ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এমন কিছু হবে যা কেউ ভাবেনি আগে

স্টাফ রিপোর্টার : অপরিকল্পিত ও বাসের অযোগ্য হিসেবে খ্যাত রাজধানীর চিত্রপট পুরোপুরি পাল্টে গেছে শিক্ষার্থীদের কয়েকদিনের আন্দোলনের কারণে। প্রবীণ রাজধানীবাসীদের মতে ১৯৯০ এর দশকে ফিরে গেছে ঢাকা। যেখানে যানজট নেই। রাস্তায় আছে পায়ে হাঁটা মানুষ, রিকশা, কয়েকটা গণপরিবহন আর প্রাইভেট কার বা মোটরসাইকেল। সবচেয়ে বড় বিষয়, নিয়ম-কানুন মেনেই রাস্তায় চলছে সবাই।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে সকাল থেকে দেখা যায়নি কোনো গণপরিবহন। তবে প্রতিনিয়ত বিআরটিসির দ্বিতল আর এসি বাস চলছে। গন্তব্যে যেতে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি মোড়ে রয়েছে রিকশা।
এছাড়া রাস্তায় নিয়ম মেনে চলতে দেখা গেছে সব মোটরযান, রিকশাকে। এমনকি ফুটপাত ও ফুট ওভারব্রিজ ছেড়ে রাজপথেও পা রাখছেন না পথচারীরা। এছাড়া মোটরযানের বৈধ কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স চেক করতে ব্যস্ত রয়েছে পুলিশ সদস্যরা। কোথাও কলেজ শিক্ষার্থীদের কোনো অবস্থান লক্ষ্য করা যায়নি।
যানজটহীন রাজধানীর এ পরিস্থিতিতে রাস্তায় চলাচল অনেকটা ব্যয়বহুল ও বাস পেতে কিছুটা ভোগান্তি হলেও বিরূপ মন্তব্য নেই কারও।
শাহবাগ এলাকায় জুমার নামায পড়ে ঘরে ফিরছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আহনাফ খান। তিনি বলেন, ঢাকায় এখন শান্তিতে হাঁটতে পারছি। শব্দদূষণ নেই, ধুলাবালি কম। আমাদের তরুণ বয়সে অর্থাৎ ১৯৮০ বা ৯০ সালের দিকে ঢাকাকে যে রকম দেখেছিলাম এখন সে ফ্লেভার পাচ্ছি। রিকশা ঢাকার একটি ঐতিহ্য। আর ঢাকার মানুষদের এখন ডায়াবেটিস বা খুব প্রয়োজন না হলে হাঁটে না বা জায়গাও নেই। এখন হাঁটছে। এতে শরীর ভালো থাকবে। মোটরযানের বৈধ কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স চেক করতে ব্যস্ত রয়েছে পুলিশ সদস্যরা। আবার ভিন্ন সান্ত¡নার কথা বললেন বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত সাকেরুজ্জামান। তিনি বলেন, ঢাকার পরিবহনগুলোর অঘোষিত এ ধর্মঘট বেশিদিন থাকবে না। ছাত্ররা যেভাবে ঘরে ফিরে গেছে, সেভাবেই তারাও বাস নিয়ে আবার লাইসেন্স ছাড়াই রাস্তায় ফিরে আসবে। এখন বাকি দায়িত্ব সরকারের। ছেলেরা তাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে। এছাড়া তাদের উপার্জন হবে কিভাবে? তবে শিক্ষার্থীদের উপর জেদ করে তারা এখন বাস বন্ধ রেখেছে। আর আমরাও তা জেনেই কয়েকদিনের শান্তির চলাচল উপভোগ করছি। যদিও রিকশায় বাড়তি ভাড়া, বাস নেই। তবুও শান্তি আছে।
এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স চেক করতে তৎপর রয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। নিয়মতান্ত্রিক কাগজপত্র না থাকলে মামলা বা শাস্তি ছাড়া কেউ যাচ্ছে না।
মহাখালী রেলগেট এলাকায় লাইসেন্স ও কাগজপত্র চেক করায় মামলা খেয়েছেন শফিকুল নামে বাইক মেকার। তিনি বলেন, আমি এ বাইকটা সার্ভিসিংয়ের জন্য আমাদেরই অন্য একটি গ্যারেজে নিয়ে যাচ্ছিলাম। পথে পুলিশ নাছোড়বান্দা হয়ে মামলা দিলো। আফসোস নেই। শুধু এ পরিস্থিতি যেন চলমান থাকে সেটাই আশা করি।
রাজধানীতে গণপরিবহন না থাকায় যাত্রী পরিবহনের সুযোগটা রিকশাচালকরা ছাড়াও নিয়েছে রাইড ভিত্তিক লেগুনা ও মোটরযান চালকরা। সাইন্সল্যাব এলাকায় পাঠাও রাইডার মংসানু মারমা বলেন, আমরা এ কয়দিনে অনেক রিকুয়েস্ট পাচ্ছি। অনেকে আবার অ্যাপে রিকুয়েস্ট ছাড়াই যেতে চাচ্ছে। মোটকথা আমাদের উপার্জন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তবে এ কয়দিনের মতো আজ এতো বেশি লাইসেন্স দেখাতে হচ্ছে না। কারণ আজ ছাত্ররা রাস্তায় নেই।
তবে অনুপযুক্ত ড্রাইভার, কাগজপত্র ও লাইসেন্সবিহীন লেগুনা চলাচলের বিষয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রীই। এ কারণেই রিকশা ও রাইড ভিত্তিক যাত্রী পরিবহনের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে মতামত প্রকাশ করেছে অনেকেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ