ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অঘোষিত পরিবহণ ধর্মঘটের নেপথ্যে নৌমন্ত্রীর ফেডারেশন

স্টাফ রিপোর্টার : নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ষষ্ঠ দিন শুক্রবার সারাদেশে অঘোষিত যানবাহন চলাচল বন্ধ করার নেপথ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা। দেশকে অচল করতে এবং সরকারের উন্নয়ন কাজকে বাধা দিতে এই সংগঠনটি এর আগেও এমনভাবে অঘোষিত পরিবহণ ধর্মঘট ডেকেছিল। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এই ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী এ তথ্য জানান।
শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী বলেন, ‘অতীতে যারা শ্রম আইন পরিপন্থী যখন-তখন ধর্মঘট ডেকে সরকারকে জিম্মি করতে চেয়েছিল সেই একই চক্র শুক্রবার পরিবহন খাতে অঘোষিত ধর্মঘট ডেকেছে। অঘোষিত এই ধর্মঘট সম্পর্কে বিভিন্ন জেলার পরিবহণ নেতারা বলছে যে তাদেরকে ওপর থেকে ধর্মঘট ডাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা বলছে যে উপরের নির্দেশের কারণেই তারা গাড়ি বন্ধ রেখেছে। অথচ এই নেতারা কিন্তু তাদের দাবি সম্পর্কেও জানে না। অথচ তারা অঘোষিত ধর্মঘট পালন করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই চক্রটি এর আগে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ একাধিক সময়ে অঘোষিতভাবে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারকে অচল করা এবং সরকারের উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়া।’
পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে করণীয় সম্পর্কে মো. ইনসুর আলী বলেন, ‘পরিবহন শিল্পের নৈরাজ্য এবং অরাজকতা দীর্ঘ দিনের। মালিক, শ্রমিক এবং সরকার সবাই যদি মিলে একসঙ্গে বসে আলোচনা করে তবে এই অরাজকতা বন্ধ হবে। ছোট-বড় সবগুলো সংগঠন নিয়ে একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সমাধান এবং সড়ক খাতের শৃঙ্খলা ফিরবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবহন চালকরা মালিকদের থেকে প্রতিদিন চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় গাড়ি চালায়। প্রতিদিনের চুক্তির অর্থ পরিশোধের জন্য চালকরা প্রচুর চাপে থাকে। তার ওপর টার্মিনালে চাদা, পথে পথে চাদা এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকেও চাদা দিতে হয়। এজন্য চালকরা কোনো উপায় না দেখে বেপোরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে থাকে। এভাবেই তারা দুর্ঘটনার শিকার হয়। অথচ পরিবহন শ্রমিকদের জীবিকা যদি অন্য কর্মজীবিদের মতো বেতন ভিত্তিক করা যায় তবে এই দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি পরিবহন খাতেও শৃঙ্খলা আনা সম্ভব।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রথম দিনের আন্দোলন সঠিক ছিল। পরবর্তী সময়ে অনুপ্রবেশকারীরা এই আন্দোলনে ঢুকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আবার বিএনপি এই আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতিতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
এর পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের ডাকা জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৯ জুলাই এয়ারপোর্ট সড়কে অনাকাঙিক্ষত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং ওই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, দশিক্ষার্থীদের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনের মধ্যে কুচক্রি মহল প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাংচুর, অগ্নি-সংযোগসহ দেশের সাধারণ মানুষের জনমনে আতঙ্কসহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। এই সুযোগে অতীতে যেভাবে সরকারকে অবগত না করে হঠাৎ করে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে ওই একই অশুভ শক্তি বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ পরিপন্থী, অনৈতিকভাবে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে দেশ্যব্যাপি অঘোষিতভাবে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে জনজীবনে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে পরিবহন সেক্টরের অনিয়মের জন্য শ্রমিক ফেডারেশনকে দায়ী করেছেন ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের নিয়মিত বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এই পরিবহণ সেক্টরে যারা কাজ করে, যারা শ্রমিক নেতৃত্ব দেয় তারা দলমত নির্বিশেষে এক সঙ্গে কাজ করে। আপনারা দেখবেন যারা শ্রমিকদের নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের সরকারি দল, বিরোধী দল, ডান-বাম কিছু নাই। তারা পরিবহন সেক্টরকে এমন একটা অবস্থানে নিয়ে গেছে। নিজেদের স্বার্থে সবাই এক হয়ে যায়। এটার একটা প্রতিবিধান করা প্রয়োজন। আগামী ক্যাবিনেট মিটিংয়ে এটা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই সমস্ত খুনিদের সর্বোচ্চ বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।
ঢাকা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, তবে সড়কে নিরাপত্তা নিয়ে তারা চিন্তিত। সড়কে নিরাপত্তা ফিরে না আসা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মহাখালী বাস টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে খন্দকার এনায়েত উল্লাাহ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ কারণেই রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা যখন সড়কে নিরাপত্তাবোধ করবো তখন থেকে গাড়ি নামাবো। এটা আমাদের পরিবহন মালিক সমিতি বা শ্রমিক সংগঠনগুলোর আনুষ্ঠানিক কোনো ধর্মঘট না। আমাদের আনুষ্ঠানিক কোনও কর্মসূচিও নয়। এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমরা আইন মেনে চলার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আইন অনুযায়ী দোষীদের যেই শাস্তি হোক আমরা মেনে নেব। নতুন আইনকে আমরা স্বাগত জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ