ঢাকা, শুক্রবার 3 August 2018, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অন্যদিকে প্রভাবিত করতে প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমানকে আক্রমণ করেছেন  -----মির্জা ফখরুল

 

স্টাফ রিপোর্টার : নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, টানা কয়েক দিনের ঘটনায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ‘জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার সঙ্গে জড়িত’  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া এমন  বক্তব্যের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী আবারও জিয়াউর রহমানের ওপর আক্রমণ করেছেন। অথচ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

বুধবার বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ে জড়িত জিয়াউর রহমানের বিচার করতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেকে অন্যদিকে প্রভাবিত করার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ওপর আক্রমণ করেছেন। উনি বলেছেন, মুজিব হত্যার সাথে শহীদ জিয়া জড়িত। উনি তার বিচারটা করে যেতে পারলেন না। কিন্তু কোথাও আজ পর্যন্ত এই ঘটনার সাথে শহীদ জিয়ার জড়িত থাকবার কথা কেউ বলেননি। আর মুজিব হত্যার যে বিচারটা হয়ে গেল, সেই বিচারে কোথাও এবং কোনো স্বাক্ষীও জিয়াউর রহমানের নাম বলেননি।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরাও তো প্রশ্ন করতে পারি এবং মানুষ প্রশ্ন করতেই পারে, আপনি বিদেশ থেকে ফিরে আসলেন- তার ১৭ দিন পরে চট্রগ্রামে জিয়াউর রহমান নিহত হলেন। তাই এগুলো উচিত না। এগুলো ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসলে কেঁচো খুঁড়তে অনেক সাপ বেরিয়ে আসতে পারে। সুতরাং অযথা যেটা সত্য নয়, সেটাকে সত্য বানানোর চেষ্টা করবেন না। 

ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রদের অভিনব আন্দোলনে সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী নিহতের পর শাজাহান খান যা বলেছেন, এটা কোনো রাজনৈতিক নেতা বলতে পারেন না। তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন না করে উল্টো তিনি ভারতের কথা বলেছেন, তারপর হেসেছেন। মন্ত্রী এত নির্লজ্জ হতে পারে। মন্ত্রীদের  বৈঠকেও তিনি ছিলেন। প্রথম দাবি তো নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ। পাশাপাশি আমরা সরকারেরও পদত্যাগ দাবি করছি। 

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা বিক্ষোভের পঞ্চম দিনে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মির্জা ফখরুল। বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করছি। একইসঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা ও গণপরিবহনের সংকট সমাধানে ব্যর্থতার জন্য সরকারের পদত্যাগ চান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, এখানে ভয়াবহ কা-, পাশবিক অত্যাচার নির্যাতন চলছে এবং এই পাশবিক অত্যাচার-নির্যাতনের মূল কারণটা হলো, যার যা খুশি করছে। এখানে সরকার বলে আদৌ কিছু নেই। ইট হেজ টোটালি ফেইলড অ্যান্ড কলাপস্ড। আমরা যেটা বলে আসছি- এটা একটা পুরোপুরি ব্যর্থ সরকার। আমরা এই ঘটনাবলী ও গত ঘটনার জন্য অবিলম্বে সরকারকে দায়ী করছি এবং তাদের পদত্যাগ দাবি করছি। আমরা শুধু নৌমন্ত্রী বা সেতুমন্ত্রীরই নয়, আমরা পুরো সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি এজন্যে যে, তারা সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার বিশৃঙ্খলা করছে, জনজীবনকে দুর্বিষহ করে ফেলেছে। মানুষ এখন জীবনের কোনো নিরাপত্তা কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। তিন দিন ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের এই আন্দোলন চলছে, কী দুর্ভোগ চলছে। সেটা নিরসন করবার কোনো ব্যবস্থা নেই। সরকার সুন্দর সুন্দর কথা বলছে, মিষ্টি কথা বলছে। যে কাজগুলো করা দরকার সেগুলো করছে না। প্রথম দিনই যদি ব্যবস্থা নিতো তাহলে পরের দিন নারায়ণগঞ্জ ও শনির আখড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটতো না। কুর্মিটোলায় বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার শোকপ্রকাশ করে ঘটনার পর নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, সড়ক মন্ত্রী কি দায় অস্বীকার করতে পারেন? কেন কোনো ম্যানেজমেন্ট নেই, ট্রাফিকের সিস্টেম নেই? সরকারকে সরানোর জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে ফখরুল বলেন, দেশের সমস্ত জায়গায় অরাজকতা চলছে। সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রতারক সরকার সমস্ত প্রতিষ্ঠান শেষ করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন একেবারেই শেষ। তারা যেভাবে পারে বিরোধী মতকে দমন করছে। এ বিষয়গুলো জনগণের জানা আছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন,   দেশে সড়ক পরিবহনে একটা বিশৃঙ্খলা চলছে। আমার মনে হচ্ছে এটা দেখার কেউ নাই। যা খুশি তাই করছে, কোনো বিচার নেই- গাড়ির ড্রাইভার হোক, পুলিশ হোক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হোক, যেই হোক। দেখবেন রাজধানীতে ট্যাম্পু চালকরা তাদের বয়স ১৪/১৫ বছর । 

নতুন আইনে পরিবহন আইনে বাসের দুই দিকে এবড়ো-থেবড়ো থাকলে রেজিস্ট্রেশন-লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া; বাস ও ট্রাক ড্রাইভারের ক্যাটাগরি রাখা; তাদের উপযুক্ত ট্রেনিং স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া; বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া এবং বাসের মালিককে বাসের চালক নিয়োগ দেওয়ার বিধান প্রবর্তন করার প্রস্তাব করেন সাবেক পরিবহন মালিক নেতা আব্বাস। দুর্ভোগ কী জানেন? এই শাজাহান খানদের মতো লোকেরা এসে এমন একটা অবস্থা করলো- আমার বাসটা টার্মিনালে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে আমার বাসের ড্রাইভার পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। কে চালাচ্ছে জানার উপায় নেই। অনেকদিন যাবত এটা চলছে। 

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ভবিষ্যতে যারা দেশ পরিচালনা করবে আমাদের সেই সন্তানেরা গতকাল যা করেছে, যেভাবে গাড়ি চালকদের লাইসেন্স দেখেছে তাকে সমর্থন জানাই। আমরা যেটা পারিনি তারা সেটা পেরেছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি নেতা আতাউর রহমান ঢালী, আবুল কালাম আজাদ, আমানউল্লাহ আমান, আসাদুল করীম শাহীন, রফিক সিকদার, নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ