ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকারের নির্দেশেই গণপরিবহন বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের মন্ত্রীদের নির্দেশে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলন। রিজভী বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিক দাবিগুলোকে অগ্রাহ্য করার জন্যই  মন্ত্রীদের নির্দেশেই গণপরিবন বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন নিরাপত্তার কারণে পরিবহন মালিকরা বাস রাস্তায় নামাচ্ছে না।
রিজভী বলেন, দেশবাসী দেখেছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা  গাড়ি চলতে কোথাও বাধার সৃষ্টি করেনি। বরং তারা সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চলতে সহায়তা করেছে, গাড়ি  ও তার চালকদের লাইসেন্স আছে কিনা তা চেক করেছে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম মন্ত্রীর গাড়ির চালকের লাইসেন্স নেই, এমপির গাড়ির কাগজপত্র নেই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ির কাগজপত্র ও তাদের চালকদের লাইসেন্স নেই। এটা জাতির জন্য কত বড় লজ্জার। এই অবৈধ সরকারের টনক নড়েনি।
রিজভী বলেন, বৃহস্পতিবার মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ করে সশস্ত্র নিষ্ঠুর হামলা চালায় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। হামলায় বেশ কিছু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কোমলমতি এই শিক্ষার্থীদের ওপর এই হিংস্র হামলা নৃশংস দস্যুতার নামান্তর মাত্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নাশকতার আশঙ্কা করে নানা কথা বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই শুরু হয়ে গেল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আক্রমণ। গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাঠি হাতে কিছু যুবক ও মধ্য বয়সী লোক গাড়ি চেক করছে এবং হামলা ও ভাংচুর করেছে তারা। এসমস্ত ঘটনায় সুষ্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্যাবোটাজের বক্তব্য মূলত সরকারী নাশকতারই ইঙ্গিতবাহী। অতীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যে নাশকতাগুলো তারা করেছেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সরকার কিভাবে ডাইভার্ট করেছে, কিভাবে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে তা কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও ভুলে যায়নি। আপনারা দেখেছেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত পরশু দিনও বলেছেন-শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। তারপরও শিক্ষার্থীরা মাঠে কেন, কারণ এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও এই সরকারকে বিশ্বাস করে না।
রিজভী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য স্কুল-কলেজ পড়া এই সকল কিশোর-কিশোরীদের আমরা অভিনন্দন জানাই। শিক্ষার্থীরা অপশাসন, দুঃশাসন ও অব্যবস্থাপনার অভিঘাত অভূতপূর্ব আন্দোলনে তুলে ধরতে পেরেছে। গাড়ির  বৈধ ডকুমেন্টস, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ইন্সুরেন্সের মতো অতি সাধারণ বিষয়গুলোও সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রাজপথে ট্রাফিক অব্যবস্থা, শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে যে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম ছাড়া আর কিছু লাগে না, তা এই শিশু-কিশোর’রা মাত্র দু’দিন কাজ করে তা প্রমান করে দিয়েছে। এসব বালক-বালিকা’রা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অবৈধ সরকার কোন কাজই করতে পারে না। আবার একই সঙ্গে আরও দেখিয়ে দিয়েছে-সুশাসন ও গণতন্ত্র কায়েম করা গেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকেও ইতিবাচক পথে পরিচালনা করা যাবে। জনমন থেকে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন তারা পূণঃপ্রবর্তন করেছে। পরিবর্তনের অসীম আশা জাগিয়েছে দেশবাসীর মনে, এটা অনেক বড় কাজ, সে দায়িত্ব এই নিষ্পাপ শিশু-কিশোর’রাই সম্পন্ন করেছে।
রিজভী বলেন, তিন সিটি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অনাচার, ভোট জালিয়াতি ও ভোট সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিএনপি’র উদ্যোগে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে ঝালকাঠি জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি টিপু সুলতানকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি এই গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে টিপু সুলতানের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ