ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে বাসচাপায় নিহত ১ ॥ আগুন দিল বিক্ষুব্ধ জনতা

গতকাল শুক্রবার মগবাজারে বাস চাপায় হাসপাতাল কর্মচারি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি পুড়িয়ে দেয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই রাজধানী ঢাকার মগবাজারে বাসের চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী এক যুবক নিহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং মালিকদের গাড়ি না নামানোর মধ্যে গতকাল শুক্রবার ঢাকার সড়কে গণপরিবহণ চলাচল খুব কম। এর মধ্যে দুপুরে মগবাজারের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিহতের নাম সাইফুল ইসলাম (৩০) বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি মগবাজারের ঢাকা কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স ছিলেন।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মারুফ হোসেন সরদার বলেন, “গোল্ডেন প্লাস নামে একটি বাস একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে ওই যুবক আহত হন। তখন আশপাশের জনতা এসে চালককে মারধর করে এবং বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া বলেন, সাইফুলকে হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাইফুলের খালা রোখসানা বেগম হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, সাইফুলের বাড়ি পিরোজপুরে, ঢাকায় থাকতেন উত্তর গোড়ানে। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা-ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় ওই ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসের চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এবং বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিহত ব্যক্তি সাইফুল ইসলাম ওরফে রানা মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে চাকরি করেন। তার বয়স আনুমানিক ২৩ বছর। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। আটক বাস চালকের নাম ইমরান সর্দার।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা-ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহণের একটি বাস মগবাজার ওয়ারলেস এলাকায় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেয়। এতে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এ সময় একটি রিকশাকেও ধাক্কা দেয় বাসটি। স্থানীয় লোকজন ওই মোটরসাইকেল আরোহীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া রিকশার চালক ও দুই যাত্রী সামান্য আহত হন। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি আটকে এর চালককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে বাসটির আগুন নেভায়। পরে পুলিশ রেকার দিয়ে টেনে জ্বলন্ত বাসটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রমনা থানার উপপরিদর্শক মহিবুল্লাহ জানান, ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হয়ে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। লাশ ঢাকা মেডিকেলে রয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুন নেভায়। জুমার নামাযের পর ওয়ারলেস গেট সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোটরসাইকেল আরোহী সাইফুল ইসলাম রানা বরিশাল বানাড়িপাড়া উপজেলার তেঁতলা গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে। থাকতেন খিলগাঁওয়ের গোড়ানের হাড়ভাঙা এলাকায়।
এসআই মহিবুল্লাহ জানান, এসপি গোল্ডেন লাইন নামে একটি পরিবহনের ওই বাস মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার দিয়ে নেমে মালিবাগের দিকে যাচ্ছিল। তখন সেটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে আরোহী রানা ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন। স্থানীয় লোকজন কেবল জুমার নামায শেষ করেছিলেন। তখনই তারা চালককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। আর আহত রানাকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে নিকটস্থ সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু বেলা সোয়া ২টার দিকে চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের ডিউটি অপারেটর জীবন মিয়া জানান, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বাসে অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে দু’টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে।
রমনা থানার আরেক এসআই মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া করে ইমরান সরদার (২৫) নামে ওই বাসচালককে ধরে মারধর করে, এরপর পু্লেিশ সোপর্দ করে। তার বাড়ি পিরোজপুরের কুমুড়িয়ায়। গাড়ি নিয়ে ওই চালক কল্যাণপুর থেকে আরামবাগ যাচ্ছিলেন। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কবলে পড়া মোটরসাইকেলটি পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ ঢামেকে রয়েছে।
খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে ছুটে এসেছেন রানার স্বজনরা। তার খালা রোকসানা বেগম জানান, রানা মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে চাকরিরত ছিলেন। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড় ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ