ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোটা আন্দোলনে প্রতারণার কারণে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বাস করছে না -ব্যারিস্টার মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, কোটা আন্দোলন নিয়ে সরকারের প্রতারণার কারণে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখন আর বিশ্বাস করে না। বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় রাজধানীসহ সারাদেশে যে আন্দোলন চলছে এটি দেশের সাধারণ মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সব মহলের অবিশ্বাসে সরকারের বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণ ঘটবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মওদুদ।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশের লেবার পার্টি আয়োজিত ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, শিক্ষার্থীরা চোখে আঙুল দিয়ে এ সরকারের ব্যর্থতা দেখিয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে নজিরবিহীন আন্দোলন গড়ে তুলেছে। তাদের আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের প্রতারণামূলক আচরণে দেশের মানুষ মর্মাহত। একদিকে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে বলছেন আর অন্যদিকে তাদের রাতের বেলায় আক্রমণ করছে। দেশের মানুষের মধ্যে বিস্ফোরণ হবে। কারণ, দেশে কোনও আইনের শাসন নেই। আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যত ঘটবে তখন সরকার পালানোর পথ পাবে না।
সরকার বিএনপির সঙ্গে টেলিফোন নয় সংলাপ করতে বাধ্য হবে মন্তব্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, এই সরকার গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকারে বিশ্বাস করে না। মুখে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কথা বলে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। দুর্নীতি আর দুঃশাসনের রোল মডেল হিসেবে দেশকে দাঁড় করেছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনকে র‌্যাব, পুলিশ এবং বিচার বিভাগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যার কারণে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এগুলো মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
মওদুদ বলেন, সবকিছু দলীয়করণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই সরকার নিজেদের পছন্দ মতো ভিসি বসিয়েছে। এই সরকারকে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তারা প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এটাই প্রমাণ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় এই সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। নির্লজ্জ মিথ্যাচার, পতারণার সরকারের আচরণে দেশের মানুষ মর্মাহত।
মওদুদ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বলেছে যে, আমরা আওয়ামী লীগের ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখতে চাই না, আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে চাই। নিরাপদ বাংলাদেশ মানে হলো আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই। একইভাবে সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, অপশাসন নিয়ে ক্ষোভ মানুষের মধ্যে আছে। এই ক্ষোভেরও বিস্ফোরণ ঘটবে। আর একটু অপেক্ষা করতে হবে। এটা ঘটতে বাধ্য।
তিনি বলেন, শিক্ষর্থীদের আন্দোলন একটি অংশ মাত্র। ছাত্রদের এক অংশের বিস্ফোরণ সরকার কন্ট্রোল করতে পারছে না। দেশের মানুষের ক্ষোভ কীভাবে কন্ট্রোল করবেন ? দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে কিছু করার জন্য। তাদের মনে ক্ষোভ দেশে গণতন্ত্র নেই, হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে।
আন্দোলনরত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সাধুবাদ জানিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, আজকে আমার গাড়িও থামিয়েছে একজন ইয়ং ছেলে; বয়স বড় জোর ১৭-১৮ বছর বয়স হবে। গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভারকে বলেছে, আপনার গাড়ির কাগজ দেখান। তারপর আমার ড্রাইভার কাপড় থেকে কাগজ দেখাল। বললো, আপনার কাগজ ঠিক আছে, আপনি যান। তবে কাগজ ওখানে রাখবেন না। ব্ল-বুকের ভেতরে রাখবেন।এটা দেখে যেমন একদিকে আমি আশ্চর্য হয়ে গেছি, অন্যদিকে অনুপ্রাণিত হয়েছি, গর্বিত হয়েছি।
 সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এটা তো পুলিশের কাজ। তাদেরকে এই কাজ কেন করতে হচ্ছে? এটাই প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
মিরপুরে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে মওদুদ বলেন, মিরপুরে যুবলীগ-ছাত্রলীগকে নামিয়ে দিয়েছেন রাস্তায়। ঠিক আগের মতো। কোটা আন্দোলনের সময়ে তাদের সমর্থন দিয়ে পরে যখন ব্যাক ট্র্যাক করেছেন। আজকে আবার একই কাজ করছেন।
মওদুদ আহমদ আরও বলেন, ‘দিনে দিনে দেশ আরও দুর্যোগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে ৫০ হাজার মামলা দিয়েছে এবং ১২ লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে সরকার। এই সরকার গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে না। মৌলিক অধিকার বিশ্বাস করে না। এজন্য তারা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। এ ব্যাপারে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা  দিচ্ছে। গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটানো হচ্ছে, কী করে বিরোধী দলকে নিষ্পেষিত করা যায়।’
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কে র‌্যাডিসন হোটেলের বিপরীতে কালশী থেকে বিমানবন্দরগামী জাবালে নূর পরিবহনের একাধিক বাস প্রতিযোগিতা করে যাত্রী তুলতে গিয়ে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজীব নিহত হন। এছাড়া আরও অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার জেরে নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তাসহ শিক্ষার্থীদের ‘হত্যার’ বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।
সংগঠনের চেয়ারম্যান মেস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে অর্থ সম্পাদক আল আমীনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, যুবদলের সাবেক নেতা এলবার্ট পি কস্টা, লেবার পার্টির নেতা আমিনুল ইসলাম রাজ, এস এম ইউসুফ আলী, আমিনুল ইসলাম আমিন, আনোয়ার হোসাইন, মো. ওয়াসীম, হুমায়ুন কবীর, মজিবুর রহমান, ছাত্র মিশনের সালমা খান বাদশা ও সৈয়দ মো. মিলন প্রমুখ ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ