ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিক্ষার্থীদের দখলে দেশের রাজপথ

স্টাফ রিপোর্টার : দাবি মেনে নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘরে ফেরার আহ্বান জানানোর পরও টানা ষষ্ঠ দিনের মতো গতকাল শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনেও রাজধানীর কয়েকটি এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা রাজপথে অহিংস অবরোধ কর্মসূচি পালন করে, বিক্ষোভ করে। গত পাঁচ দিনের মতো ব্যাপক আকারে না হলেও রাজধানীর মিরপুর, প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, আসাদ গেট, উত্তরা, রায়েরবাগ, মগবাজার, শান্তিনগর, উত্তরা এলাকাসহ প্রধান প্রধান  সড়কে শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে।
বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে অবস্থান নেয়। তাদের একজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র শিক্ষার্থী তাহরিম সাম বলেন, “মিডিয়ায় ফোকাসড হওয়ার জন্য নয়, আমারা দাবি মেনে নেয়ার জন্য আন্দোলন করছি।”
সড়ক নিরাপদ করতে শিক্ষার্থীরা যে নয়টি দাবি তুলেছেন, তা পূরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সংবাদ সম্মেলন করে জানান।
সমালোচনার মুখে থাকা নৌমন্ত্রী ও পরিবহণ শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের বার বার ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সড়ক পরিবহণমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এরপরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে অযৌক্তিক।
‘বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরেও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান কীভাবে হাসতে পারেন- এই প্রশ্ন রেখে সাম্য বলেন, “আমরা শাজাহান খানের পদত্যাগ চাই। এখানে অনেকেই বলছে, এটা বিএনপির দাবি। কিন্তু না, এটা সাধারণ ছাত্রদের দাবি। এই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই আমরা।” শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির ‘সুনির্দিষ্ট’ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বিউইবিটি, বিসিআইসি কলেজের শিক্ষার্থী মিরপুরে জড়ো হন। সেখানে একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দাবি পূরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে কোনো ঘোষণা না পাওয়ায় তারা বের হয়েছেন। তারা দাবি মেনে নেওয়ার লিখিত ঘোষণা চান।
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, “দিয়া আর করিমের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে দিলেই কি সব সমাধান হয়ে যাবে? সড়ক দুর্ঘটনা কি শেষ হয়ে যাবে? ফিটনেসবিহীন, অদক্ষ চালকরা আর গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হবে না? আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে থাকব।”
সেখানে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী প্রিয়া বলেন, “আমাদের মিরপুরে অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এটা নিত্যদিনের ঘটনা। মনিপুরের একটা বাচ্চা কিছুদিন আগেই বাসের চাপায় মারা গেছে। আমার সাথের বন্ধু মারা গেছে বাসের চাপায়। এখানকার কোনো মানুষের নিরাপত্তা নাই।”
আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিরপুর ২ নম্বরে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে পুলিশ মারধর করে বলেও অভিযোগ করেন এই শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা এক অভিভাবক পারুল বলেন, “আমরা পারি নাই দেখেই ওরা রাস্তায় নামছে। এই অবস্থার সমাধান এখন না হলে কোনোদিনই হবে না।”
মিরপুর ১০ নম্বরে আসা অনেক শিক্ষার্থীই ট্রাফিকের ভূমিকা পালন করছিলেন, অনেকে আবার পথচারীদের নির্দেশনা দিচ্ছিলেন ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হলেও তাদেরকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল থেকে শাহবাগ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. আজিমুল হক বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে যেন কোনো কিছু করতে না পারে সেদিকে আমরা নজর রেখেছি। শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টি বোঝানো হচ্ছে।” সকালে কিছু শিক্ষার্থী মিরপুর-১ নম্বরে জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন।
সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, আড়ং ও আসাদগেট এলাকায় অবস্থান নেয় কয়েকশ শিক্ষার্থী। তাদের কেউ মানববন্ধন করছিলেন, আবার অনেকে সড়কে নেমে গাড়িতে শৃঙ্খলার আনার কাজে কাজে যুক্ত হন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের একজন তৌহিদ আসাদ বলেন, “শুক্রবার সপ্তাহিক ছুটির দিন ও বিসিএস পরীক্ষা থাকায় বড় ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়া হয়নি। তবে গণস্বাক্ষর অভিযানের মতো কর্মসূচি করার চিন্তা করা হচ্ছে।”
মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে কয়েক দফায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নেয়। গোল চত্বরে হারুন মোল্লা ট্রাফিক পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নিচে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শুরুতে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান নেয়। পরে সেই সংখ্যা বাড়ে। জুমার নামাজের বিরতির পর শিক্ষার্থীরা আবার সড়কে অবস্থান নেয় এবং আজ শনিবার সকাল থেকে একই জায়গায় আবারও অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেয়। বাসসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচলে তারা বাধা দেবে না বলে জানায়।
শুক্রবার বলে শিক্ষার্থীদের পরনে স্কুলের নির্ধারিত পোশাক ছিল না। তবে গলায় আইডি কার্ড ঝোলানো ছিল। স্কুলের চেয়ে কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ছিল সংখ্যায় বেশি। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ভাষানটেক কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড শিক্ষার্থীদের গলায় ঝোলানো ছিল। হাতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল। জুমার নামাজের বিরতির পর বেলা তিনটার দিকে আবারও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নেয়। ওই সময় শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়। তারা চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করছিল। মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট পরার পরামর্শ দিচ্ছিল।
অবস্থান কর্মসূচিতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আইডি কার্ড ঝোলানো এক ছাত্র বলেন, ‘আমরা কারও শত্রু না। আমরা কারও বিরুদ্ধে নই। আমরা সরকারের বিপক্ষে নই। সড়ক নিরাপদ করার দাবি নিয়েই শুধু এসেছি। আস্তে আস্তে দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে, একটা পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে। আমরা ছোট মানুষ, আমাদের হয়তো দুটা চড়-থাপ্পড় দেবেন, মার দেবেন,আর তো কিছু না। দাবি একটাই, আমাদের চলাচল নিরাপদ করা। নিরাপদ সড়ক চাই। কাল ১০টায় একই জায়গায় আবার আমরা জড়ো হব। সবাই ইউনিফর্ম পরে আসব।’
শিক্ষার্থীরা জানায়, বাসসহ কোনো যানবাহন চলাচলে তারা বাধা দেবে না। আজ পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা সহযোগিতা পেয়েছে। পুলিশ লাঠিপেটা করেনি বা বাধা দেয়নি।
গোল চত্বরে হারুন মোল্লা ট্রাফিক পুলিশ কন্ট্রোল রুমের কাছে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে সহিংসতা নেই। বিশৃঙ্খলাও নেই। ওরা (শিক্ষার্থী) এক পাশে ছিল। ওরা আমাদের সঙ্গে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করেছে।’
সকাল ১১ টার দিকে আসাদ গেট, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় এসে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে তারা। এ সময় শিক্ষার্থীদের যানবাহন চলাচল সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে দেখা যায়। অবাধ্য ট্রাফিক-ব্যবস্থাকে বশে আনতে গতকালকেও লাইন ধরে যান চলাচল করতে মাইকিং করে শিক্ষার্থীরা।
গত রোববার ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহণের একটি বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। গতকালসহ টানা ছয় দিন ধরে রাজধানীসহ ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিক্ষোভ করছে তারা।
বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন করে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মানববন্ধনে অংশ নেয়। তারা নিরাপদ সড়কের দাবি জানায়।
অপরদিকে সকালে ঢাকায় মিরপুরে সনি সিনেমা হলের সামনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। হাতে প্ল্যাকার্ড বহন করে মানববন্ধন করে তাঁরা।
মগবাজার ও শান্তিনগরে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। বিকেলে মগবাজার ওয়ারলেসগেটে ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে এই বিক্ষোভ শুরু করে। স্থানীয় কাউন্সিলর বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তারা এখনো বিক্ষোভ করেছেন। এর আগে দুপুরে ওই হাসপাতালের নার্স সাইফুল ইসলাম সেখানে বাসচাপায় নিহত হন। এদিকে বিকেলে শান্তিনগরেও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভের খবর পেয়েছে।
উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকার মাসকট প্লাজার সামনে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীরা। বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে গত ছয়দিন ধরে রাস্তায় ট্রাফিকের কাজ, লাইসেন্স চেক করার কাজ করে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। দুপুর ১টার দিকে নামাজের বিরতির জন্য চলে গেলেও আবার ফিরে আসবে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
টাঙ্গাইল : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের আশেকপুর এলাকায় একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশত শিক্ষার্থী। এতে অবরোধের দুই পাশের তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
গাজীপুর : গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা ও টঙ্গীতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা এবং টঙ্গীর কলেজগেট এলাকায় স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার জাগ্রত চৌরঙ্গীর সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করে। এ সময় মাঝেমধ্যে ট্রাক, পিকআপসহ কিছু হালকা যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, একই সময় টঙ্গীর কলেজগেট এলাকায় আশপাশের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। দুপুর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান করে। সকালে টঙ্গীর ফায়ার স্টেশনের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঢাকাগামী একটি পিকআপ দু’টি রিকশাকে ধাক্কা দিলে রিকশার চার যাত্রী আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের এএসপি সালেহ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সকাল ৭টার দিকে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের সামনে ঢাকাগামী পিকআপ দু’টি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে দুই রিকশার চার আরোহী আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পিকআপ ও তার চালককে আটক করেছে পুলিশ। আটক চালক হাসান (২৭) টঙ্গীর মরকুন এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমানের ছেলে।
সাভার : সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে অবরোধের দুই পাশে তীব্র যানজট দেখা দেয়। দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কের রেডিওকলোনী পয়েন্টে অবরোধ সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীরা। এতে সাভার উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দেয়।
অবরোধের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও ন্যায় বিচার চেয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। কয়েকটি গ্রুপে শিক্ষার্থীরা ভাগ হয়ে চালকদের লাইসেন্স এবং যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট চেক করেছে।
লাইসেন্স এবং ফিটনেসে গাফিলতি পাওয়া মাত্রই ওই সব গাড়ি সাইড করিয়ে চাবি নিয়ে নেয় তারা। যেসব গাড়ির সমস্যা নেই, সেগুলোর মধ্যে কিছু সংখ্যক ছেড়ে দেয়। অবরোধের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। মহাসড়ক সচল করতে শিক্ষার্থীদের ওপর বল প্রয়োগ করা হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান।
রাজশাহী অফিস : ‘নিরাপত্তাহীনতা’ দেখিয়ে রাজশাহীর আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার সব বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহণ শ্রমিক ও মালিকরা। তবে রাতের বাস চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজশাহী থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। হঠাৎ করে পরিবহণ শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে আন্তঃজেলা রুটের যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। তবে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বিআরটিসি’র বাসগুলো নিয়মিত সিডিউল অনুযায়ী চলাচল করছে। একজন পরিবহণ নেতা জানান, ‘নিরাপত্তাহীনতার’ বিষয়টি চিন্তা করে দিনের বেলায় আপাতত বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সন্ধ্যা থেকে বাস চলাচল করবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। আকস্মিক বাস বন্ধ রাখায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। শুক্রবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সড়ক পথে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার যোগযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দূর-দূরান্তে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েও যানবাহন না পেয়ে পথে পথে সাধারণ যাত্রীদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। যে সব যাত্রী অগ্রিম টিকেট কিনেছিলেন তাদেরকে কাউন্টার থেকে এরই মধ্যে টাকা ফেরত দেয়া হয়। কিন্তু আকস্মিক বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় তার যাত্রা বাতিল করতে হয়।
চট্টগ্রাম ব্যুরো : নিরাপদ সড়কের দাবিতে ও ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীরা আবার বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে।তারা সমাবেশ থেকে নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে বললেও আজ দেশের কোথাও ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগে যেমন চলেছে এখনও সেভাবেই চলছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমরা কোনো আশ্বাস চাই না, দাবি বাস্তবায়ন চাই। আমাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, আমরা বহুদিন ধরে চলে আসা একটি ভুল সিস্টেমকে পরিবর্তন করতে চাইছি। আশা করি সরকারের আমাদের পাশে থাকবে।
শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার, কাজীর দেউড়ি, আন্দরকিল্লা সহ কয়েকটি এলাকা থেকে মিছিলযোগে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন।এ সময় তারা রাস্তার একপাশ বন্ধ করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অনেকে সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহনের লাইসেন্স দেখেন।
এদিকে গতকাল চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে দুরপাল্লার যানবাহন বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা।নগরীতে সিএনজি,টেম্পু,সিটি বাস চললেও দুরপাল্লা বাস চলেনি।স্টেশন রোড,পাহাড়তলী আকবর শাহ এলাকা,দামপাড়া এলাকার বাস কাউন্টার বন্ধ করে রেখেছে মালিক শ্রমিকরা।তারা বলছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে যানবাহন চালানো হবে না। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ ঘুরে শ্যামলী, চয়েস ও উত্তরা পরিবহণসহ বিভিন্ন কোম্পানির বাস চলতে দেখা গেছে।চট্টগ্রাম জেলার উত্তর ও দক্ষিণ অংশের ১৪ উপজেলার পথে চলাচলকারী বাসের সংখ্যাও ছিল কম।দক্ষিণ চট্টগ্রামে বিভিন্ন বড় পরিবহনের বাসগুলো চলছে। তবে তাও সংখ্যায় কম। তাই যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. মুছা বলেন, যেভাবে সড়কে শ্রমিকদের মারধর-নাজেহাল এবং গাড়ি ভাংচুর করা হচ্ছে তাতে তারা সড়কে নামতে আগ্রহ পাচ্ছে না।পরিবহণ মালিকরা ভীত। অনেক শ্রমিক আমাদের বলেছে, মালিকের নিষেধ অমান্য করে তো তারা গাড়ি নিয়ে বের হতে পারে না।সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। নগরী থেকে উপজেলাগুলোর উদ্দেশে যানবাহন চলছে। উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম রুটে বাস চলছে। এছাড়া ছোট যানবাহন তো সড়কে চলছেই।
সিলেট ব্যুরো : নিরাপত্তার অজুহাতে পরিবহণ শ্রমিকদের ধর্মঘটে সিলেটে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রেখে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় যান চলাচলে বাধা দিচ্ছেন শ্রমিকরা। সিলেট থেকে অন্য জেলাগুলো কোনো বাস ছেড়ে না যাওয়ায় সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে ফিরে গেছেন যাত্রীরা। অনেকে বিকল্প হিসেবে ট্রেনে যাতায়াত করছেন।
নগরীতেও সিএনজি শ্রমিকরা গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন না। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চলাচলে বাধা দিয়েছেন শ্রমিকরা। তবে নগরীতে রিকশা চলাচল করেছে। সিলেট জেলা পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক জানান, নিরাপত্তার কারনে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর বন্ধ ও নিরাপত্তা না পাওয়া পর্যন্ত গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ থাকবে।
খুলনা অফিস : খুলনা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। যানবাহন ভাংচুর ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। এতে দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারীযাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
সোনাডাঙ্গা বাসটার্মিনালে আসা আবদুল্লাহ নামের এক যাত্রী বলেন, বাস না চলার এমন সিদ্ধান্তের কথা অনেকেই জানেন না। আমার মতো অনেক যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। সোনাডাঙ্গা বাসটার্মিনাল, রয়্যালের মোড় ও শিববাড়ির মোড়ের অনেক কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যেগুলো খোলা আছে সেখানে অলস সময় পার করছেন কর্মচারীরা।
নগরীর রয়্যালের মোড়ের টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের কাউন্ডারের টিকিট বিক্রেতা স্বপন বলেন, যানবাহন ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমাদের রাস্তায় গাড়ি বের করতে নিষেধ করেছেন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
পরিবহণ শ্রমিক নেতারা জানান, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল একটি গোষ্ঠী ঢুকে পড়েছে। তারা বাসে ভাংচুর চালাচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
খুলনাবাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে, সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোনা ধর্মঘটে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খুলনা জেলার অভ্যন্তরের লোকাল বাস চলাচল করলেও দূর পাল্লার কোন পরিবহণ ছেড়ে যাচ্ছে না।
মাদারীপুর সংবাদদাতা : ঢাকায় পরিবহণ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে এনে শুক্রবার ২য় দিনেও দুরপাল্লার বাসের সাথে অভ্যন্তরীণ সকল প্রকার রুটে বাস ট্রাক, পিকআপসহ অন্যান্য সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখে মাদারীপুর-শরিয়তপুর সড়কের নতুন, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় আগুন জ¦ালিয়ে প্রতিবাদ করছে মাদারীপুরের শ্রমিকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। মহা সড়ক দিয়ে ইজিবাইকও চলাচল করতে দিচ্ছে না শ্রমিকরা।
পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের দাবি, ঢাকায় বিভিন্ন পরিবহণ ভাংচুর করছে শিক্ষার্থীরা। এতে শ্রমিক ও মালিকদের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এই কারণে মাদারীপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল ধরণে দূরপাল্লার পরিবহণ একদিন বন্ধ রাখা হয় এরপর শুক্রবার সকাল থেকে দূরপাল্লার পরিবহণসহ অভ্যন্তরীন রুটে সকল প্রকার পরিবহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়ও এই ঘটনায় নৌপরিবহণ মন্ত্রী ও শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খানের সম্পূক্ত না থাকা সত্বেও তার পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এরই প্রতিবাদে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরিবহণ বন্ধ থাকারও হুমকি দেন মালিক-শ্রমিকরা। ২য় দিনেও কোন ঘোষণা ছাড়া দূরপাল্লাসহ সকল প্রকার পরিবহণ বন্ধ রাখায় দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।
মাদারীপুর সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ফাইজুল শরীফ বলেন, ঢাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের নামে রাস্তা অবরোধ করে গাড়ি ভাংচুর করছে। এতে গাড়ীর মালিককরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শ্রমিকরা আহত হচ্ছে। এই আতঙ্কের কারনেই আমরা গাড়ী চলাচল বন্ধ রাখছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা আবার সকল রুটে গাড়ী চালানো শুরু করবো।
এদিকে শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষার্থী ও বাস শ্রমিকদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এক আলোচনা সভার অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় জেলার বাস মালিক - শ্রমিক নেতাকর্মী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেয়।
সভায় মালিক ও শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ঢাকায় পরিবহণ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেই চলেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা আন্দোলনের নামে চালকদের হয়রানি করছে। পুলিশ, সচিব এমনকি মন্ত্রীকেও তারা হেনাস্তা করছে যা আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য। এসব বন্ধ না হলে আমরা সড়ক পথে কোন যাত্রীবাহী বাস চলাচল করবে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ, বাংলাদেশ শ্রমিক ইউনিয়ন জেলা সাধারন সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, বাস মালিক সমিতি সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ শ্রমিক ও বাস মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বেনাপোল সংবাদদাতা : নিরাপত্তার দাবিতে বেনাপোল থেকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার সকল পরিবহণ বন্ধ করে দিয়েছে মালিক শ্রমিক সংগঠন।ফলে ভারত থেকে আসা শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।
শুক্রবার সকাল থেকে সকল রুটের বাস বন্ধ রয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সীমান্ত এলাকার পরিবহণ কাউন্টারে সময় কাটাচ্ছেন এসব যাত্রী। স্থানীয় লোকজন টিকিট ফেরত দিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
জানা গেছে, ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রধান সড়কে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যানবাহন থামিয়ে হয়রানি ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে মালিকরা বাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া শ্রমিকরাও জীবনের নিরাপত্তার কথা জানিয়ে বাস চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে হঠাৎ বেনাপোল থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় আটকা পড়েছেন ভারত থেকে আসা কয়েকশ যাত্রী। গন্তব্যে ফিরতে না পেরে বিভিন্ন বাস কাউন্টারে তারা অপেক্ষা করছেন। পরিবহণ কর্তৃপক্ষ বলছে, সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাস ছাড়তে পারবেন না। এতে তাদের কিছু করার নেই।ছোট ছোট যানবাহন চললেও সেগুলোতে কোনো নিরাপত্তা নেই।
ঈগল পরিবহনের বেনাপোল ম্যানেজার এম আর রহমান রাশু বলেন, সড়কে নিরাপত্তার কারণে পরিবহণ না ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছেন মালিকপক্ষ। শ্রমিকরাও এ অবস্থার মধ্যে গাড়ি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আমাদের যানবাহন ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কেউ রাস্তায় গাড়ি বের করবে না এমনটাই নির্দেশ মালিক পক্ষের। বেনাপোল পরিবহণ শ্রমিক নেতা মনির হোসেন জানান, নিরাপত্তার কারণে কোনো শ্রমিক বাস চালাতে রাজি হচ্ছেন না। মালিকরাও এ ব্যাপারে সুষ্ঠু সিন্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সড়কে বাস নামাতে চাচ্ছেন না। সব কিছু মিলিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে মালিক-শ্রমিকরা।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবানে পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে কুষ্টিয়ার চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। শুক্রবার সকাল থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা, খুলনা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে গেলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে তা আটকে পড়ার কারণে সকাল ৯টার পর থেকে জেলার সর্বত্র চলছে পরিবহণ ধর্মঘট।
জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এস এম রেজাউল ইসলাম বাবলু জানান, সকালে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়, কিন্তু পরক্ষণে এসব যাত্রীবাহী বাস বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে। ফলে সেসব বাস কুষ্টিয়ায় ফিরে আসে। তাছাড়া ঢাকার মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবানে পরিবহণ ধর্মঘটের আহবান করায় আমরা জেলার সর্বত্র যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছি।
এদিকে আকস্মিক পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে বাসস্ট্যান্ডে এসে অনেক যাত্রীকে বিড়ম্বনা ও কষ্টের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অনেকে বড়িতে ফিরে গেলেও অনেককে আবার ট্রেনের জন্য কুষ্টিয়া এবং পোড়াদহ স্টেশনের দিকে ঝুঁকতে দেখা গেছে।
এদিকে পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক পরিবহণ ধর্মঘটের ফলে সকাল থেকে পোড়াদহের উপর দিয়ে চলাচলকারী সকল মেইল ট্রেন ও আন্তঃনগর ট্রেনে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীরা আসন না পেয়েও কষ্ট জেনেও ট্রেনের উপর নির্ভর করে গন্তব্যের দিকে ছুটছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ