ঢাকা, শুক্রবার 3 August 2018, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় আইসক্রিমের কারখানার কোন লাইসেন্স নেই

খুলনা অফিস : খুলনায় আইসক্রিমের কারখানার কোন লাইসেন্স নেই। এ সব কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে আইসক্রিম। যে সব উপাদান এসব আইসক্রিমে ব্যবহার করা হয় তা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের অস্থিমজ্জার ক্ষতি হতে পারে। এ থেকে ব্লাড ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। শিশুদের মানসিক বিকাশে এ ধরনের রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে ব্যাপক। এসব করে কারখানার মালিকরা অল্প দিনেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেলেও দেখার যেনো কেই নেই। 

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর অধিকাংশ কারখানার মাত্র ২০ থেকে ২৫ ফুটের একটি রুম। রুমের মধ্যে ভেজা এবং স্যাঁতসেঁতে নোংরা। যার একপাশে শীতলীকরণ যন্ত্রে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম বা আইসবার আর বাকী পাশে রয়েছে ঘনচিনি, স্যাকারিন, খাওয়ার অনুপযোগী রঙ, অ্যারারুট, সুইটিক্স ও ফ্লেভার। তাও রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত আইসবার এবং আইসক্রিমগুলো দৃষ্টিনন্দন করতে ব্যবহৃত হয় অন্য কোনো নাম করা কোম্পানির মোড়ক। যার মধ্যে নরসিংদীর কিরণমালা, কিরণমালা কুলফি, নোয়াখালীর ইত্যাদি কোয়ালিটি আইসক্রিম, ক্যাটবেরী, স্পেশাল চকবার, অরেঞ্জ লোলি অন্যমত। নগরীর বড়বাজারস্থ খানজাহান আলী হকার্স মার্কেটে এ ধরনের মোড়ক অনায়াসে কিনতে পাওয়া যায়। মোড়কের গায়ে রয়েছে উৎপাদিত পণ্যের উপকরণের নাম। যার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি কারখানাগুলোতে। মোড়কের গায়ে উৎপাদিত পণ্যের মেয়াদ ও মূল্য নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানের নামীদামী কোম্পানির নামের দৃষ্টিনন্দন মোড়কের জালে আটকে যাচ্ছে নানা বয়সী মানুষ। নগরীতে ইতোমধ্যে অনেক আইসক্রিম কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে। তারপরও বন্ধ হয়নি সে সব কারখানা। নগরীর আজাদ লন্ড্রীর মোড় এলাকায় ৩টি, গল্লামারি অগ্রণী ব্যাংক কলোনী এলাকায় একটি, টুটপাড়া ফরিদমোল্লার মোড় এলাকায় একটি, বাগমারা সোনামণি স্কুলের পাশে দু’টি আইসক্রিম কারখানার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এছাড়া খালিশপুর, দৌলতপুর এবং ফুলবাড়িগেট এলাকায় আইসক্রিম ফ্যাক্টরি রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ফ্যাক্টরিগুলোর নিজস্ব কোনো নাম নেই। সকলেই চলে বাজার থেকে কিনে আনা মোড়কের ওপর নির্ভর করে।

নগরীর জোহরা খাতুন স্কুলের শিশু শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোসা. সোহানা জামান জানান, স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে একটা আইসক্রিম কিনে দিয়েছিলাম আমার বাচ্চাকে। বাড়িতে ফিরতেই পেটে সমস্যা হয়। সেই সময়ই হাসপাতালে নিয়ে গেছি। সাতদিন থাকতে হয়েছিল হাসপাতালে। আইসক্রিমগুলোর যে রঙ তা হাতে লাগলে সহজে উঠতে চায় না। এমন কি ব্যবহার করে আইসক্রিমে যা খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই আইসক্রিমগুলো যারা তৈরি করছে তাদের সন্তানদেরকে খাওয়াতে হবে। এতটুকু নগরীতে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা থাকেন কিন্তু কেউ কোনো উদ্যোগ নেয় না।

নগরীর দৌলতপুর এলাকার মো. মনিরুজ্জামান মনি জানান, এ ধরনের আইসক্রিম কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া উচিত। এরা যে ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে তা যদি কেউ জানে এবং দেখে তাহলে আর কোনোদিন এই আইসক্রিম খাবে না। মোবাইল কোর্টে শুধুমাত্র জরিমানা করলে হবে না। এ ধরনের কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে হবে।

টুটপাড়া ফরিদ মোল্লার মোড় এলাকার ইভা আইস বার’র স্বত্বাধিকারী শেখ খোকন জানান, আমরা অল্পকিছু আইসক্রিম তৈরি করি। নগরীরতে অনেক জায়গায় আরও বড় বড় আইসক্রিম কারখানা রয়েছে। মাঝে মাঝে জরিমানাও দেয়। খুলনায় এমন কোনো আইসক্রিম কারখানা নেই যেখানে বিএসটিআই’র অনুমোদন রয়েছে। সবাই একই রকম রঙ এবং ফ্লেভার ব্যবহার করে। আর সকল ধরনের আইসক্রিমের মোড়ক, কাঠি, ফ্লেভারসহ সকল উপাদান বড় বাজারে পাওয়া যায়।

নোংরা পরিবেশ এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে তৈরি আইসক্রিম স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে জানান খুলনা সিভিল সার্জন এএসএম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, যেসব উপাদান এসব আইসক্রিমে ব্যবহার করা হয় তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের অস্থিমজ্জার ক্ষতি হতে পারে। এ থেকে ব্লাড ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। শিশুদের মানসিক বিকাশে এ ধরনের রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে ব্যাপক।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) খুলনার পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, নগরীতে একটি আইসক্রিম তৈরির প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন রয়েছে। আইসবার তৈরির প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বিএসটিআই থেকে দেয়া হয় না। অবৈধ এবং গুণগতমানের নিচে কোনো আইসক্রিম তৈরি করলে ভ্রাম্যমাণ অভিযানের মাধ্যমে জরিমানা করি পাশাপাশি তাদেরকে আইন মেনে পণ্য তৈরির বিষয়ে পরার্মশ দিয়ে থাকি।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত রয়েছে। আমরা ভ্রাম্যমাণ অভিযানের মাধ্যমে ভেজাল পণ্য তৈরির ব্যাপারে জরিমানা করে থাকি। এছাড়া বিএসটিআই যদি কোনো ধরনের অভিযানের জন্য আমাদের সহায়তা চায় তাহলে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। তাছাড়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ