ঢাকা, শুক্রবার 3 August 2018, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ২০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনার বর্তমান জেলা কারাগার হবে ডিআইজি অফিস ও বাসভবন

খুলনা অফিস : খুলনা জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে হবে ডিআইজি’র অফিস ও বাসভবন। একই সাথে কারাগারের ভেতরে থাকবে সেখানে কর্মরত স্টাফদের আবাসন ব্যবস্থা। এদিকে বর্তমানে জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বন্দী রয়েছে।

জানা গেছে, খুলনা জেলা কারাগারে বন্দী ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৬০৮ জন। কিন্তু ৩০ জুলাই পর্যন্ত কারাগারে বন্দী ছিল ১ হাজার ৩৬৪ জন। যা ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি। বন্দীদের নিয়মানুযায়ী প্রতিদিন দুইবার করে গণনা করা হয়। তাদের খাবার সরবরাহ করা হয় কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে। এদিকে বন্দীদের জন্য নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে খুলনা জেলা কারাগার। এ লক্ষ্যে ২০০৮ সালে খুলনায় নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১১ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন মেলে। সব বাধা কাটিয়ে গত বছর নগরীর সন্নিকটে রূপসা বাইপাস সড়কের পাশে ডুমুরিয়া উপজেলার চক মথুরাবাদের আসানখালী মৌজায় ৫৬ একর জমির ওপর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। যেখানে ধারণ ক্ষমতা দুই হাজার বন্দীর।

কারা কর্মকর্তা জানান, খুলনা বিভাগীয় ডিআইজি’র কার্যালয় বর্তমান যশোরে। নতুন কারাগার নির্মাণ শেষ হলে স্থানান্তর করা হবে জেলার পুরাতন কারাগারে। সেখানে থাকবে ডিআইজি’র বাসভবন ও অফিস। একই সাথে থাকবেন সেখানে কর্মরতরাও। এদিকে নির্মাণাধীন কারাগারে নির্মাণ করা হবে ছোট-বড় ৫২টি ভবন। বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের পৃথক স্থান, মা ও শিশুদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাসহ নারীদের ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার ও পুরুষ বন্দীদের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকবে। এছাড়া বন্দীদের জন্য স্কুল, আধুনিক লাইব্রেরি, ডাইনিং রুম, সেলুন, লন্ড্রি ইত্যাদিও থাকবে। এ ছাড়া কারাগারে শিশুদের জন্য থাকবে পৃথক ওয়ার্ড ও ডে-কেয়ার সেন্টার। সেখানে শিশুদের জন্য লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা থাকবে। শিশুসহ মা বন্দীদের জন্যও থাকবে আলাদা আরেকটি ওয়ার্ড। কারাগারে পুরুষ ও নারী বন্দীদের হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা ওয়ার্কশেড, বিনোদন কেন্দ্র ও নামাজের ঘর থাকবে।

কারাবন্দী সোহেল বলেন, তাদের থাকতে ও খাওয়া-দাওয়ায় কোনো ধরনের অসুবিধা হয় না। তারা খুব ভালই থাকেন।

খুলনা কারাগারের জেলার মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দী থাকলে সমস্যা হওয়ার কথা না। তার চেয়ে অতিরিক্ত থাকলে তখন প্রশ্ন আসবে। আর খাবার তাদের তত্ত্বাবধানে সরবরাহ করা হয়। খাবারের মানের বিষয়ে তিনি অন্য সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে জানতে বলেন।

খুলনা জেল সুপার কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান কারাগারটি হবে ডিআইজি’র অফিস ও বাসভবন। সেখানে ডিআইজি অফিসের স্টাফরাও থাকবেন। কেননা বর্তমানে ডিআইজি অফিস যশোরে। নতুন কারাগারে স্থানান্তর হলে তখন এই কারাগারে ওই অফিস হবে। উল্লেখ্য, ১৯১২ সালে নগরীর ভৈরব নদের তীরে নির্মাণ করা হয় খুলনা জেলা কারাগার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ