ঢাকা, শুক্রবার 3 August 2018, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন  -শিবির সভাপতি

গতকাল রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সভাপতির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত

 অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে যে সুযোগ ও অধিকারগুলো শিক্ষার্থীসহ সবার পাওয়ার কথা সে অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। যা সরকারের জন্য লজ্জার বিষয়। শিক্ষার্থীরা রাজপথে বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থান নিলেও সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে না মেনে সময় ক্ষেপণ করছে। একই সাথে নৌ মন্ত্রীও বহাল তবিয়েতেই আছে। অবিলম্বে নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসন করুন। 

গতকাল রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় বৈঠকে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, দাওয়াহ সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক, সাহিত্য সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবীসহ সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

শিবির সভাপতি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবি যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা, ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, লাইসেন্স-বিহীন গাড়ির অনুমোদন না দেয়াসহ দাবিগুলো শুধু শিক্ষার্থীদেরই নয় বরং এগুলো জনদাবি। কিন্তু সরকার শিক্ষার্থীদের ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সরকার শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। সব দাবি মেনে নিলে নৌমন্ত্রী এখনো বহাল তবিয়েতে আছেন কিভাবে? কিভাবে ছাত্রলীগ যুবলীগ পরিবহন শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে পার পেয়ে যাচ্ছে? কারওয়ান বাজারে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গাড়ি ভাংচুরের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে ছাত্রলীগ কর্মী। এমনকি আজও শুধু বাস নয় পুলিশের গাড়িও লাইসেন্স বিহীন চলছে। সুতরাং দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা সরকারের ধোঁকাবাজি তাতে কোন সন্দেহ নেই। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বুঝানোর জন্য সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যারা গত বুধবারও যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে। যারা সামান্য কারণে একে অন্যের উপর হামলে পড়ে, বহু ছাত্রের রক্তে যাদের হাত রঞ্জিত, যারা প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি করেছে। এরা ছাত্রসমাজের প্রতিটি যৌক্তিক আন্দোলনে হামলা নির্যাতন করেছে। ছাত্রলীগের প্রতিটি হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। এখন তাদেরকেই এ দায়িত্ব দেয়া শুধু হাস্যকর বিষয়ই নয় বরং একটি স্পষ্ট অশনিসংকেতও। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে বুঝানোর না হামলা করার দায়িত্ব দিয়েছেন তা নিয়ে অভিভাবক এবং ছাত্রসমাজের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে সর্বস্তরের ছাত্রজনতা একাত্মতা ঘোষণা করেছে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পৃক্ততা প্রকাশ করেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে সময় ক্ষেপণ করলে তা কারো জন্যই ভাল হবে না। বিদ্রুপ ও দম্ভোক্তি করার পরও যদি নৌ মন্ত্রী মন্ত্রীত্বে বহাল থাকেন তাহলে সমস্যা আরো প্রকট হবে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান রেখে বলতে চাই, যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মহান সংসদে দাঁড়িয়ে ছাত্রসমাজকে দেয়া ওয়াদা অবলীলায় ভঙ্গ করেছেন। সেখানে শিক্ষার্থীরা আপনাদের ধোঁকাবাজি বিশ্বাস করে না। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের দাবির বাস্তবায়ন করে তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। হামলায় আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বাসচাপায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ