ঢাকা, শুক্রবার 3 August 2018, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কাজিপুরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি মানুষের দুর্ভোগ চরমে

 

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : উজান থেকে নেমে আসা পাহারি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা পারের মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কাজিপুরে যমুনার পূর্ব পাড়ের মানুষের একমাএ যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা। তাই নৌকার অপেক্ষায় নদীর কিনারায় দাড়িয়ে থাকতে হয়। নারীদের প্রায়ই হাঁটু পানি ভেঙ্গে নোঙর করা নৌকায় উঠতে হয়। এতে ভিজে যায় কাপড়। কখনও কেউ কেউ পা ফস্কে পানিতে পড়ে যায়। এমন দুর্ভোগের চিএ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর নৌঘাটের যাত্রী পারাপারের। কাজিপুর উপজেলার পূর্বপাশ দিয়ে বহমান যমুনা নদী। নদীর পূর্ব পশ্চিম তীরে মাইজবাড়ি, খুদবান্দি,শুভগাছা, বাঐখোলা, সিংরাবাড়ি, তেকানী, চরগিরিশ, খাসরাজবাড়ি, ছিন্নাভেটুয়া, ছালালঘাট। ৪০ বছরে নৌ ঘাট গুলোর কোন উন্নয়ন হয়নি। নৌ যাত্রীদের সেবার মান ও বাড়েনি। প্রতিদিন এইসব ঘাট থেকে প্রায় ৩০ টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের কাজ করে। বর্তমানে যমুনা নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে ঘাটগুলো তলিয়ে যাওয়ায় নৌকায় উঠানামা করতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নৌঘাটে যাত্রীদের জন্য কোন ছাউনি নেই। ফলে যাত্রীরা নৌকার অপেক্ষায় যত্রতত্র ভাবে বসে থাকতে হয়। ঘাট এলাকার কোন গনোশোউচাগার নেই। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাত্রীদের চরম কষ্ট করতে হয়। নৌকায় কোন যাত্রী ছাউনি বা বসার জায়গা নেই। ফলে যাত্রীরা নৌকার গুরা কিংবা বাঁশের তৈরি মাচালের উপর বসে থাকতে হয়। যাত্রীদের নৌকায় রোদের পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে নদীপথ পাড়ি দিতে হয়। নৌকা গুলোতে বেড়া না থাকায় যাত্রীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। নৌকায় লক্কড় ঝক্কড় মার্কা পুরানো শ্যালও ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে। নদী পথে চলাচল করতে প্রায়ই নৌকার ইঞ্জিন বিকল যাত্রীদের নদীর বুকে ভাসতে হয়। মালামাল পরিবহনে আলাদা কোন নৌকা নেই। নৌকার মাঝে গবাদিপশু, মালামাল ও যাত্রীরা সবাই গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে। নৌপথের যাত্রী নিশ্চিন্তপুরের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম ও মাইজবারি চরের নজ্রুল ইসলাম তালুকদার বলেন,”নৌকায় বেড়া ও ছাউনি না থাকায় চলাচলে ঝুকি থাকছে। শুষ্ক মওসুমে রোদে পুড়ে কষ্ট করি। বর্ষার সময় ঘাট থেকে নৌকায় উঠার কোন ব্যবস্থা নেই। নৌকায় উঠতে হয় হাটু পানি ভেঙ্গে। এতে অসুস্থ রোগী, নারী ও শিশুদের ভোগান্তি হয় বেশি।“ নৌকার মালিক বাদশা মিয়া বলেন, “ছাউনি ও বেড়া দিলে নৌকার জায়গা ও নৌকার গতিও কমে যায়। ছাউনি দিয়ে নৌকা চালালে নৌকায় বাতাস লেগে গতি কমে যায়। এছাড়া নদীর পাড় ভাঙ্গনের কারনে নৌকায় উঠার মতন স্থায়ী কোন ব্যাবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না।“

 রোপা আমন ধান ও বিজতলা ডুবে গেছে : গত বৃহস্পতিবার রাতে কাজিপুরের প্রবল বর্ষণে কাজিপুরের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাচল প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় এইসব নিচু এলাকার সদ্য লাগানো রোপা আমন ধান ও রোপা আমনের বীজতলা ডুবে যাওয়ায় এইসব এলাকার কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় গ্রাম গুলো হচ্ছে, গান্দাইল, বড়ইতলা, সেরারপারা, দুব্লাই, বাওইখোলা, আলমপুর, নয়াপাড়া, কাচিহারা, মাথাইলচাপর, বড়শিভাঙ্গা, শিমুলদাইর, গারাবের, চালিতাডাঙ্গা, স্থলবাড়ি, রশিকপুর এইসব এলাকায় সদ্য লাগানো রোপা আমন ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় অত্র এলাকার কৃষকেরা খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে গেছে। এছারা অত্র এলাকার রোপা আমন ধানের বীজতলাগুলো ডুবে গেছে বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ