ঢাকা, শুক্রবার 3 August 2018, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকছে শিবির-ছাত্রদল ভিন্নখাতে নিতে সচেষ্ট

স্টাফ রিপোর্টার : নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সচেষ্ট বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।আন্দোলনকারীদের সব দাবি পূরণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে তাদের এখন ঘরে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি; এক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহায়তাও চেয়েছেন তিনি।

ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে গত ২৯ জুলাই বাসচাপায় দুই কলেজছাত্রের মৃত্যুর পর টানা পাঁচ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাজধানীর সড়কগুলো দিনভর অচল রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনা ও কর্তৃপক্ষের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন দেখা যাচ্ছে। আমরা দেখেছি, এই আন্দোলনের মধ্যে শিবির ও ছাত্রদল সম্পৃক্ত হয়েছে। “আমাদের কাছে ছাত্রদল ও শিবিরের কথোপকথনের অডিও রয়েছে। সেখানে ছাত্রদলকে স্কুল ও কলেজের ড্রেস পরে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দিতে শোনা গেছে।”

শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “এই আন্দোলন সহিংসতার দিকে টার্ন করতে পারে। কারণ, আমরা দেখিছি কাফরুল থানায় আক্রমণ করা হয়েছে। রাজারবাগ ও মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজম্যান্ট-এ ঢিল ছোড়া হয়েছে।”

মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের সঙ্গে সরকার সমর্থক যুবকদের হামলার অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানেও ছাত্রদলের কর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিল, তখন তা প্রতিরোধে স্থানীয়রা এগিয়ে  গিয়েছিল বলে তিনি খবর পেয়েছেন।

গত পাঁচ দিনের আন্দোলনে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই কয়দিনে ৩১৭টা গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। আটটি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। তাই আমরা এই আন্দোলন কনটিনিউ না করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহায়তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা মনে করি, তারা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা দেশবাসী জেনে গেছে। সুতরাং এই ধরনের পরিস্থিতিতে একটা সাবোটাজ ঘটতে পারে।“তাই অভিভাবক, শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্য ও প্রতিবেশীকে অনুরোধ করব, এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে মাঠে না নামে, তাদেরকে বোঝাতে।”

আন্দোলন থেমে গেলে এই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা অনেক ছোট ছোট। এই কারণে তাদেরকে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।” শিক্ষার্থীর বিভিন্ন দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো স্কুল-কলেজের পাশে রাস্তা থাকলে সেখানে ট্রাফিক পুলিশ থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারে সহযোগিতা করবে।যেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন, সেখানে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে নতুন আইন শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘একটি মহল আন্দোলনের মধ্যে নাশকতা তৈরির চেষ্টা করছে। যেকোনও সময় যেকোনও কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফেরত যাওয়ার।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশ ধৈর্য সহকারে বসে আছে। কিছু বলছে না। কিছু একটা হয়ে গেলে এর দায় নিরাপত্তাবাহিনী নিতে পারবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এসব আন্দোলনে সুবিধাবাদী বা স্বার্থন্বেষী মহলের সম্পৃক্ততা দেখা যায়। ছাত্রদের খাবার দিয়ে তাদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এই কোমলমতি ছাত্ররা তাদের সহপাঠী হারানোর বেদনায় সিক্ত হয়ে সহানুভূতি জানাচ্ছে। কিন্তু এটা ভিন্ন দিকে টার্ন নিতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ