ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া ২৯ কোটি টাকা মানবেতর জীবন-যাপন

খুলনা অফিস : অর্থ সংকটে পড়েছে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল। ফলে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ বকেয়া পড়েছে প্রায় ২৯ কোটি টাকা। এসব পাটকলে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। বকেয়া মজুরি না পেয়ে আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এসব শ্রমিক ও তাদের পরিবার। এদিকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও মজুরি পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে দু’দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শ্রমিক নেতারা।
মিল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মজুরি ও বেতন বাবদ বকেয়া পড়েছে ২৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগরীর খালিশপুরের ক্রিসেন্ট জুট মিলের ৫ সপ্তাহের মজুরি বাবদ ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্লাটিনাম জুট মিলে ৬ সপ্তাহের মজুরি বাবদ ৬ কোটি ৬০ লাখ, খালিশপুর জুট মিলে ৪ সপ্তাহের মজুরি বাবদ ২ কোটি ২০ লাখ, দৌলতপুর জুট মিলে ২ সপ্তাহের মজুরি বাবদ ২৯ লাখ, দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলে ৫ সপ্তাহের মজুরি বাবদ ৪ কোটি ৩০ লাখ, আটরা-গিলাতলা এলাকার ইস্টার্ণ জুট মিলে ৬ সপ্তাহের মজুরি বাবদ ২ কোটি ৪০ লাখ, আলীম জুট মিলে ৫ সপ্তাহের মজুরি বাবদ ১ কোটি ৩০ লাখ, যশোর অভয়নগরের জেজেআই জুট মিলে ৬ সপ্তাহের মজুরি বাবদ ৩ কোটি ৪৮ লাখ এবং কার্পেটিং জুট মিলে ৫ সপ্তাহের মজুরি বাবদ ৮০ লাখ টাকা বকেয়া পড়েছে। এসব মিলে মজুরি বকেয়া থাকায় শ্রমিকরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছে শ্রমিক পরিবারগুলো।
এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন, জাতীয়করণ বিল-২০১৮ বাতিল, পাট ক্রয়ের অর্থ বরাদ্দসহ বিভিন্ন দাবিতে দু’দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের নেতারা। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ শনিবার খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯ পাটকলে সকাল ১০ টায় গেট সভা ও ৬ আগস্ট বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন সকল রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সিবিএ-নন সিবএ’র নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে বেলা ১১টায় বিজেএমসির কেন্দ্রীয় সিবিএ কার্যালয়ে বৈঠক করবেন শ্রমিক নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিষদের কার্যকরী আহবায়ক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা মিলকে বাঁচাতে চায়, নিজেরাও বাঁচতে চায়। শ্রমিকরা কাজ করবে মজুরি নেবে, এটাই সহজ হিসাব। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন মজুরি না পেয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে পারছে না। তিনি ঈদের পূর্বে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধসহ সকল দাবি মেনে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিজেএমসির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শেখ রহমত উল্লাহ বলেন, অর্থ সংকটের কারণে শ্রমিকদের মজুরি প্রদানে হিমসিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। দ্রুত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে তিনি আশাবাদী।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্রিসেন্ট জুট মিলস শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভা কক্ষে পরিষদের খুলনা-যশোর আঞ্চলিক কমিটি অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহবায়ক সরদার মোতাহার উদ্দিন। কার্যকরী আহবায়ক মো. সোহরাব হোসেনের পরিচালনায় সভায় বক্তৃতা করেন এস এম জাকির হোসেন, আ. মান্নান, হারুন অর রশিদ মল্লিক, মো. আলাউদ্দিন, মো. সাইফুল ইসলাম লিটু, আ. হামিদ সরদার, মো. বেল্লাল মল্লিক, মো. পান্নু মিয়া, মিজানুর রহমান মানিক, গাজী মাসুম, মো. দ্বীন ইসলাম, আবু জাফর আলী, মো. আক্তার হোসেন, মো. হেমায়েত উদ্দিন, মো. কামরুজ্জামান, মো. সেলিম শিকদার, সরদার আলী আহমেদ ও মো. মনির হোসেন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ