ‘আমরা বিচার চাই’, ‘ছাত্র-শ্রমিক ভাই-ভাই, নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘বেপরোয়া গাড়ি, ওরা কিভাবে ফিরবে বাড়ী’। তারা বাসচাপায় নিহত দিয়া ও রাজীবকে চাপা দেয়া বাস চালকের ফাঁসি দাবি করেন। আন্দোলন স্থলে  বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তারা ছাত্রদের সাথে কোন ধরণের কোন বাকবিতন্ডায় জড়াতে দেখা যায়নি।

শাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে গতকালও আন্দোলনে নেমেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’র ব্যানারে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে এ সময় যানবাহন চলাচলে কোন বাধা সৃষ্টি করেননি তারা।

‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও এক হও’ স্লোগানে মুখরিত শিক্ষার্থীদের হাতে এ সময় প্রতিবাদসূচক বিভিন্ন ফেস্টুন দেখা যায়; যেখানে লেখা ছিল ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, 'হামলাকারী পুলিশের বিচার কর, করতে হবে,’ ‘নিরাপদ সড়ক চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই’ প্রভৃতি স্লোগান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টা মানববন্ধন করে বিক্ষোভ মিছিল বের করে মদিনা মার্কেট এলাকা ঘুরে আবার প্রধান ফটকের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হন তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, নৈতিক আন্দোলনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নেমেছে। আমরা তাদের দাবির সাথে সংহতি জানাচ্ছি। তারা বলেন, পুলিশ দিয়ে পিঠিয়ে, হুমকি-ধমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না। এসব চলতে থাকলে দেশের ছাত্র সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে। অদক্ষ চালক এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে প্রায়ই মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তাই এগুলোকে দুর্ঘটনা না বলে আমরা হত্যাকন্ড বলবো। নিহত দুই শিক্ষার্থীদের সহপাঠীদের নয় দফা দাবি মেনে না নিলে আমরা তাদের সাথে সংহতি জানিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামবো। সমাবেশে ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’র আহ্বায়ক জুয়েল রানার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তৌহিদুজ্জামান জুয়েল, খৈরম কামেশ্বর, রিফাত হায়দার, আদনান শাহ নাহিদ ও শুভম ঘোষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ