ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জামায়াত-বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়ে সরকার আন্দোলন আড়াল করার চেষ্টা করছে -নোমান

স্টাফ রিপোর্টার : সরকার জামায়াত ও বিএনপির নামে দোষ চাপিয়ে শিশুকিশোরদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনকে আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাল আল নোমান। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশও চান নোমান। তিনি বলেন, সরকার আন্দোলনকে আড়াল করার যে চেষ্টা করছে এতে সরকারের কোনো লাভ হবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ তাদের শক্তির পরিমাণ দিন দিন ক্রমাগতভাবে কমে আসছে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নোমান বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যে আবেগে আপ্লুত হয়ে রাস্তায় নেমেছে তা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশগ্রহণের জন্য নয়, তাদের সহপাঠী বিয়োগে কষ্টাহত হয়ে তারা রাস্তায় নেমেছে। অথচ বর্তমান সরকার তাদের এই দাবিকে সমস্যা হিসেবে নিয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যেটা কারো কাম্য নয়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমরা বলতে চাই, সমস্ত অর্ডিন্যান্স দিয়ে আইন করা হয়, যা পরে সংসদে আইনে পরিণত করা হয়। এখন সরকার ক্যাবিনেটে শিক্ষার্থীদের নয় দফা পাস করবে কেন? সরকার যদি একমত হয়, প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন, এই নয় দফা মেনে নেবেন. তাহলে এটা তো দুই ঘণ্টার মধ্যে অর্ডিন্যান্স জারি করে আইনে প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু সরকারেরতো সেই সদিচ্ছা নাই।
নোমান বলেন, আজকেও নরম সুরে বক্তব্য রেখেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, সময় পার হয়ে যাচ্ছে, তোমরা ঘরে ফিরে যাও। মন্ত্রীর এই বক্তব্যে আমি থ্রেটের গন্ধ পেয়েছি। আমি মনে করি থ্রেট না দিয়ে সরকারের উচিৎ সুন্দরভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সমস্যা অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আজকে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে, আজকে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যে ধরনের আবেগ বিরাজ করছে এটা সামগ্রিক দেশের সমস্যা। বিএনপি ও জামায়াতের কথা বলে আবারো মূল সমস্যাকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সরকারের উপর জনগণ ও শিশুকিশোরদের কোনো আস্থা নাই। যদি আস্থা থাকতো তাদেরকে ঘরে ফেরানো কঠিন কিছু হতো না। আজকে যারা ঘরে পাঠাবে তাদের প্রতি কারো আস্থা নাই।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দুইজন শিক্ষার্থী শুধু নয় প্রতিনিয়ত এমন অপক্রম ঘটছে। এই হত্যা কখনো রাস্তায়, কখনো গুম, খুন, কখনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। এই সমস্যা উত্তরণে সরকারের উচিৎ হবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলে লাইসেন্স দেওয়া।
তিনি বলেন, সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে যাদের রাস্তায় নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষার্থে রাখা হয়েছে, তাদেরকে এবং আমাদেরকে কোমলমতি শিশুরা ট্রাফিক ব্যবস্থা শিখিয়ে দিয়েছে। নোমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে রক্ত ঝরেছে বারবার, আজকে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে এবং শিশুকিশোরদের মাঝে যে আবেগ উৎফলিত হয়েছে তা শুধু শিশুকিশোরদের নয় সকল মানুষের।
বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে। মানুষের ভোট দেওয়ার অবাদ চিন্তা ভাবনার যে একটা সময় তা দেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ নির্বাচনে পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে না। মানুষ ভোটের অধিকার প্রতিষ্টা করতে হলে আমাদের আরেকটি যুদ্ধে যেতে হবে। গণতন্ত্র পূর্ণপ্রতিষ্টায় জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হচ্ছে। আসুন রাস্তায় নামি নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করি।
সংগঠনের সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ