ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভাইয়ের রক্ত হাত থেকে শুকানোর আগেই ঘাতকের ফাঁসি চাই

স্টাফ রিপোর্টার : আমার ভাইয়ার রক্ত আমার হাতে এখনো লেগে আছে, রক্ত শুকানোর আগেই ঘাতক বাস চালক ও তার মালিকের ফাঁসি চাই। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাযের পর মগবাজারের ওয়ারলেস গেট সংলগ্ন সড়কে বেপরোয়া একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাইফুল ইসলাম রানা (২৩) নিহত হন। তিনি বরিশাল বানাড়িপাড়া উপজেলার তেঁতলা গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে। খিলগাঁওয়ের গোড়ানের হাড়ভাঙা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে তিনি বসবাস করছিলেন।
ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে বাবা-মার সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে আসে নিহত সাইফুল ইসলাম রানার ছোট দুই বোন। হাসপাতালে ভাইয়ের মরদেহ দেখে চিৎকার শুরু করে নার্সিংয়ে পড়ুয়া তানজিম আক্তার সাথী ও নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া জান্নাত আক্তার জুথি।
সকালে তরতাজা ভাইয়ের দুপুরে হাসপাতালে মরদেহ দেখে বারবার বিলাপ করছে দুই বোন। সাথী চিৎকার করে বলতে থাকে, আমার ভাইয়ের রক্ত আমার হাতে লেগে আছে, রক্ত শুকানোর আগেই আমি বাস চালক ও তার (বাস) মালিকের ফাঁসি চাই। আমাদের একমাত্র ভাই, আদরের ভাইয়া এভাবে চলে যাবে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না, আমি ঘাতকদের ফাঁসি চাই। এই বলে আবার দুই বোন একসঙ্গে বিলাপ করতে করতে বলে, আমার ভাইয়া, ভাইয়া রে, ভাইয়া.. তুই ফিরে আয়, আমাদের বুকের ভেতরটা চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সন্তান হারিয়ে বাবা শাজাহান আলী ও মা পারভীন বেগম মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। তারা বারবার বলছেন, এটা কি হলো, এটা কিভাবে হলো আল্লাহ। আমাদের একমাত্র ছেলেকে ফিরিয়ে দাও।
নিহত রানার বাবা এক পর্যায়ে তার আত্মীয় স্বজনদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, মামলা করলে মোরে টাহা (টাকা) দিবো, মোর টাহা দরকার নাই, মোর পোলাহারে মই চাই।
চাচা দেলোয়ার হোসেন জানান, ছেলেকে নিয়ে কয়েকদিন আগে জুরাইনে আমাদের বাসায় বেড়াতে এসেছিলো। ভাই (শাজাহান) আমাকে বলেছিল রানা বড় হয়েছে, বিয়ের উপযুক্ত হয়েছে, তার জন্য একটা মেয়ে দেখো, বিয়ে দিবো। এখন সব এলোমেলো হয়ে গেলো। আমার ভাইকে বাঁচানো যাবে না, ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ছিলে রানা।
রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুল্লাহ জানান, এসপি গোল্ডেন লাইন নামে একটি পরিবহনের ওই বাস মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার দিয়ে নেমে মালিবাগের দিকে যাচ্ছিল। তখন সেটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে আরোহী রানা ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন। স্থানীয় লোকজন কেবল জুমার নামায শেষ করেছিলেন। তখনই তারা চালককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। আর আহত রানাকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে নিকটস্থ সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু বেলা সোয়া ২টার দিকে চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। রানার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ